ছত্তীসগড় হাইকোর্ট স্বামীকে ক্রমাগত অপমান করার কারণে বিবাহবিচ্ছেদ অনুমোদন করল। স্ত্রী স্বামীকে ‘পোষা ইঁদুর’ বলতেন এবং পরিবার থেকে আলাদা হতে চাপ দিতেন।

ছবি-এআই
শেষ আপডেট: 26 September 2025 16:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্বামী ও স্ত্রীর সম্পর্কে 'অমানবিকতা'র এক অস্বাভাবিক কারণ সামনে এল ছত্তীসগড় হাইকোর্টে (Chhattisgarh High Court)। সম্প্রতি আদালত একটি বিবাহবিচ্ছেদের আদেশ বহাল রেখেছে, যেখানে স্ত্রী তার স্বামীকে বাড়ি থেকে বের হতে এবং নিজের বাবা-মাকে ছাড়ার জন্য চাপ দিতেন এবং তাকে 'পালতু চুহা' (পোষা ইঁদুর) (Pet Rat) বলেও সম্বোধন করতেন। হাইকোর্ট এটিকে স্বামীর প্রতি 'নিষ্ঠুরতা' বা 'ক্রুয়েলটি' (Husband Abuse)হিসেবে গণ্য করে বিবাহবিচ্ছেদের (Divorce) পক্ষে রায় দিয়েছে।
৩৪ বছর বয়সী ওই মহিলা পারিবারিক আদালতের ২০১৯ সালের একটি রায়ের বিরুদ্ধে ছত্তীসগড় হাইকোর্টে আপিল করেছিলেন। পারিবারিক আদালত এর আগে এই একই কারণে তার স্বামীকে বিবাহবিচ্ছেদের অনুমতি দিয়েছিল।
জানা গেছে, স্বামীর প্রতি স্ত্রীর মানসিক চাপ এবং তাকে অপমানজনকভাবে 'পোষা ইঁদুর' বলে ডাকা, স্বামীকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলেছিল। এছাড়াও, স্ত্রী বারবার স্বামীকে তার বাবা-মায়ের কাছ থেকে আলাদা হয়ে থাকার জন্য চাপ দিতেন।
হাইকোর্ট নিম্ন আদালতের রায় বহাল রেখে স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, একজন স্বামীকে তার বাবা-মাকে ছেড়ে আসার জন্য বাধ্য করা বা তাকে ক্রমাগত অপমান করা 'ক্রুয়েলটি'র সমতুল্য। এই রায়ের মাধ্যমে ছত্তীসগড় হাইকোর্ট বৈবাহিক সম্পর্কে মানসিক নির্যাতন এবং পারিবারিক বন্ধনের গুরুত্ব তুলে ধরল।
৩৪ বছর বয়সী ওই মহিলা পারিবারিক আদালতের ২০১৯ সালের একটি রায়ের বিরুদ্ধে ছত্তিশগড় হাইকোর্টে আপিল করেছিলেন। পারিবারিক আদালত এর আগে এই একই কারণে তার স্বামীকে বিবাহবিচ্ছেদের অনুমতি দিয়েছিল।
জানা গেছে, স্বামীর প্রতি স্ত্রীর মানসিক চাপ এবং তাকে অপমানজনকভাবে 'পোষা ইঁদুর' বলে ডাকা, স্বামীকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলেছিল। এছাড়াও, স্ত্রী বারবার স্বামীকে তার বাবা-মায়ের কাছ থেকে আলাদা হয়ে থাকার জন্য চাপ দিতেন।
হাইকোর্ট নিম্ন আদালতের রায় বহাল রেখে স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, একজন স্বামীকে তার বাবা-মাকে ছেড়ে আসার জন্য বাধ্য করা বা তাকে ক্রমাগত অপমান করা 'ক্রুয়েলটি'র সমতুল্য। এই রায়ের মাধ্যমে ছত্তিশগড় হাইকোর্ট বৈবাহিক সম্পর্কে মানসিক নির্যাতন এবং পারিবারিক বন্ধনের গুরুত্ব তুলে ধরল।
৩৪ বছর বয়সী ওই মহিলা তাঁর স্বামীর বিবাহবিচ্ছেদের আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করেছিলেন। পারিবারিক আদালত ২০১৯ সালের ২৩ আগস্ট সেই বিবাহবিচ্ছেদের আদেশ দিয়েছিল। ২০০৯ সালে এই দম্পতির বিয়ে হয় এবং ২০১০ সালে তাদের একটি পুত্রসন্তান জন্ম নেয়।
স্বামী অভিযোগ করেন যে, তাঁর স্ত্রী ক্রমাগত তাঁকে বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে উস্কে দিতেন এবং শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে আলাদা থাকার জন্য চাপ দিতেন। স্বামী এই দাবি মানতে অস্বীকার করলে স্ত্রী আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন এবং শারীরিক নির্যাতনও করেন।
এছাড়াও, স্ত্রী তাঁকে বাবার-মায়ের বাধ্য হওয়ার কারণে অপমানজনকভাবে 'পোষা ইঁদুর' বলে ডাকতেন। স্বামী আরও দাবি করেন, ২০১০ সালের ২৪ আগস্ট তাঁর স্ত্রী 'তীজা' উৎসবের জন্য বাপের বাড়ি যাওয়ার পর আর ফেরেননি এবং তাদের নবজাতক পুত্রের কোনও অনুষ্ঠানেও তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।
অন্যদিকে, স্ত্রী সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন যে, শ্বশুরবাড়ির লোকেরা কখনোই তাঁকে পরিবারের সদস্য হিসেবে মেনে নেননি। তিনি আরও অভিযোগ করেন, তাঁর স্বামী মানসিকভাবে ও আর্থিকভাবে তাঁর প্রতি উদাসীন ছিলেন, আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার করতেন এবং প্রায়শই নেশাগ্রস্ত থাকতেন। তিনি সহবাসের চেষ্টা করলেও স্বামী অস্বীকার করতেন, কারণ তিনি বিবাহবিচ্ছেদ চাইতেন।
উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর বিচারপতি রজনী দুবে এবং অমিত্রেন্দ্র কিশোর প্রসাদের সমন্বয়ে গঠিত ছত্তীসগঢ় হাইকোর্টের বেঞ্চ পারিবারিক আদালতের আদেশটি বহাল রাখে এবং স্ত্রীর আপিল খারিজ করে দেয়।
তবে, আদালত স্বামীকে নির্দেশ দিয়েছে যে, তিনি যেন স্ত্রীকে স্থায়ী ভরণপোষণ হিসেবে ছয় মাসের মধ্যে ৫ লক্ষ টাকা দেন। এছাড়া, তাঁকে প্রতি মাসে স্ত্রীর জন্য ১,০০০ টাকা এবং ছেলের জন্য ৬,০০০ টাকা রক্ষণাবেক্ষণ বাবদ দিতে হবে। উল্লেখ্য, এই মামলার শুনানিতে জানা যায় যে, স্ত্রী প্রতি মাসে ৪৬,৯৪১ টাকা এবং স্বামী ৩৫,০০০ টাকা আয় করেন।