চিফ জাস্টিস রেজিস্ট্রিকে নির্দেশ দিয়েছিলেন ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে যেন কোনও ব্যবস্থা না নেওয়া হয়। তবে বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া তাঁকে সাসপেন্ড করেছে।

শেষ আপডেট: 6 October 2025 17:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) ইতিহাসে এমন ঘটনা ঘটেছে কিনা তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে ওয়াকিবহাল মহলে। কিন্তু দেশের শীর্ষ আদালতের দায়ভার যাঁর কাঁধে, এহেন ঘটনায় সেই ব্যক্তির প্রতিক্রিয়া আজ দেশের কাছে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকল।
আজ সকালেই সুপ্রিম কোর্টে শুনানি চলাকালীন ভারতের চিফ জাস্টিস বি আর গাভাই (Chief Justice BR Gavai)-এর দিকে একটি জুতো ছোড়া হয়। সৌভাগ্যক্রমে জুতো বেঞ্চ পর্যন্ত পৌঁছয়নি। হামলাকারীকে সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনী গ্রেফতার করে। ঘটনায় বিন্দুমাত্র বিচলিত না হয়ে নির্বিকার থেকেই বিচারপতি গাভাই মন্তব্য করেন, 'আমি এমন বিষয়ে প্রভাবিত হই না'। শুধু তাই নয়, এরপর তিনি শুনানি কার্যক্রম অব্যাহত রাখেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, চিফ জাস্টিস আদালতে দিনের প্রথম মামলার শুনানি শুরু করলে, বৃদ্ধ ব্যক্তি 'ভারত সনাতনের অবমাননা সহ্য করবে না' বলে স্লোগান দিতে দিতে জুতো ছুড়ে তাঁর উদ্দেশে। নিরাপত্তা কর্মীরা দ্রুত তাঁকে নিয়ন্ত্রণে আনেন।
জুতো ছোড়ার সময় অভিযুক্ত ব্যক্তির কাছে প্রক্সিমিটি কার্ড ছিল, যা সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও ক্লার্কদের দেওয়া হয়। কার্ডে নাম ছিল রাকেশ কিশোর।
কী কারণে রাকেশ কিশোর এই ঘটনা ঘটালেন, সেই উদ্দেশ্য এখনও স্পষ্ট নয়। নিরাপত্তা সংস্থাগুলি তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। জানা গিয়েছে, চিফ জাস্টিস রেজিস্ট্রিকে নির্দেশ দিয়েছেন ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে যেন কোনও ব্যবস্থা না নেওয়া হয়। তবে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির অবমাননায় বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া তাঁকে সাসপেন্ড করেছে।
একজন আইনজীবী জানিয়েছেন, চিফ জাস্টিস পুরো সময়ই শান্ত ছিলেন।
শীর্ষস্থানীয় বিচারজ্ঞ ইন্দিরা জয়সিং তৎক্ষণাৎ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছিলেন, “এই ঘটনা সম্পূর্ণভাবে তদন্ত করা উচিত। অভিযুক্তের নাম প্রকাশ করা হোক এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক। এটি সুপ্রিম কোর্টের প্রতি এক স্পষ্ট জাতিগত আক্রমণ বলে মনে হচ্ছে, যা সমন্বিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সকল বিচারপতির দ্বারা নিন্দা করা উচিত। তবে, চিফ জাস্টিস গাভাই আদালতের মর্যাদা বজায় রেখে কাজ চালিয়ে যান।”
ভগবান বিষ্ণু বিষয়ে চিফ জাস্টিসের এক মন্তব্যের পরে এই ঘটনা ঘটেছে। খজুরাহোর ৭ ফুট কাটা মূর্তির পুনর্নির্মাণ সংক্রান্ত জনস্বার্থ মামলা উত্থাপনের সময় তিনি বলেন, “যাও এবং দেবতার কাছে জিজ্ঞাসা কর।” এই মন্তব্য সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় তোলে। পরবর্তীতে চিফ জাস্টিস বলেন, “আমার মন্তব্যগুলো সামাজিক মাধ্যমে ভুলভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। আমি সব ধর্মকে সম্মান করি।”
সলিসিটার জেনারেল তুষার মেহতা জানান, “সামাজিক মাধ্যমে বিষয়গুলো প্রায়ই অতিরঞ্জিত হয়ে যায়।” শীর্ষ আইনজীবী কপিল সিবালও মন্তব্য করেন, “আমরা প্রতিদিন এ ধরনের পরিস্থিতি দেখছি। সামাজিক মাধ্যম নিয়ন্ত্রণের বাইরে।”