এসআইআর সংক্রান্ত মামলায় মমতার ব্যক্তিগতভাবে সওয়াল করাকে ‘সাংবিধানিক ভাবে অনুচিত’ দাবি করে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানিয়েছিল অখিল ভারত হিন্দু মহাসভা।
.jpeg.webp)
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত
শেষ আপডেট: 9 February 2026 19:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সুপ্রিম কোর্টে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) সওয়ালকে ঘিরে ওঠা বিতর্কে স্পষ্ট অবস্থান শীর্ষ আদালতের। সোমবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত (CJI Surya Kant) পর্যবেক্ষণে জানান, মুখ্যমন্ত্রীর এই সওয়াল সংবিধানের প্রতি তাঁর আস্থা ও বিশ্বাসেরই প্রকাশ। আদালতের ভাষায়, “এতে অস্বাভাবিক কিছু নেই। বিষয়টিকে রাজনৈতিক রঙ দেওয়ার প্রয়োজন নেই।”
এসআইআর সংক্রান্ত মামলায় মমতার ব্যক্তিগতভাবে সওয়াল করাকে ‘সাংবিধানিক ভাবে অনুচিত’ দাবি করে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানিয়েছিল অখিল ভারত হিন্দু মহাসভা। সেই আবেদনের প্রেক্ষিতেই সোমবার এই মন্তব্য করে শীর্ষ আদালত। ওই দিন এসআইআর সংক্রান্ত মূল মামলার পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রীর দায়ের করা মামলারও শুনানি হয়।
উল্লেখ্য, গত বুধবার প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতির বেঞ্চে এসআইআর মামলার (SIR Hearing) শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী নিজে। আইনজীবীদের সঙ্গে সামনের সারিতে দাঁড়িয়ে তিনি রাজ্যের বিভিন্ন অসুবিধার কথা আদালতে তুলে ধরেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, এসআইআর প্রক্রিয়ায় শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গকেই নিশানা করা হচ্ছে। তিন মাসের মধ্যে কাজ শেষ করার তাড়াহুড়ো নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
পাশাপাশি, এই প্রক্রিয়ার মধ্যেই রাজ্যে একাধিক মৃত্যুর বিষয়ও আদালতের নজরে আনেন মুখ্যমন্ত্রী। ওই শুনানির পরেই সুপ্রিম কোর্ট তিনটি নির্দেশ দেয়।
এর পর সোমবারের শুনানির আগে অখিল ভারত হিন্দু মহাসভার সহসভাপতি একটি আবেদন করে জানান, এসআইআর নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর দায়ের করা মামলায় হস্তক্ষেপ করা হোক। আবেদনে বলা হয়, বিষয়টি ব্যক্তিগত নয়; এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে রাজ্য সরকার ও নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক ক্ষমতা। তাই কোনও মুখ্যমন্ত্রীর ব্যক্তিগতভাবে সওয়াল করা বা আদালতে উপস্থিত থাকা অনুচিত। এই যুক্তিরই জবাবে প্রধান বিচারপতি কান্ত স্পষ্ট করে দেন, মুখ্যমন্ত্রীর সওয়াল সংবিধানের প্রতি তাঁর আস্থার প্রতিফলন।
এ দিন আদালত আরও জানিয়ে দেয়, এসআইআর-এর কাজে কোনও রকম বাধা সহ্য করা হবে না। একই সঙ্গে কমিশনের কাজ ও বাস্তব পরিস্থিতির মধ্যে সামঞ্জস্যের অভাব রয়েছে বলেও মন্তব্য করেছে শীর্ষ আদালত।
শুধু তাই নয়, সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, কমিশন প্রয়োজনে ইআরও ও এইআরও-দের পরিবর্তন করতে পারবে বা যোগ্য অফিসার ব্যবহার করতে পারবে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন ইআরও-রাই, মাইক্রো অবজার্ভার ও অন্যান্য অফিসার কেবল সহায়তা করবেন। রাজ্যের অফিসারদের দু’দিনের প্রশিক্ষণ দেওয়া সম্ভব বলে জানিয়েছে কমিশন।
সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, ১৪ ফেব্রুয়ারির পর ইআরও-দের নথি যাচাই ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য আরও এক সপ্তাহ সময় দেওয়া হবে। এছাড়া, রাজ্যে এনুমারেশন ফর্ম পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনার জন্য এখনও কোনো এফআইআর হয়নি। আদালত রাজ্যের পুলিশের ডিজি-কে শোকজ করে, তাকে হলফনামা জমা দিয়ে বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে বলা হয়েছে।