তিন দিন ধরে চিরুনি তল্লাশির পরে শনিবার পাঁচ কিলোমিটার দূরে পচ্ছামালাই এস্টেটের জঙ্গলের ভিতর থেকে উদ্ধার হয় ছোট্ট রোশনির দেহাংশ।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 21 June 2025 14:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাড়ির সামনে খেলছিল চার বছরের শিশু। আচমকাই হাজির হয় চিতাবাঘ। সোজা মুখে করে টেনে নিয়ে যায় জঙ্গলের দিকে। কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই নিয়ে যায় বলে পরিবারের কেউ টেরও পায়নি। বুধবার সন্ধ্যায় রোশনি নামের ওই শিশু নিখোঁজ হয়। হন্যে হয়ে খোঁজার পর শনিবার গভীর জঙ্গল থেকে তাঁর ছিন্নভিন্ন দেহাংশ উদ্ধার হয়। ঘটনাটি তামিলনাড়ুর কোয়েম্বাটোরের।
ভালপারাই পাহাড়ি অঞ্চলের পচ্ছামালাই এস্টেটের কাছে প্রতিদিনের মতোই বিকেলের দিকে বাড়ির উঠোনে খেলছিল শিশুটি। বাড়ির লোকজন ঘরের ভিতরই ছিল। হঠাৎ আর খুঁজে না পাওয়ায় পুলিশ খবর দেন পরিবারের সদস্যরা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন বন দফতরের আধিকারিক ও পুলিশ বাহিনী। তল্লাশি শুরু হয় আশপাশের ঘন জঙ্গলে। ব্যবহার করা হয় ড্রোন, হ্যান্ড সাপোর্টেড সার্চ লাইট, এমনকি স্নিফার ডগও।
তিন দিন ধরে চিরুনি তল্লাশির পরে শনিবার পাঁচ কিলোমিটার দূরে পচ্ছামালাই এস্টেটের জঙ্গলের ভিতর থেকে উদ্ধার হয় ছোট্ট রোশনির দেহাংশ। ঘটনা জানাজানি হতে এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
প্রসঙ্গত, গত কয়েক বছরে তামিলনাড়ুর বিভিন্ন জেলায় জঙ্গল সংলগ্ন এলাকায় মানুষের সঙ্গে বন্য জন্তুর সংঘর্ষের ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে চিতা বাঘ ও হাতির মতো বন্য প্রাণীদের গ্রামে ঢুকে পড়ার ঘটনা সামনে এসেছে বারবার। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যের বন দফতর বেশ কিছু পদক্ষেপ করেছে। কিছু সংবেদনশীল অঞ্চলে বসানো হয়েছে এআই-চালিত ক্যামেরা। যা বন্যপ্রাণীর গতিবিধি বুঝে সঙ্গে সঙ্গে সতর্ক বার্তা পাঠাতে পারে স্থানীয় বাসিন্দাদের ফোনে।
এই ঘটনার পর প্রশাসনের তরফে এলাকাবাসীকে রাতে বাইরে না বেরোতে এবং শিশুদের একা ছাড়তে নিষেধ করার বার্তা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে চিতাটিকে ধরতে বাড়ানো হয়েছে নজরদারি।
বন দফতরের এক আধিকারিক বলেন, 'ঘটনাটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। তবে গ্রামবাসীদের শান্ত থাকার আবেদন জানানো হচ্ছে। আমরা সমস্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করছি।'