ঘটনা নিয়ে এআইডিএমকে প্রধান এডাপ্পাদি কে পালানিস্বামী রাজ্য সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন। বলেন, 'এই ধরনের ঘটনা রাজ্যের প্রশাসনিক ব্যর্থতার প্রমাণ।'

অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ
শেষ আপডেট: 10 June 2025 13:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মাত্র এক সপ্তাহ আগে সরকারি হোমে এসেছিল নাবালিকা। পড়াশোনা শুরু করেছিল। মানিয়ে নিতে চেষ্টা করছিল নতুন পরিবেশের সঙ্গে। কিন্তু চরম শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠল সরকারি ওই হোমের বিরুদ্ধে। বর্তমানে গুরুতর অসুস্থ নাবালিকা। মারধরের ফলে তার পা ভেঙে গেছে বলেও জানা যাচ্ছে।
চেন্নাইয়ের তাম্বারামের সরকারি হোমের ঘটনা। অষ্টম শ্রেণির ওই ছাত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগে সাত বছর ধরে কর্মরত নিরাপত্তারক্ষী ম্যাথিউ (৩৭)-কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
জানা গিয়েছে, রবিবার, হোমের মধ্যেই তার উপর নির্যাতন করা হয়। মেয়েটির চিৎকার শুনে অন্য আবাসিক ছাত্রীরা তাকে উদ্ধার করে। প্রথমে ক্রোমপেট সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকর পা ভেঙেছে বলে জানান। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজীব গান্ধী সরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
চিটলাপাক্কাম থানার পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করে। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হয়। হোমের উঁচু পাঁচিল থেকে বা রেজিস্টার অনুযায়ীও বহিরাগত কেউ এসেছিল বলে দেখা যায়নি। তাই সন্দেহ শুরু হয় হোমের ভিতরের কর্মীদের নিয়ে। পরে মেয়েটি বয়ানের ভিত্তিতে নিরাপত্তারক্ষী ম্যাথিউকে গ্রেফতার করা হয়।
এই মামলাটি সেলাইয়ুর অল উইমেন থানায় স্থানান্তরিত করা হয়েছে বলে জানাচ্ছে পুলিশ। সেখানেই আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা রুজু করা হয় এবং অভিযুক্তকে হেফাজতে নেওয়া হয়। ঘটনা নিয়ে রাজ্যের সমাজ কল্যাণ ও নারী ক্ষমতায়ন দপ্তরের মন্ত্রী গীতা জীভন জানান, সমস্ত সরকারি ও এনজিও পরিচালিত মহিলা ও শিশুদের হোমে মহিলা নিরাপত্তারক্ষী নিযুক্ত করা হবে। একজন মহিলা রক্ষীকে রাতেও ওই কেন্দ্রে থাকার নির্দেশ দেওয়া হবে যাতে ২৪ ঘণ্টা নজরদারি বজায় থাকে।
মন্ত্রী জানান, ঘটনার সময় কেন্দ্রের ওয়ার্ডেন ছুটিতে ছিলেন, রান্নার কর্মীও সেসময় অনুপস্থিত ছিলেন। এই সুযোগেই অভিযুক্ত নিরাপত্তারক্ষী নাবালিকার ওপর নির্যাতন করেন।
তিনি বলেন, 'অভিযুক্তের বিরুদ্ধে এর আগে কোনও অভিযোগ ওঠেনি। তবে বর্তমানে তদন্ত চলছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
ঘটনা নিয়ে এআইডিএমকে প্রধান এডাপ্পাদি কে পালানিস্বামী রাজ্য সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন। বলেন, 'এই ধরনের ঘটনা রাজ্যের প্রশাসনিক ব্যর্থতার প্রমাণ।' একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, অন্য কোনও শিশুর ক্ষেত্রেও এমন ঘটনা ঘটেছে কিনা, তারও তদন্ত হোক এবং দোষীকে কঠোর শাস্তি দেওয়া হোক।