শুরু হয় তর্কাতর্কি। দু’পক্ষই মোবাইলে ভিডিও রেকর্ড করতে শুরু করেন। সেই সময়ই মহিলার প্রশ্নের উত্তরে পুলিশের বিতর্কিত মন্তব্যটি ধরা পড়ে ক্যামেরায়।

অভিযুক্ত পুলিশ কর্মী
শেষ আপডেট: 26 August 2025 13:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাত ১২টার পর বেরোবেন না, তাহলে হয়রানি হতে পারে! কোনও রাজনৈতিক নেতা বা প্রতিবেশীর নিদান নয় - এক তরুণীকে এই যুক্তি দিয়েছেন খোদ পুলিশকর্মী (Police Officer)! চেন্নাই পুলিশের (Chennai Police) এক অফিসারের মন্তব্যে এখন বিতর্ক শুরু হয়েছে।
চেন্নাইয়ের তিরুবনন্তপুরমে এক মহিলাকে উদ্দেশ করে স্থানীয় পুলিশকর্মী যে মন্তব্যে করেছেন তা সোশ্যাল মিডিয়ায় (Social Media) ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে ধরা পড়েছে। তাতে শোনা যায়, কার্তিক নামের ওই পুলিশকর্মী এক মহিলাকে বলছেন - “রাত ১২টার পর এভাবে রাস্তায় বেরোলেই হয়রানি হয়।”
স্থানীয় সূত্রে খবর, দীর্ঘ ২০ বছর ধরে রাস্তায় পথকুকুরদের খাবার দিয়ে আসছেন ওই মহিলা। শুক্রবার গভীর রাতে তাঁকে আটকে প্রশ্ন তোলেন দুই পুলিশকর্মী। অভিযোগ, কার্তিক নামের ওই পুলিশ কর্মী মহিলাকে কুকুরদের খাবার দেওয়া বন্ধ করতে বলেন। তাঁর দাবি, টানা চার দিন খাবার না দিলে কুকুররা আপনিই চলে যাবে।
Chennai cop to woman: “The reason harassment happens is because you roam around like this after 12 am.”
The remark came after the police objected to the woman feeding stray dogs outside her home late at night.#thiruvanmiyur #ChennaiPolice #Chennai pic.twitter.com/8zbpYHavFT— Anagha Kesav (@anaghakesav) August 25, 2025
এই নিয়েই শুরু হয় তর্কাতর্কি। দু’পক্ষই মোবাইলে ভিডিও রেকর্ড করতে শুরু করেন। সেই সময়ই মহিলার প্রশ্নের উত্তরে পুলিশের বিতর্কিত মন্তব্যটি ধরা পড়ে ক্যামেরায়। ভিডিও ভাইরাল হতেই নেটমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে ক্ষোভ। সমালোচকরা জানান, এ ধরনের মন্তব্য আসলে ভুক্তভোগীকেই দায়ী করার এক রকম মানসিকতা, যা একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়।
বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছে তিরুবনন্তপুরম থানাও। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হয়েছে। যদিও আপাতত কার্তিকের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তদন্তে জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি দাবি করেন, তিনি আসলে 'অ্যারেস্ট' শব্দটি ব্যবহার করেছিলেন, 'হ্যারাসমেন্ট' নয়। তাঁর বক্তব্য, রাত ১২টার পর রাস্তায় বের হলে আইনি জটিলতায় পড়তে হতে পারে বলেই মহিলাকে সতর্ক করেছিলেন।
তবে ভিডিওতে স্পষ্টভাবে 'হ্যারাসমেন্ট' শব্দটি ধরা পড়েছে। তা নিয়েই উঠেছে বিতর্ক। স্থানীয়দের অভিযোগ, পুলিশের দায়িত্ব মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, কাউকে ভয় দেখানো বা ভুক্তভোগীকেই দায়ী করা নয়।
এখনও পর্যন্ত পুলিশের পক্ষ থেকে ওই সদস্যের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ না নেওয়ায় ক্ষোভ আরও বাড়ছে। নেটিজেনদের একাংশের বক্তব্য, আইনরক্ষক যখন এই ধরনের মন্তব্য করেন, তখন তা সমাজে ভুল বার্তা ছড়িয়ে দেয়।