খারাপ আবহাওয়া উদ্ধারকার্যে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আবহাওয়া দফতর ইতিমধ্যেই চামোলি জেলায় আরও ভারী বৃষ্টির সতর্কবার্তা জারি করেছে। সুতরাং পরিস্থিতি যে আরও খারাপের পথে তা বলাই বাহুল্য।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 18 September 2025 09:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফের ভয়াবহ মেঘভাঙা বৃষ্টি (Cloudburst Rain) এবং ধসে বিধ্বস্ত উত্তরাখণ্ড (Uttarakhand)। আবারও চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত চামোলি জেলা। বুধবার গভীর রাতে নন্দা নগর এলাকায় মুষলধারে বৃষ্টির পর আচমকা ধসে (Landslide) যায় ৬টি বাড়ি। ধ্বংসস্তূপের নীচে অন্তত ১০ জনের আটকে থাকার খবর মিলেছে। ইতিমধ্যেই জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিকা বাহিনী (NDRF)-এর দল পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করেছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, নিখোঁজদের মধ্যে রয়েছেন কুনত্রি লাগা ফালি গ্রামের ৬ জন, সারপানির ২ জন এবং ধুরমার আরও ২ জন। তাঁদের মধ্যে প্রবীণতম একজনের বয়স ৭৫ বছর, আর সবচেয়ে ছোট দুই শিশু মাত্র ১০ বছরের। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এখনও অনেকেই ধ্বংসস্তূপে আটকে রয়েছেন। এ পর্যন্ত দু’জনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। দ্রুত ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে মেডিক্যাল টিম এবং তিনটি অ্যাম্বুল্যান্স।
কিন্তু খারাপ আবহাওয়া উদ্ধারকার্যে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আবহাওয়া দফতর ইতিমধ্যেই চামোলি জেলায় আরও ভারী বৃষ্টির সতর্কবার্তা জারি করেছে। সুতরাং পরিস্থিতি যে আরও খারাপের পথে তা বলাই বাহুল্য।
মাত্র চারদিন আগেই দেরাদুনে ভয়াবহ মেঘভাঙা বৃষ্টি এবং ধসে প্রাণ হারান অন্তত ১৩ জন। ভেসে যায় রাস্তা, ভাঙে সেতু, ক্ষতিগ্রস্ত হয় অসংখ্য বাড়ি ও দোকান। এখনও পর্যন্ত রাজ্য জুড়ে নিখোঁজ অন্তত ১৫ জন, আর প্রায় ৯০০ মানুষ বিপর্যস্ত অবস্থায় আটকে রয়েছেন।
বুধবার মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি জানান, দ্রুত বিদ্যুৎ ও রাস্তার সংযোগ ফেরানোই সরকারের অগ্রাধিকার। তাঁর দাবি, ইতিমধ্যেই ৮৫ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যুৎ লাইন মেরামত করা হয়েছে, বাকি কাজও এক-দু’দিনের মধ্যেই শেষ হবে।
এপ্রিল থেকে এখনও পর্যন্ত উত্তরাখণ্ডে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৮৫ জন। আহত ১২৮, নিখোঁজ ৯৪ জন। উধাও বৃষ্টির জেরে মেঘভাঙা ও ভূমিধস দাপট দেখিয়েছে উত্তরকাশীর ধারালি-হরশিল, চামোলির থারালি, রুদ্রপ্রয়াগের চেনাগাড়, পউড়ির সাইনজি, বাগেশ্বরের কাপকোট ও নৈনিতালের একাধিক অঞ্চলে।
গত ১১ সেপ্টেম্বর দেরাদুনে গিয়ে বিপর্যস্ত অঞ্চল পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ঘোষণা করেন ১,২০০ কোটি টাকার ত্রাণ প্যাকেজ। এছাড়া মৃতদের পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা এবং আহতদের ৫০ হাজার টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কোথাও বলা হয়।