দোষী সাব্যস্তের হার দাঁড়িয়েছে ৯২ শতাংশ, যেখানে পুরনো ভারতীয় দণ্ডবিধি ও ফৌজদারি কার্যবিধির অধীনে এই হার ছিল মাত্র ৫০-৬০ শতাংশ।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 14 September 2025 16:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চণ্ডীগড়ে ফৌজদারি মামলার (Chandigarh Criminal cases) রায় নিষ্পত্তির গড় সময় এখন থেকে ১০০ দিনেরও কম। নতুন ফৌজদারি আইন কার্যকর হওয়ার ফলে বিচার ব্যবস্থায় এই আমূল পরিবর্তন এসেছে (speedy trials)।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (Bharatiya Nyaya Sanhita) অনুযায়ী মোট ১৬৪ মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৫১টিতে দোষী সাব্যস্ত হয়েছে অভিযুক্তরা, আর মাত্র ১৩টিতে খালাস পেয়েছে অভিযুক্ত। অর্থাৎ দোষী সাব্যস্তের হার (conviction rate) দাঁড়িয়েছে ৯২ শতাংশ, যেখানে পুরনো ভারতীয় দণ্ডবিধি ও ফৌজদারি কার্যবিধির অধীনে এই হার ছিল মাত্র ৫০-৬০ শতাংশ।
গড়পড়তা মামলার রায় ঘোষণার সময় এখন মাত্র ৯৩ দিন। এমনকী কিছু ক্ষেত্রে আরও দ্রুত বিচার হয়েছে এমন নজিরও দেখেছে চণ্ডীগড় আদালত। উদাহরণস্বরূপ, গত বছরের নভেম্বরে নথিভুক্ত একটি ছিনতাইয়ের মামলা মাত্র ১৮ দিনের মধ্যেই শেষ হয়ে যায়। শস্তি হিসেবে, অভিযুক্ত দুই জনকে এক বছরের কড়া কারাদণ্ড ও জরিমানা করা হয়েছে।
২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরের একটি শ্লীলতাহানির মামলার রায়ও দ্রুত দেওয়া হয়। অভিযুক্ত রজত শর্মাকে প্রায় পাঁচ মাসের মধ্যে (প্রায় ১৫০ দিনে) দোষী সাব্যস্ত করা হয়।
চণ্ডীগড়ের সিনিয়র এসএসপি কনওয়ারদীপ কৌর জানান, নতুন আইনের অধীনে সময়সীমা নির্দিষ্ট হওয়ায় চার্জ গঠন থেকে রায় ঘোষণার প্রক্রিয়া দ্রুত হচ্ছে। পাশাপাশি ফরেনসিক ও ডিজিটাল প্রমাণের উপর বেশি নির্ভর করায় বিচারের প্রক্রিয়া অনেক সহজ হয়ে উঠেছে।
তিনি আরও বলেন, “তল্লাশি ও বাজেয়াপ্ত প্রক্রিয়া এখন অডিও-ভিডিও রেকর্ড করা হয়, সব প্রমাণ সময় ও জিও-স্ট্যাম্পযুক্ত থাকে। ফলে প্রমাণে কারচুপি রোধ সম্ভব হয়েছে এবং আদালতে সহজেই তা গ্রহণযোগ্য হয়।”
বলাই বাহুল্য, চণ্ডীগড় আদালতের এই দৃষ্টান্ত বিচার ব্যবস্থায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে, যা দেশব্যাপী দ্রুত বিচারের রোল মডেল হতে পারে।