বোতলের বাড়তি দামেই আবারও জিএসটি নেওয়া হয়েছে, যা গ্রাহককে আরও ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। কমিশন স্পষ্ট করে, স্বচ্ছ পানীয় জল মানুষের মৌলিক প্রয়োজন; সেটির ওপর অতিরিক্ত মুনাফা নেওয়া জনস্বার্থবিরোধী।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 11 January 2026 13:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জলের বোতলের দাম এমআরপি-র তুলনায় ৩৫ টাকা বেশি নেওয়ার মাশুল গুনতে হল চণ্ডীগড়ের এক রেস্তরাঁকে (Chandigarh restaurant fine)। আড়াই বছর আগে সেখানে খেতে গেছিলেন এক মহিলা। মোট বিল হয়েছিল ১ হাজার ৯২২ টাকা। হঠাৎ চোখে পড়ে ২০ টাকার এমআরপি-র প্যাকেজড জলের বোতলের জন্য রেস্তরাঁ নিয়েছে ৫৫ টাকা। পুরো ঘটনাটি সামনে আসতেই প্রশ্ন ওঠে, এমআরপি থাকা সত্ত্বেও কীভাবে একটি রেস্তরাঁ ইচ্ছেমতো দাম নিতে পারে (Water bottle overcharge)? অবশেষে এই অভিযোগ গড়ায় উপভোক্তা আদালতে এবং অভিযুক্ত রেস্তরাঁর বিরুদ্ধে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঘটনাটি ২০২৩ সালের ১২ ডিসেম্বর। অভিযোগকারী স্মিতা খান্না প্রথমে জেলা ভোক্তা কমিশনে অভিযোগ করেন (Packaged water price case)। কিন্তু অভিযোগ খারিজ হওয়ায় তিনি রাজ্য কমিশনের দ্বারস্থ হন এবং নিজেই আইনজীবী ছাড়া নিজের মামলা লড়েন। শুনানিতে রেস্তরাঁর পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হয়, গ্রাহকদের যে ‘এম্বিয়েন্স’, এসি, বসার জায়গা, পরিষেবা ইত্যাদির সুযোগ দেওয়া হয়, তার জন্য জলের বোতলের দাম বেশি নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, পরিবেশ ও পরিষেবার খরচ মেটাতেই অতিরিক্ত দাম নেওয়া হয়েছে বলে দাবি তাদের।
তবে চণ্ডীগড় স্টেট কনজিউমার ডিসপিউটস রেডরেসাল কমিশন এই যুক্তি সরাসরি খারিজ করে দেয়। কমিশন জানায়, রেস্তরাঁ তাদের খাবারের মেনুর দাম নিজের মতো ঠিক করতে পারে ঠিকই; কিন্তু প্যাকেটজাত কোনও পণ্যের ক্ষেত্রে এমআরপি-ই চূড়ান্ত (Chandigarh restaurant fine)। সেই পণ্যের জন্য মেনুর মতো আলাদা দাম ধার্য করা যায় না। এমআরপি-র ওপরে দাম নেওয়া আইনগতভাবে সম্পূর্ণ বেআইনি।
কমিশন ২০১১ সালের ‘লিগ্যাল মেট্রোলজি (প্যাকেজড কমোডিটিজ) রুলস’-এর উল্লেখ করে জানায়, যে কোনও প্যাকেটজাত পণ্যের এমআরপি-তে সমস্ত কর, প্যাকেজিং খরচ এবং খুচরো বিক্রেতার মার্জিন যুক্ত থাকে। ফলে সেই মূল্য অতিক্রম করে বিক্রি করলে সেটা সরাসরি আইনভঙ্গ।
রায়দানে আরও বলা হয়, রেস্তরাঁ অন্য খাবারের দাম মেনু অনুযায়ী নিলেও জলের বোতলের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত চার্জ নিয়েছে, যা ভোক্তা সুরক্ষা আইনের চোখে ‘অন্যায্য ব্যবসায়িক আচরণ’। এমনকি বোতলের বাড়তি দামেই আবারও জিএসটি নেওয়া হয়েছে, যা গ্রাহককে আরও ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। কমিশন স্পষ্ট করে, স্বচ্ছ পানীয় জল মানুষের মৌলিক প্রয়োজন; সেটির ওপর অতিরিক্ত মুনাফা নেওয়া জনস্বার্থবিরোধী।
শেষ পর্যন্ত ২০২৫ সালের ৯ ডিসেম্বর কমিশন রেস্তরাঁকে নির্দেশ দেয়, অতিরিক্ত নেওয়া ২৫ টাকা গ্রাহককে ফেরত দিতে হবে, সঙ্গে মানসিক হয়রানি ও অন্যায্য ব্যবসার জন্য ৩ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে (Chandigarh restaurant fine)। ৩০ দিনের মধ্যে টাকা ফেরত না দিলে সুদ প্রযোজ্য হবে।
এই রায় স্পষ্ট করে দিল, রেস্তরাঁর পরিষেবা যতই বিলাসবহুল হোক, প্যাকেটজাত পণ্যের ক্ষেত্রে এমআরপি-র বেশি দাম নেওয়া যাবে না।