দ্রুত অতিরিক্ত বাহিনী পাঠানো হয়েছে ওই পাহাড়ি এলাকায়। স্বস্তির খবর এটাই যে, এখনও পর্যন্ত কোনও মৃত্যুর খবর নেই।

শেষ আপডেট: 18 January 2026 21:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জম্মু–কাশ্মীরের কিশতওয়ারে (Kishtwar encounter) ফের গুলির লড়াই। রবিবার দুপুরে সিংহপোড়া এলাকার সোন্নার গ্রামে নিরাপত্তাবাহিনী (Indian Army) এবং সশস্ত্র জঙ্গিদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। পুলিশ জানিয়েছে, পাকিস্তান সমর্থিত জইশ-ই-মহম্মদের তিনজন জঙ্গি (Jaish-e-Mohammed terrorists) গ্রেনেড ছুড়ে বাহিনীকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালায়।
সূত্রের দাবি, পাকিস্তান-ভিত্তিক জইশ-ই-মহম্মদের (Jaish-e-Mohammed) দু’ থেকে তিনজন জঙ্গি ওই অঞ্চলে লুকিয়ে রয়েছে—এই প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতেই দুপুর নাগাদ অভিযান শুরু করেছিল নিরাপত্তাবাহিনী। অপারেশনটির নেতৃত্ব দেয় জম্মু-ভিত্তিক সেনা ইউনিট হোয়াইট নাইট কর্পস।
তিন জওয়ান আহত, চলছে মেগা সার্চ অপারেশন
গুলির লড়াই চলাকালীন তিনজন জওয়ান স্প্লিন্টার ইনজুরিতে আহত হন। তাদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এলাকা ঘিরে বৃহৎ তল্লাশি অভিযান চলছে, যাতে জঙ্গিরা কোনওভাবেই পালাতে না পারে।
পুলিশ ও সেনা সূত্র জানাচ্ছে, মানদ্রাল–সিংহপোড়া অঞ্চলের কাছে চাট্রুর সোন্নার গ্রামে অপারেশন ত্রাসি–১-এর অংশ হিসেবে চলছিল কর্ডন অ্যান্ড সার্চ অপারেশন। দুপুর নাগাদ তল্লাশি অভিযান চলাকালীন আচমকা গুলির শব্দ শোনা যায়। জওয়ানরা জঙ্গিদের অবস্থান চিহ্নিত করার চেষ্টা করতেই শুরু হয় গুলিবর্ষণ।
সর্বভারতীয় এক সংবাদসংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী, দ্রুত অতিরিক্ত বাহিনী পাঠানো হয়েছে ওই পাহাড়ি এলাকায়। স্বস্তির খবর এটাই যে, এখনও পর্যন্ত কোনও মৃত্যুর খবর নেই। সেনাবাহিনী জানিয়েছে, জঙ্গিদের গুলির জবাব দিতে গিয়ে কঠিন ভৌগোলিক অবস্থান ও প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও জওয়ানরা ‘অসাধারণ পেশাদারিত্ব’ দেখিয়েছেন। গোটা এলাকা ঘিরে ফেলতে বাড়তি বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এবং স্থানীয় প্রশাসন ও অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় রেখে অভিযান চালানো হচ্ছে।
সাম্প্রতিক মাসে বাড়ছে সংঘর্ষ
গত কয়েক মাসে জম্মু–কাশ্মীরের বিভিন্ন জেলায় একের পর এক এনকাউন্টার হচ্ছে।
৮ জানুয়ারি কাথুয়া জেলাতেও নিরাপত্তাবাহিনী এবং জঙ্গিদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছিল। ২০২৫ সালের নভেম্বরে কিশতওয়ারের চাট্রু এলাকায় সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে যৌথ অভিযানে জঙ্গিদের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ সংঘর্ষে জড়িয়েছিল সেনা ও পুলিশ।
দু'টি পাহাড়ি জেলার, কিশতওয়ার ও ডোডা, ঘন জঙ্গল ও দুর্গম এলাকায় প্রায় ৩৫ জন পাক জঙ্গি লুকিয়ে আছে বলে সেনা সূত্রকে উদ্ধৃত করে এইচটিকে জানান এক সেনা আধিকারিক।
সাধারণত ‘চিল্লাই কলান’-এ (অতিরিক্ত শীতের সময়) অভিযান কিছুটা কমে। তবে এবারে সেনা নতুন কৌশলে বরফে ঢাকা উঁচু এলাকায় নজরদারি জোরদার করেছে। ধারণা, জঙ্গিরা সেখানেই ঘাঁটি বানানোর চেষ্টা করছে।
থার্মাল ইমেজিং ডিভাইস এবং ড্রোনের মতো আধুনিক প্রযুক্তি রাতের অভিযান এবং বিপজ্জনক ভূখণ্ডে অপারেশন চালাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে বলে জানিয়েছেন এক আধিকারিক। তাঁর কথায়, “এই প্রযুক্তি আর সেনার ভূখণ্ড–পরিচিতি মিলিয়ে এখন কোনও এলাকাই নজরদারির বাইরে থাকছে না।”