মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও তাঁর বৈঠক হওয়ার কথা। দুই বৃহৎ এশীয় শক্তির এই যোগাযোগকে সম্ভাব্য কূটনৈতিক সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের ইঙ্গিত হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই
শেষ আপডেট: 18 August 2025 19:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দীর্ঘ তিন বছর পর ফের দিল্লিতে পা রাখলেন চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই (Wang Yi)। সোমবার সন্ধ্যায় তিনি দেখা করলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের (S Jaishankar) সঙ্গে। মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও তাঁর বৈঠক হওয়ার কথা। দুই বৃহৎ এশীয় শক্তির এই যোগাযোগকে সম্ভাব্য কূটনৈতিক সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের ইঙ্গিত হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
চিনের বিদেশমন্ত্রীর এই সফরকে ঘিরে আশার পাশাপাশি কৌতূহলও তৈরি হয়েছে। কারণ, সীমান্ত সমস্যা থেকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা— একাধিক জটিল ইস্যুতে এখনও দিল্লি-বেজিংয়ের মধ্যে দূরত্ব রয়েই গিয়েছে। তবুও ওয়াং ই-র সফরকে অনেকেই দুই দেশের মধ্যে বরফ গলার ইঙ্গিত বলেই মনে করছেন। আগামী ৩১ অগস্ট থেকে ১ সেপ্টেম্বর চিনের তিয়ানজিনে সঙ্ঘাই সহযোগিতা সংস্থার বৈঠকে যোগ দিতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও। সেই সফরকেই এই সম্পর্ক উন্নয়নের আর এক ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কূটনৈতিক মহল মনে করছে, ওয়াং ই-র সফরের মাধ্যমে আবার শুরু হতে পারে স্থগিত হয়ে থাকা সীমান্ত সমস্যা সমাধানের আলোচনা। পাশাপাশি কোভিড মহামারির সময় থেকে বন্ধ থাকা ভিসা ও সরাসরি বিমান পরিষেবা চালুর বিষয়েও কথা এগোতে পারে।
এই সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হওয়ার পেছনে আছে আমেরিকার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক নীতি। তাঁর প্রশাসন চিনের উপর শুল্ক দ্বিগুণ করার পর থেকেই দিল্লি-বেজিং একে অপরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হওয়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছিল। সেই সময়ই ওয়াং ই বলেছিলেন, “হাতি আর ড্রাগনের একসঙ্গে নাচা ছাড়া অন্য কোনও পথ নেই।”
চিনের ভাইস-প্রেসিডেন্ট হান ঝেংও গত জুলাইয়ে একই সুরে বলেন, দুই দেশের সাফল্যের জন্য পরস্পরের সহযোগিতা অপরিহার্য। চিনা সরকার-ঘনিষ্ঠ সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল টাইমসও সম্প্রতি লিখেছে, “হাতি আর ড্রাগনের ব্যালে নাচ একসঙ্গে মার্কিন শুল্কনীতির মোকাবিলার পথ খুলে দিতে পারে।”
কূটনৈতিক সম্পর্ক উন্নত করতে হলে কেবল সীমান্ত সমস্যা নয়, পাকিস্তান প্রসঙ্গও বড় বাধা। আন্তর্জাতিক মঞ্চে ইসলামাবাদের পাশে দাঁড়াতেই দেখা যায় বেজিংকে। সম্প্রতি জাতিসংঘে পাঁচ জন পাক জঙ্গিকে ‘গ্লোবাল টেররিস্ট’ হিসেবে চিহ্নিত করার প্রস্তাবও আটকে দিয়েছিল চিন। এমনকি সঙ্ঘাই সহযোগিতা সংস্থার এক বৈঠকে উপত্যকায় হওয়া পহেলগামে হামলার প্রসঙ্গ বাদ পড়ায় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং সই করতে অস্বীকার করেছিলেন।
তবে সব বাধা সত্ত্বেও বহুপাক্ষিক মঞ্চ যেমন এসসিও, ব্রিকস কিংবা দ্বিপাক্ষিক আলোচনার পথ ধরেই এগোতে চাইছে দুই দেশ। জয়শঙ্কর জুলাই মাসে বেজিং সফরে গিয়ে স্পষ্টই বলেছিলেন, কাজান বৈঠকে মোদী-জিনপিং সাক্ষাতের পর থেকে সম্পর্ক ইতিবাচক পথে এগোচ্ছে।
তবে এখনই ‘হাতি-ড্রাগন’-এর নাচ শুরু হবে কি না, সেই উত্তর হয়তো আসবে দিল্লি-বেজিংয়ের টানা বৈঠকের পরেই।