জম্মুতে এনআইএ দফতরের কাছে আবর্জনার স্তূপ থেকে উদ্ধার হল চিনে তৈরি অ্যাসল্ট রাইফেলের স্কোপ। তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ ও বিশেষ বাহিনী।

চিনা অস্ত্রের অংশ
শেষ আপডেট: 22 December 2025 10:37
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাড়ির কাছে খেলতে গিয়ে হাতে এল অস্ত্র! স্থানীয়দের সন্দেহ হতেই পুলিশে ফোন। বিষয়টা কানে পৌঁছতেই নড়েচড়ে উঠে প্রশাসন। এ যেমন তেমন অস্ত্রের অংশ নয়, চিনে বানানো অস্ত্র। আর তারপরই জম্মু শহরের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ বিভিন্ন মহলে।
জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ (National Investigation Agency)-র জম্মু ও কাশ্মীর সদর দফতরের কাছাকাছি এলাকা থেকে উদ্ধার হয় ওই চিনে তৈরি (China-made) অত্যাধুনিক অস্ত্রের যন্ত্রাংশ। পুলিশ সূত্রে খবর, এটি একটি অ্যাসল্ট রাইফেলের স্কোপ (Assault Rifle Scope), যা প্রয়োজনে স্নাইপার রাইফেল (Sniper Rifle)-এও বসানো যায়।
ঘটনাটি সামনে আসে সম্প্রতি। জম্মু অঞ্চলের (Jammu Region) আসরারাবাদ (Asrarabad) এলাকায় এক ছ’বছরের শিশু ওই স্কোপ নিয়ে খেলছিল। বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে আসে। সন্দেহ হওয়ায় সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পরে পুলিশ আধিকারিকরা শিশুটির বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা বলেন। পরিবারের দাবি, ওই স্কোপটি তাদের ছেলে সকালে বাড়ির কাছেই একটি আবর্জনার স্তূপ (Garbage Dump) থেকে কুড়িয়ে পেয়েছে।
ঘটনার পর গোটা এলাকায় তল্লাশি অভিযান শুরু হয়। বিশেষ করে জম্মু অঞ্চলের সিধরা (Sidhra) এলাকায় পুলিশ এবং বিশেষ বাহিনী তৎপরতা বাড়ায়। উদ্ধার হওয়া স্কোপটির গায়ে স্পষ্টভাবে চিনে তৈরি হওয়ার কথা লেখা রয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর হওয়ায় ঘটনাস্থলে পৌঁছন পুলিশ বিভাগের (Jammu Police) শীর্ষ আধিকারিকরাও।
জম্মু (গ্রামীণ) পুলিশের (Jammu Rural Police) এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, সিধরা এলাকা থেকে এমন একটি টেলিস্কোপ জাতীয় যন্ত্র উদ্ধার হয়েছে, যা অস্ত্রে বসানো যায়। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, এই ঘটনার তদন্তে বিশেষ অপারেশন গ্রুপ এসওজি (Special Operations Group, SOG)-এর দলও যুক্ত হয়েছে। কে বা কারা এই স্কোপ সেখানে রেখে গিয়েছিল, তার সঙ্গে কোনও জঙ্গি যোগ (Terror Link) রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হওয়ার আবেদন জানায়। মুখপাত্রের কথায়, “পরিস্থিতির উপর আমাদের নজর রয়েছে। তদন্ত চলছে। আপাতত সাধারণ মানুষের ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই।”
এই ঘটনার মধ্যেই আরও একটি আলাদা ঘটনায় পুলিশ সাম্বা (Samba) জেলা থেকে এক যুবককে আটক করেছে। এক জাতীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, আটক যুবকের বয়স ২৪ । নাম তানভির আহমদ (Tanvir Ahmad)। পুলিশ সূত্রে দাবি, ওই যুবকের মোবাইল ফোনে একটি ‘পাকিস্তানি’ নম্বর (Pakistani Phone Number) পাওয়া গিয়েছে। সেই সূত্র ধরেই তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।
তানভির আহমদের বাড়ি দক্ষিণ কাশ্মীরের অনন্তনাগে (Anantnag)। তিনি সাম্বা জেলায় বসবাস করছিলেন। এই আটক এবং সিধরা এলাকা থেকে উদ্ধার হওয়া চিনা স্কোপ-এই দুই ঘটনার মধ্যে কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা।
এনআইএ দফতরের কাছাকাছি এলাকা থেকে এই ধরনের অস্ত্রের যন্ত্রাংশ উদ্ধার হওয়ায় নিরাপত্তা মহলে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ বেড়েছে। যদিও পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে, সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনো সম্ভব নয় বলেই জানাচ্ছেন আধিকারিকরা।