শনিবার ভোর থেকে শুরু হওয়া অভিযানে সুকমা জেলায় ১২ জন এবং সংলগ্ন বিজাপুর জেলায় আরও ২ জন মাওবাদীকে খতম করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সুকমার দক্ষিণ বনাঞ্চলে সকাল প্রায় ৮টা নাগাদ প্রথম গুলির লড়াই শুরু হয়।
শেষ আপডেট: 3 January 2026 13:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ছত্তীসগড়ের বস্তার এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে পৃথক সংঘর্ষে অন্তত ১৪ জন মাওবাদী নিহত হয়েছে। শনিবার ভোর থেকে শুরু হওয়া অভিযানে সুকমা জেলায় ১২ জন এবং সংলগ্ন বিজাপুর জেলায় আরও ২ জন মাওবাদীকে খতম করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গোপন সূত্রে মাওবাদীদের উপস্থিতির খবর পেয়ে জেলা সংরক্ষিত বাহিনী (ডিআরজি)-এর নেতৃত্বে এই অভিযান শুরু হয়। সুকমার দক্ষিণ বনাঞ্চলে সকাল প্রায় ৮টা নাগাদ প্রথম গুলির লড়াই শুরু হয়। এরপর থেকে এলাকায় টানা তল্লাশি ও চিরুনি অভিযান চালানো হচ্ছে।
এক শীর্ষ পুলিশ আধিকারিক জানান, অভিযানের সময় মাঝেমধ্যে গুলির লড়াই চলছে এবং নিরাপত্তা বাহিনী ধারাবাহিক তল্লাশি বজায় রেখেছে। এখন পর্যন্ত বাহিনীর কোনও সদস্য হতাহত হননি। অভিযানের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে আগ্নেয়াস্ত্র ও অন্যান্য মাওবাদী সামগ্রী উদ্ধার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
অভিযানের গুরুত্বের কথা মাথায় রেখে সংঘর্ষের নির্দিষ্ট স্থান বা বাহিনীর সদস্য সংখ্যা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। এক পুলিশ কর্তা বলেন, অভিযান এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে। অভিযানে থাকা জওয়ানদের নিরাপত্তার স্বার্থেই কিছু তথ্য আপাতত গোপন রাখা হয়েছে। অভিযান শেষ হলে এবং এলাকা পুরোপুরি মুক্ত হলে নিহত মাওবাদীদের পরিচয়, উদ্ধার হওয়া অস্ত্রশস্ত্র এবং অভিযানের বিস্তারিত খতিয়ান প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন আধিকারিকরা।
এর পাশাপাশি সুকমা জেলার কিস্তারাম থানা এলাকার গভীর জঙ্গলেও ডিআরজি বাহিনীর সঙ্গে পৃথক সংঘর্ষে ১২ জন মাওবাদী নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছেন জেলার পুলিশ সুপার কিরণ চ্যবন। ওই এলাকা থেকে স্বয়ংক্রিয় আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের কথাও জানিয়েছেন তিনি। আশপাশের বনাঞ্চলে পালিয়ে যাওয়া মাওবাদীদের খোঁজে ব্যাপক তল্লাশি চলছে। বস্তার ডিভিশন দীর্ঘদিন ধরেই মাওবাদীদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত।
তবে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে রাজ্য পুলিশ, ডিআরজি এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর সমন্বিত অভিযানে ওই অঞ্চলে মাওবাদী সংগঠনগুলি উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল হয়েছে বলে মনে করছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা। চলতি অভিযানে আরও বাহিনী মোতায়েন করে এলাকা ঘিরে ফেলা হয়েছে, যাতে কোনওভাবেই জঙ্গিরা পালাতে না পারে। এই সাফল্যকে রাজ্যে বাম চরমপন্থা দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর ধারাবাহিক ও পরিকল্পিত অভিযানের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক বলেই মনে করছে প্রশাসন।