
মহাকাশেই ধ্বংস হয়ে যেতে পারত চন্দ্রযান ৩ - ফাইল চিত্র
শেষ আপডেট: 29 April 2024 19:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে অবতরণ করতে সক্ষম হয়েছে ভারত। সৌজন্যে চন্দ্রযান ৩। ২০২৩ সালের ২৩ আগস্ট ইতিহাস তৈরি করেছিলেন ইসরোর বিজ্ঞানীরা। চাঁদে সফল অবতরণের আগে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে ভারতকে। কিন্তু চন্দ্রযান ৩-এর সাফল্যও হয়তো আসত না। চাঁদে নামা তো দূর, মহাকাশেই চিরতরে হারিয়ে যেতে পারত চন্দ্রযান! কীভাবে তাকে বাঁচাল ইসরো?
মহাকাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে একাধিক উপগ্রহর ধ্বংসাবশেষ। এমনই এক ধ্বংসাবশেষের একটি টুকরোর সঙ্গে টক্কর হতে পারত চন্দ্রযান ৩-এর। কিন্তু তা হয়নি শুধুমাত্র ইসরোর বিজ্ঞানীদের তৎপরতায়। শ্রীহরিকোটার ‘সতীশ ধাওয়ান স্পেস সেন্টার’ থেকে এই অভিযান শুরুর কয়েক মুহূর্ত আগে বিরাট এক সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ইসরো। তার ফলেই কোনও দুর্ঘটনা ঘটেনি। সঠিক পদক্ষেপ করে চন্দ্রযান ৩-এর উৎক্ষেপণ করতে সক্ষম হয়েছিলেন বিজ্ঞানীরা।
ইসরোর সাম্প্রতিক এক রিপোর্ট বলছে, চন্দ্রযান ৩ ঠিক যে সময়ে উৎক্ষেপণ হওয়ার কথা ছিল, তার থেকে ৪ সেকেন্ড পর তাকে উৎক্ষেপণ করা হয়। এই দেরির জন্যই বেঁচে যায় চন্দ্রযান! বিজ্ঞানীরা আন্দাজ করতে পেরেছিলেন, নির্ধারিত সময়ে চন্দ্রযান ৩ উৎক্ষেপণ করা হলে তার গতিপথে চলে আসতে পারে কোনও এক উপগ্রহর ধ্বংসাবশেষের টুকরো। তার সঙ্গে সংঘর্ষ হলে নিমেষেই টুকরো টুকরো হয়ে যেত চন্দ্রযান ৩।
মারাত্মক এই বিষয়টি বুঝতে পেরেই সঙ্গে সঙ্গে উৎক্ষেপণের গোটা প্রক্রিয়াটি ৪ সেকেন্ডের জন্য পিছিয়ে দেন ইসরোর বিজ্ঞানীরা। খাতায়-কলমে হিসেব করে দেখা যায়, ৪ সেকেন্ড পর প্রক্রিয়া শুরু করলে এই সংঘর্ষ আটকানো সম্ভব। তারপর চন্দ্রযান ৩-এর আর কোনও বাধা আসবে না গোটা যাত্রাপথে। এই সিদ্ধান্তের কারণেই ইতিহাস তৈরি থেকে বঞ্চিত হয়নি দেশ।
আপাত দৃষ্টিতে ৪ সেকেন্ড সামান্য মনে হলেও এই ধরনের পরিস্থিতিতে ১ সেকেন্ডও ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ বলে জানিয়েছে ইসরো।
চন্দ্রযান ৩ অভিযান সফল হওয়ায় চাঁদে মহাকাশযান অবতরণ করানো দেশের তালিকায় চতুর্থ স্থানে নাম লিখিয়ে নিয়েছে ভারত। এর আগে আছে আমেরিকা, রাশিয়া এবং চিন। তবে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে প্রথম অবতরণের কৃতিত্ব ভারত একাই পাবে। কারণ এতদিন সেখানে কোনও দেশই মহাকাশযান অবতরণ করাতে পারেনি।
চাঁদের দক্ষিণ মেরুর যে জায়গায় চন্দ্রযান ৩-এর ল্যান্ডার 'বিক্রম' নেমেছিল, সেই জায়গাকে 'শিবশক্তি' পয়েন্ট নামে ঘোষণা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেই ঘোষণার ৭ মাস পর ওই নামটিকে অনুমোদন দেয় ইন্টারন্যাশনাল অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল ইউনিয়ন বা আইএইউ। এবার থেকে ২৩ আগস্ট দিনটিকে 'জাতীয় স্পেস দিবস' হিসেবেও মানা হবে।