আই-প্যাক (I PAC) তল্লাশিতে হস্তক্ষেপের অভিযোগে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে করা মামলায় সুপ্রিম কোর্টে তীব্র ভাষায় সওয়াল করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)।

ছবি - দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 15 January 2026 12:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আইপ্যাক (IPAC Kolkata) তল্লাশিতে হস্তক্ষেপের অভিযোগে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) বিরুদ্ধে করা মামলায় সুপ্রিম কোর্টে তীব্র ভাষায় সওয়াল করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। আদালতে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “অনুমতি ছাড়া নথি তুলে নেওয়া হয়েছে। এটা সরাসরি চুরির অপরাধ।”
সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র ও বিচারপতি বিপুল পাঁচোলির বেঞ্চে এদিন বেলা পৌনে বারোটা নাগাদ শুনানি শুরু হয়। সংবিধানের ৩২ নম্বর অনুচ্ছেদের অধীনে এই মামলায় আবেদন করেছে ইডি।
ইডির অভিযোগ, গত সপ্তাহে কয়লা পাচার সংক্রান্ত বেআইনি লেনদেন মামলায় কলকাতায় ইন্ডিয়ান পলিটিকাল অ্যাকশন কমিটি (I PAC)-এর অফিসে তল্লাশি চলাকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) নিজে সেখানে পৌঁছন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার (Rajeev Kumar), কলকাতা পুলিশ কমিশনার মনোজ কুমার ভার্মা (Manoj Kumar Verma) এবং দক্ষিণ কলকাতার ডেপুটি কমিশনার প্রিয়ব্রত রায় (Priyabrata Roy)। ইডির দাবি, তল্লাশিতে গুরুতর বাধা দিতে মুখ্যমন্ত্রীর সহযোগী ছিলেন ডিজি ও কমিশনার।
“ভয়ংকর একটা প্যাটার্ন তৈরি হয়েছে”
শুনানিতে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতে বলেন, “এটা কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। আগেও যখন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা আইন মেনে কাজ করেছে, তখনই মুখ্যমন্ত্রী নিজে তল্লাশির জায়গায় ঢুকে পড়েছেন। এটা খুবই ভয়ংকর একটা প্যাটার্ন।”
সলিসিটর জেনারেল অতীতের চিটফান্ড মামলার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “এই আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও সিবিআই অফিসারদের থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী ধর্নায় বসেছিলেন, যাতে অফিসাররা কাজই করতে না পারেন।”
“নথি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, অফিসারদের মনোবল ভাঙবে”
ইডির আরও অভিযোগ, আই-প্যাক অফিসে এমন কিছু নথি ছিল যা তদন্তের পক্ষে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সলিসিটর জেনারেলের বক্তব্য, “প্রমাণ ছিল যে অপরাধমূলক নথি ওই জায়গায় রয়েছে। স্থানীয় পুলিশকে জানানো হয়েছিল। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী ও শীর্ষ পুলিশ কর্তারা বড় বাহিনী নিয়ে গিয়ে সেই নথি অনুমতি ছাড়াই তুলে নেন। এটা চুরির সমান।” ইডি আরও দাবি করে, তল্লাশির সময় এক ইডি অফিসারের মোবাইল ফোনও সাময়িকভাবে নিয়ে নেওয়া হয়েছিল। সলিসিটর জেনারেলের মতে,“এই ধরনের ঘটনা তদন্তকারী অফিসারদের ভয় দেখাবে। তাঁদের মনোবল ভেঙে যাবে। ভবিষ্যতে কেউ নির্ভয়ে দায়িত্ব পালন করতে পারবে না।”
সাসপেনশনের আর্জি
ইডির পক্ষ থেকে আদালতে আবেদন জানানো হয়, অভিযানে বাধা দেওয়ার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট পুলিশ অফিসারদের সাসপেন্ড করে বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হোক। বিচারপতি মিশ্র জানতে চান, আদালত কি সরাসরি সাসপেনশনের নির্দেশ দেবে? উত্তরে সলিসিটর জেনারেল বলেন, “আদালত শুধু উপযুক্ত কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিন।”
রাজ্যের পক্ষে কপিল সিব্বল
মামলায় রাজ্য সরকারের পক্ষে সওয়াল করবেন সিনিয়র আইনজীবী কপিল সিব্বল (Kapil Sibal) ও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁরা ইডির অভিযোগকে একতরফা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন।
সব মিলিয়ে, আই-প্যাক তল্লাশি ঘিরে কেন্দ্র ও রাজ্যের সংঘাত এখন সুপ্রিম কোর্টের মঞ্চে। আদালতের পর্যবেক্ষণ ও নির্দেশই ঠিক করবে—এই মামলায় তদন্তের গতিপথ কোন দিকে যায়। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত শুনানি চলছে।