প্রায় দুসপ্তাহের বেশি ধরে দৃষ্টির আড়ালে চলে যাওয়া শি এই প্রথমবার ব্রাজিলে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনের টেবিলেও থাকবেন না।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে সম্রাট শি নামেই ডাকেন।
শেষ আপডেট: 3 July 2025 15:39
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চিনের কমিউনিস্ট ‘সম্রাট শি’এর কি পতন আসন্ন? মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে সম্রাট শি নামেই ডাকেন। কয়েক বছর ধরে আমেরিকার সঙ্গে ধারেভারে টক্কর লাগানো চিনের কমিউনিস্ট পার্টির শীর্ষ নেতা শিয়ের হাত থেকে ক্ষমতা কক্ষচ্যুত হতে চলেছে? প্রায় দুসপ্তাহের বেশি ধরে দৃষ্টির আড়ালে চলে যাওয়া শি এই প্রথমবার ব্রাজিলে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনের টেবিলেও থাকবেন না। সেই থেকে নতুন করে এই অজানা মেঘ ঘনিয়ে উঠতে শুরু করেছে। একইসঙ্গে এই প্রশ্নও উঠছে যে, আফটার শি, হু!
দুসপ্তাহের বেশি সময় ধরে শিকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি। মে মাসের শেষ থেকে জুনের গোড়া পর্যন্ত শি জিনপিং হঠাৎ করেই উধাও হয়ে যান। না কোনও প্যারেডে, না কোনও খবরে দেখা মেলেনি প্রেসিডেন্টের। চিনের সরকারি সংবাদপত্র পিপলস ডেলির প্রথম পাতায় যে শিয়ের ছবি ও খবর রোজ ছাপা হতো, তাও মিলিয়ে যায়। সেই জায়গায় বেজিংয়ের গ্র্যান্ড হলে সফররত বিদেশি প্রতিনিধিদের সঙ্গে অন্যান্য কমিউনিস্ট শীর্ষ নেতাদের দেখা মিলতে শুরু করে।
শীর্ষ গোয়েন্দা সূত্র জানাচ্ছে, শি জিনপিংয়ের অনুপস্থিতি এমন কিছু অস্বাভাবিক ঘটনা নয়। চিন এভাবেই শীর্ষ নেতাদের হঠাৎই অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেয়। এটাই সেদেশের প্রচলিত রীতি। এই পদ্ধতিও অত্যন্ত চেনা। কাগজেকলমে শীর্ষ নেতার নাম থাকলেও ক্ষমতা চুপিসারে চলে যায় অন্যত্র।
সে কারণেই গত ২১ মে থেকে ৫ জুন পর্যন্ত শিয়ের গরহাজিরা আলোচনায় ধুনো দিতে শুরু করে যে, চিনের কমিউনিস্ট পার্টিতে কি ক্ষমতা হস্তান্তরিত হতে শুরু করেছে? শি এমনিতে দলের সাধারণ সম্পাদক এবং সেন্ট্রাল মিলিটারি কমিশনের চেয়ারম্যান। বিভিন্ন সংবাদে জানা যাচ্ছে, কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশনের বা লালফৌজের ফার্স্ট ভাইস চেয়ারম্যান জেনারেল ঝ্যাং ইউশিয়া চিনের ক্ষমতা অধিগ্রহণ করতে পারেন। ঝ্যাং হলেন ২৪ সদস্যবিশিষ্ট পলিটব্যুরোর প্রভাবশালী নেতা। যাঁকে পিছন থেকে সমর্থন জোগাচ্ছেন সেন্ট্রাল মিলিটারি কমিশনের শীর্ষ সদস্যরা। তাঁরা প্রত্যেকেই প্রাক্তন চিনা প্রেসিডেন্ট হু জিনতাওয়ের অত্যন্ত কাছের লোক।
সূত্রে জানা গিয়েছে, শিয়ের তুলনায় আদর্শগত অনমনীয়তার দিক থেকে এঁরা প্রত্যেকেই অত্যন্ত সহনশীল অবস্থানে রয়েছেন। ‘শি জিনপিংয়ের স্বপ্ন’, এই দৃষ্টিভঙ্গি বর্তমান প্রেসিডেন্ট স্কুলপাঠ্য করেছেন এবং ছাত্রছাত্রীদের পড়ানোও হয়। যদিও শি খাতায়কলমে অনেক পদে থাকলেও তাঁর সিংহাসন নড়ে গিয়েছে দেশের আর্থিক ও সেনা নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে। এবং সরকারি প্রচারমাধ্যমের নীরবতাও এই দাবিকে সমর্থন জোগাচ্ছে।
এতকিছুর মধ্যে শি জিনপিংয়ের পরবর্তী নেতা হিসেবে যাঁর নাম শোনা যাচ্ছে তিনি হলেন ওয়াং ইয়াং। তাঁকেই আপাতত সেইভাবে আড়াল থেকে তৈরি করা হচ্ছে। একজন টেকনোক্র্যাট ওয়াংকে ২০২২ সালে চিনের শীর্ষ পদের অন্যতম দাবিদার হিসেবে ভাবা হয়েছিল। গত কিছুকাল ধরে শিয়ের ঘনিষ্ঠ জেনারেলদের এক এক করে সরানোর প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে বোঝা যাচ্ছিল এবার জিনপিংকেও বেরনোর দরজা দেখিয়ে দিতে চলেছে কমিউনিস্ট পার্টি।
সেই বছরেই দলের ২০-তম সম্মেলনে প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট হু জিনতাওকে একলপ্তে টেনে নামিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এই ঘটনা যখন ঘটেছিল শি জিনপিং তখন হু জিনতাওয়ের পাশেই চুপ করে বসেছিলেন। হু তাঁর সঙ্গে কথা বলতে গেলেও তিনি বলেননি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের অবশ্যই ভয় পাওয়ার যথেষ্ট কারণ আছে। বিশেষ করে চিন বরাবরই অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা ঢাকতে বাইরের অর্থাৎ বিদেশনীতিতে চাপ সৃষ্টি করে। তাঁরা দৃষ্টান্ত দিয়ে বলেন, ২০১২ ও ২০২০ সালেও সীমান্ত সংঘর্ষ এরকমই ঘটনা। তাঁদের বক্তব্য, এই পরিস্থিতিতে চিন ভারতের উপর আরও বেশি করে সাইবার হামলা চালাতে পারে। যাতে করে ভারতে সমস্যা বেড়ে ওঠে। এমনকী রাষ্ট্রসঙ্ঘে পদে পদে ভারত বিরোধী বিভিন্ন খেলা খেলতে পারে চিন। কারণ চিনের প্রাচীরের ওপারে কী চলছে, তা তারা কোনওভাবেই বাইরের পৃথিবী বিশেষ করে প্রতিবেশীদের টের পেতে দিতে চায় না।