পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সূত্রপাত হয় পরীক্ষার দিনগুলির মধ্যেই। অভিযোগ, কয়েকজন ছাত্র ঋষির উপর চাপ সৃষ্টি করছিল যাতে সে পরীক্ষার প্রশ্নের উত্তর বলে দেয়। কিন্তু ঋষি সেই দাবি মানতে অস্বীকার করে। এরপর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকে।

স্কুল গেটের বাইরেই পরিকল্পিত হামলা হয় ওই ছাত্রের উপর
শেষ আপডেট: 7 March 2026 18:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্কুলের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার শেষ দিন, সাধারণত যেদিন ছাত্রছাত্রীরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে বাড়ি ফেরে। কিন্তু মধ্যপ্রদেশের (Madhya Pradesh) দামো শহরে সেই শেষ পরীক্ষার দিনই পরিণত হল ভয়াবহ এক হত্যাকাণ্ডে। দশম শ্রেণির এক ছাত্রকে স্কুলের গেটের বাইরে ঘিরে ধরে ছুরি মেরে খুন করার অভিযোগ উঠেছে তারই সহপাঠীদের বিরুদ্ধে Class 10 Student stabbed to death by classmates)। অভিযুক্তরাও সবাই অপ্রাপ্তবয়স্ক।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, নিহত ছাত্রের নাম ঋষি আহিরওয়ার (১৫)। শুক্রবার পরীক্ষা দিয়ে বেরোনোর পর দামো শহরের ওজস্বিনী স্কুলের সামনে তার উপর হামলা চালানো হয়। অভিযোগ, ছ'জনেরও বেশি ছাত্র তাকে ঘিরে ধরে ধারাল অস্ত্র দিয়ে এলোপাথাড়ি আঘাত করে। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, কয়েকদিন ধরে চলা বিবাদের জেরেই এই হামলা। পুলিশের দাবি, অভিযুক্তরাও দশম শ্রেণির ছাত্র (Teenage Crime Madhya Pradesh)।
পরীক্ষার প্রশ্নের উত্তর ঘিরে শুরু দ্বন্দ্ব
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সূত্রপাত হয় পরীক্ষার দিনগুলির মধ্যেই। অভিযোগ, কয়েকজন ছাত্র ঋষির উপর চাপ সৃষ্টি করছিল যাতে সে পরীক্ষার প্রশ্নের উত্তর বলে দেয়। কিন্তু ঋষি সেই দাবি মানতে অস্বীকার করে।
এরপর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। ২৭ ফেব্রুয়ারি এবং আবার ২ মার্চ, দু’দিনই স্কুলের ভিতরে তাদের মধ্যে বচসা ও ঝামেলার ঘটনা ঘটে বলে তদন্তে উঠে এসেছে। এমনকি, চূড়ান্ত পরীক্ষার দিন ঋষিকে “শিক্ষা দেওয়া হবে” বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
স্কুল গেটের বাইরে পরিকল্পিত হামলা
শুক্রবার দুপুরে শেষ পরীক্ষা দিয়ে ঋষি যখন স্কুলের গেট পেরিয়ে বাইরে বেরোচ্ছিল, তখনই ওঁত পেতে থাকা একদল ছাত্র তাকে ঘিরে ধরে। এরপর শুরু হয় মারাত্মক হামলা।
অভিযোগ, কিশোরেরা ধারাল ছুরি দিয়ে তাকে একের পর এক আঘাত করে। হামলার পরেই ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় অভিযুক্তরা। গুরুতর জখম অবস্থায় দ্রুত ঋষিকে জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু ততক্ষণে তার শরীর থেকে বিপজ্জনক পরিমাণ রক্তক্ষরণ হয়ে গিয়েছিল।
চিকিৎসকদের দাবি: অতিরিক্ত রক্তক্ষরণেই মৃত্যু
হাসপাতালের আইসিইউতে ডিউটিতে থাকা চিকিৎসক বাহাদুর প্যাটেল জানান, ঋষির শরীরে গুরুতর আঘাত লেগেছিল। ডাক্তারের কথায়, “ছুরির কোপে একটি শিরা কেটে গিয়েছিল। ফলে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। আমরা রক্তের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করছিলাম। কিন্তু খুব দ্রুতই তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো যায়নি।” তিনি আরও জানান, ঋষি আগেই তীব্র রক্তাল্পতায় ভুগছিল। ফলে আঘাতের প্রভাব আরও মারাত্মক হয়ে ওঠে।
এই ঘটনায় শহর জুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। ঋষির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই জেলা হাসপাতালে ভিড় জমায় পরিবার-পরিজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
আটক একাধিক কিশোর
হামলার পরই দ্রুত তদন্ত শুরু করে পুলিশ। দামো শহরের সিএসপি এইচ আর পাণ্ডে জানান, ঘটনায় জড়িত বেশ কয়েকজন অপ্রাপ্তবয়স্ককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, এই খুনের ঘটনায় মোট আটজন ছাত্রের নাম সামনে এসেছে। দামো জেলার পুলিশ সুপার শ্রুতকীর্তি সোমবংশী এই ঘটনাকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁর কথায়, “একজন স্কুল ছাত্রকে এভাবে খুন করা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং উদ্বেগজনক। এই ঘটনায় আটজন অপ্রাপ্তবয়স্কের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।”
কিশোরদের মধ্যে বাড়ছে সহিংসতার প্রবণতা
পুলিশ সুপার আরও একটি বড় উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন। তার মতে, সাম্প্রতিক সময়ে কিশোরদের মধ্যে অপরাধীদের ‘আদর্শ’ হিসেবে দেখার প্রবণতা বাড়ছে।
“স্কুলপড়ুয়া কিশোররা সমাজে ভয় সৃষ্টি করে এমন অপরাধীদের অনুকরণ করছে—এটা উদ্বেগের বিষয়। এই মানসিকতার বিরুদ্ধে সচেতনতা বাড়াতে আমাদের বিশেষ প্রচারাভিযান চালাতে হবে,” বলেন তিনি।