গোটা দেশ যখন এই অসাধ্যকে সাধন করার সাফল্যে উচ্ছ্বসিত, তখন এই সেতু তৈরির নেপথ্যে থাকা অন্যতম মুখ বলছেন, ‘অনুগ্রহ করে আমাকে অহেতু বিখ্যাত করবেন না।’

চেনাব ব্রিজের সামনে প্রফেসর জি মাধবী লতা
শেষ আপডেট: 10 June 2025 13:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু রেল সেতু—জম্মু-কাশ্মীরের চেনাব রেলব্রিজ (Chenab Bridge) উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। গোটা দেশ যখন এই অসাধ্যকে সাধন করার সাফল্যে উচ্ছ্বসিত, তখন এই সেতু তৈরির নেপথ্যে থাকা অন্যতম মুখ বলছেন, ‘অনুগ্রহ করে আমাকে অহেতু বিখ্যাত করবেন না।’
ড: জি মাধবী লতা (Professor G Madhavi Latha)। বেঙ্গালুরুর ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্সের (IISc) এইচএজি অধ্যাপিকা। সেতুর নির্মাতা সংস্থা আফকনস-এর ভূগর্ভস্থ প্রকৌশল বিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে ১৭ বছর ধরে যুক্ত ছিলেন চেনাব সেতু প্রকল্পে। স্লোপ স্টেবিলেশন থেকে শুরু করে পাহাড়ি অঞ্চলে ভিত নির্মাণের নকশা তৈরিতে ছিল তাঁরই অবদান।
কিন্তু একক ‘নায়িকা’ হিসেবে তাঁর নামে চর্চা শুরু হতেই মুখ ভার হয়েছে লতার। একাধিক সংবাদপত্র তাঁকে যখন ‘the woman behind the mission’ এবং ‘miracle worker’ বলে প্রচার করছে, তখন লতাও বুঝিয়ে দিতে চাইছেন, তাঁকে যেন খামোখা বিখ্যাত না করা হয়। তাঁর কথায়, "আমি তো হাজার হাজার মানুষের মধ্যে থেকে একজন মাত্র। এই সেতু নির্মাণে যাঁদের অবদান রয়েছে, সবাই প্রশংসার দাবিদার।"
এ ব্যাপারে লিঙ্কডইনে একটি পোস্টও করেছেন তিনি। যেখানে লতা লিখেছেন, “অনেক বাবা লিখেছেন, তাঁরা চান তাঁদের মেয়েরা আমার মতো হোক। অনেক ছোট ছোট ছেলে-মেয়ে জানিয়েছে, তারা এখন সিভিল ইঞ্জিনিয়ার হতে চায়। এসব শুনে খুব ভাল লাগছে। তবে সমস্ত কৃতিত্বই ভারতীয় রেল এবং আফকনসের। অসম্ভবকে সম্ভব করেছে ওরাই।”
‘ডিজাইন অ্যাজ ইউ গো’ পদ্ধতি—যে পথে এগিয়েছে সেতু নির্মাণ
উধমপুর-শ্রীনগর-বারামুলা রেল প্রকল্পের অংশ হিসেবে তৈরি হয়েছে চেনাব সেতু। কঠিন ভূপ্রকৃতি, ভূমিকম্প প্রবণ অঞ্চল, আর অনিশ্চিত মাটির গঠন—সব মিলিয়ে এই প্রোজেক্ট ছিল অত্যন্ত জটিল। সেখানে ভূমিখণ্ডে ফাটল, গোপন গহ্বরের মতো সমস্যার মুখে দাঁড়িয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল নির্মাণকারী দলকে।
এই সময়েই লতার নেতৃত্বে 'design-as-you-go' শুরু হয়। অর্থাৎ, আগাম পরিকল্পনার বাইরে গিয়ে বাস্তব মাটির পরিস্থিতি বুঝে-শুনে কাজ চলত। পাথরের খুঁটি গাঁথা থেকে শুরু করে ঢালের স্থায়িত্বের নকশা, প্রতিটি ধাপে প্রযুক্তির প্রয়োগ ছিল অত্যন্ত সূক্ষ্ম।
সম্প্রতি একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগ দিতে স্পেনে গিয়েছেন লতা। সেখান থেকেই তিনি জানিয়েছেন, “চেনাব সেতু আমার জীবনের সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং ও আনন্দের প্রকল্প। কিন্তু এটা শুধু আমার একার গল্প নয়। হাজার হাজার ভারতীয় ইঞ্জিনিয়ার, শ্রমিক, প্রযুক্তিবিদের সম্মিলিত জয়।”
চন্দ্রভাগা নদীর ৩৫৯ মিটার ওপর দিয়ে যাওয়া এই চেনাব সেতুটি আজ শুধু ভারতের নয়, গোটা বিশ্বের কাছে প্রযুক্তির এক অনন্য দৃষ্টান্ত। আর তার নেপথ্যে যাঁরা ছিলেন, তাঁদের শ্রদ্ধা জানিয়ে লতার শুধু একটাই কথা—“আমি তো নিমিত্ত মাত্র। বাকিরাও সমান কৃতিত্বের অধিকারী।”