ভারতের প্রায় ৬,৫৫৩ কিলোমিটার দীর্ঘ মূল ভূখণ্ডের উপকূলরেখা জুড়ে প্রায় ২৫ দিনব্যাপী এই সাইক্লোথন চলবে। নয়াদিল্লির মেজর ধ্যানচাঁদ ন্যাশনাল স্টেডিয়াম থেকে ভার্চুয়ালি এই কর্মসূচির সূচনা করবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শ্রী নিত্যানন্দ রাই।

নিজস্ব ছবি
শেষ আপডেট: 19 January 2026 20:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো: উপকূলীয় নিরাপত্তা জোরদার করা, জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করা এবং সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ বাড়ানোর লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় শিল্প নিরাপত্তা বাহিনী (CISF - Central Industrial Security Force) আগামী ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে শুরু করতে চলেছে তাদের বিশেষ উদ্যোগ ‘সিআইএসএফ বন্দে মাতরম কোস্টাল সাইক্লোথন - ২০২৬’ (CISF Vande Mataram Coastel Cyclothon 2026)। তা চলবে ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। এই বছর তাদের এই কর্মসূচিটি দ্বিতীয় বার আয়োজিত হতে চলেছে।
ভারতের প্রায় ৬,৫৫৩ কিলোমিটার দীর্ঘ মূল ভূখণ্ডের উপকূলরেখা জুড়ে প্রায় ২৫ দিনব্যাপী এই সাইক্লোথন চলবে। নয়াদিল্লির মেজর ধ্যানচাঁদ ন্যাশনাল স্টেডিয়াম থেকে ভার্চুয়ালি এই কর্মসূচির সূচনা করবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শ্রী নিত্যানন্দ রাই। অনুষ্ঠানে CISF-এর শীর্ষ আধিকারিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত থাকবেন।
CISF সূত্রে জানা গেছে, এবারের সাইক্লোথনের মূল থিম - সুরক্ষিত তট, সমৃদ্ধ ভারত (Surakshit Tat, Samridh Bharat)। ‘বন্দে মাতরম’- এর দেশাত্মবোধক ভাবনাকে সামনে রেখে এই অভিযানের মাধ্যমে উপকূলীয় নিরাপত্তা, নাগরিক সচেতনতা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এবং জাতীয় দায়বদ্ধতার বার্তা তুলে ধরা হবে।
এই সাইক্লোথন একযোগে দুই প্রান্ত থেকে শুরু হবে। পশ্চিম উপকূলে গুজরাটের কচ্ছ জেলার লখপত দুর্গ থেকে এবং পূর্ব উপকূলে পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনার বকখালি থেকে দুটি দল যাত্রা শুরু করবে। উপকূলবর্তী একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শহর ও জনপদ অতিক্রম করে ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ কেরালার কোচিনে দুটি দল মিলিত হবে।
পথে পশ্চিম উপকূলে সুরাট, মুম্বই, গোয়া, মাঙ্গালুরু এবং পূর্ব উপকূলে হলদিয়া, কোনার্ক, পারাদ্বীপ, বিশাখাপত্তনম, চেন্নাই, পুদুচেরি ও কন্যাকুমারীর মতো শহরগুলি এই সাইক্লথনে যুক্ত থাকবে।
এই অভিযানে মোট ১৩০ জন CISF কর্মী, যার মধ্যে ৬৫ জন মহিলা, অংশ নেবেন। অংশগ্রহণকারীরা এক মাসেরও বেশি সময় ধরে সহনশীলতা বাড়ানো, পুষ্টিকর খাবার খাওয়া, সাইক্লিং নিরাপত্তা, দীর্ঘপথে সাইকেল চালানোর কৌশল ও সাইকেলের রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত বিশেষ প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। পেশাদার সাইক্লিস্টদের তত্ত্বাবধানে এই প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
উল্লেখ্য, ভারতের ২৫০টিরও বেশি বন্দর, যার মধ্যে ৭২টি এক্সিম (EXIM) বন্দর, দেশের প্রায় ৯৫ শতাংশ বাণিজ্য পরিচালনা করে। এই গুরুত্বপূর্ণ বন্দরগুলির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মাদক, অস্ত্র ও বিস্ফোরক পাচার, অনুপ্রবেশ এবং বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধে CISF গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। বর্তমানে দেশের ১২টি প্রধান বন্দর ও পোর্ট ব্লেয়ার বন্দরে CISF মোতায়েন রয়েছে।
সাইক্লোথনের অংশ হিসেবে CISF দলগুলি ৫০টিরও বেশি উপকূলবর্তী গ্রামে রাতযাপন করবে। স্থানীয় মৎস্যজীবী ও উপকূলবাসীদের সঙ্গে মতবিনিময়, মাদকবিরোধী সচেতনতা, মানব পাচার রোধে প্রচার, স্বচ্ছ ভারত পরিচ্ছন্নতা অভিযান, বৃক্ষরোপণ এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। পাশাপাশি সিএসআর উদ্যোগে নির্বাচিত এলাকায় উন্নয়নমূলক কাজের পরিকল্পনাও রয়েছে।
দেশব্যাপী সচেতনতা বাড়াতে এই সাইক্লোথন রুটের নয়টি প্রধান শহরে একসঙ্গে প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হচ্ছে। শহরগুলি হল - আমেদাবাদ, মুম্বই, গোয়া, বেঙ্গালুরু, কোচি, কলকাতা, ভুবনেশ্বর, বিশাখাপত্তনম ও চেন্নাই।
CISF জানিয়েছে, উপকূলীয় নিরাপত্তা ও জাতীয় ঐক্যের এই ব্যতিক্রমী অভিযানের মাধ্যমে দেশের প্রতিটি নাগরিককে আরও সতর্ক, সচেতন ও অংশীদার করে তোলাই এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য।