সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) স্পষ্ট ভাষায় এই দাবি করলেন রাজ্যের তরফে সওয়ালকারী সিনিয়র আইনজীবী কপিল সিবাল (Kapil Sibal)।

কপিল সিবাল-মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 15 January 2026 12:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আই-প্যাক (I-PAC) অফিসে তল্লাশির সময়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) সব ডিজিটাল ডিভাইস নিয়ে গিয়েছেন—এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ED) এই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) স্পষ্ট ভাষায় এই দাবি করলেন রাজ্যের তরফে সওয়ালকারী সিনিয়র আইনজীবী কপিল সিবাল (Kapil Sibal)।
শুনানিতে বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র ইডির দাবির দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, “আপনাদের বক্তব্য পরস্পরবিরোধী। যদি সত্যিই নথি সংগ্রহের উদ্দেশ্য থাকত, তা হলে তো কিছু জিনিস বাজেয়াপ্ত হত। কিন্তু এখানে তো কিছুই বাজেয়াপ্ত হয়নি।” জবাবে কপিল সিবাল বলেন, “ছবি তোলা যেত। কিন্তু বাজেয়াপ্ত করার প্রয়োজনই ছিল না।”
পঞ্চনামাতেই প্রমাণ—কিছুই ‘বেআইনি’ হয়নি
কপিল সিবাল আদালতের সামনে ইডির নিজস্ব পঞ্চনামা তুলে ধরে জানান, সেখানে স্পষ্ট লেখা আছে—আই-প্যাক অফিস বা প্রতীক জৈনের ফ্ল্যাটে কোনও অনিয়ম বা অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটেনি। তাঁর বক্তব্য, “এই পঞ্চনামায় ইডির অফিসারদেরই সই রয়েছে। অথচ পিটিশনে উল্টো কথা বলা হয়েছে। পিটিশনের বক্তব্য পঞ্চনামার উল্টো।”
“সব ডিভাইস নয়, মাত্র দু’টি ব্যক্তিগত জিনিস”
ইডির অভিযোগ খণ্ডন করে সিবাল জানান, “পঞ্চনামা অনুযায়ী দুপুর ১২টা ৫ মিনিট পর্যন্ত কোনও বাজেয়াপ্ত হয়নি। প্রতীক জৈনের একটি ল্যাপটপ ও একটি ব্যক্তিগত আইফোন নেওয়া হয়েছে—এর বেশি কিছু নয়।” সিবালের দাবি, ওই ল্যাপটপে নির্বাচন সংক্রান্ত তথ্য থাকতে পারে—এই আশঙ্কাতেই সেটি নেওয়া হয়েছিল। “কোনও বাধা দেওয়া হয়নি, সবকিছু নথিভুক্ত আছে”।
“পূর্বধারণা তৈরির চেষ্টা”
সিবালের অভিযোগ, ইডির মামলার উদ্দেশ্য আদালত ও জনমনে পূর্বধারণা তৈরি করা। তিনি বলেন, “যে অভিযোগ করা হচ্ছে, তা তাদের নিজেদের নথিই সমর্থন করছে না। এ সবই পক্ষপাতদুষ্ট প্রচেষ্টা।”
নির্বাচনকাল ও আই-প্যাক প্রসঙ্গ
শুনানিতে সিবাল জানান, আই-প্যাক পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত ছিল এবং ২০২১ সালে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে একটি আনুষ্ঠানিক চুক্তিও হয়েছিল। এই প্রেক্ষিতে বিচারপতি মিশ্র প্রশ্ন করেন, “পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন কি আই-প্যাক করায়, না নির্বাচন কমিশন?” সিবাল জবাবে বলেন, “আই-প্যাকের কাছে দলের বিপুল তথ্য থাকে। ইডি জানত সেই তথ্য সেখানে রয়েছে—এই কারণেই নির্বাচনের মধ্যে সেখানে যাওয়ার প্রশ্ন উঠছে।”
সব মিলিয়ে, আই-প্যাক তল্লাশি ঘিরে ইডির অভিযোগ বনাম পঞ্চনামার নথিভুক্ত তথ্য—এই দ্বন্দ্বই এখন সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন। আদালতের পর্যবেক্ষণই ঠিক করবে, এই মামলার পরবর্তী গতিপথ কোন দিকে যাবে। মামলার শুনানি এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত চলছে। সুপ্রিম কোর্ট কী চূড়ান্ত নির্দেশ বা পর্যবেক্ষণ জানাল তা নিয়ে পৃথক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।