রায়ে উল্লেখ করা হয়, একাধিক তলব ও ওয়ারেন্ট জারি সত্ত্বেও অভিযোগকারিণী আদালতে হাজির হননি।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 11 September 2025 19:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্ত্রীর দায়ের করা নিষ্ঠুরতার মামলায় দীর্ঘ এক দশকের আইনি লড়াইয়ের পর বেকসুর খালাস পেলেন অপারেশন সিঁদুরের (Operation Sindoor) অংশ এক সেনা মেজর (Army Major)। মুম্বইয়ের (Mumbai) এসপ্ল্যানেড ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট ওই সেনা অফিসার ও তাঁর বাবা-মাকে সব অভিযোগ থেকে মুক্তি দিয়েছে।
হিমাচল প্রদেশের বাসিন্দা ওই মেজরের সঙ্গে দিল্লিতে ২০১২ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন অভিযোগকারিণী। পরে অফিসারের মুম্বই পোস্টিং হওয়ার পর দাম্পত্য সম্পর্কে তিক্ততা দেখা দেয়। এরপর ওই মহিলা তাঁর স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের বিরুদ্ধে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ আনেন এবং মামলা দায়ের করেন।
অভিযোগে তিনি দাবি করেন, স্বামী তাঁর উপর শারীরিক অত্যাচার চালাতেন এবং মানসিক যন্ত্রণাও দিতেন। এমনকী পুনেতে সম্পত্তি কেনার জন্য ১৫ লক্ষ টাকাও দাবি করেছিলেন। আরও অভিযোগ, যৌথ লকারে রাখা গয়না তিনি ফ্রিজ করে দেন।
শ্বশুর-শাশুড়ির বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, গর্ভাবস্থায় তাঁকে সঠিক খাবার বা চিকিৎসা দেওয়া হয়নি এবং বাড়ির কাজ করতে বাধ্য করা হত। তিনি আরও জানান, শ্বশুর উপহার হিসেবে পাওয়া সোনার আংটি ফিরিয়ে দিয়েছিলেন।
মেজরের আইনজীবী সুনীল পাণ্ডে আদালতে জানান, অভিযোগকারিণীর দাবি বিশ্বাসযোগ্য নয়, কারণ অভিযোগ দায়েরের পর তিনি আর আদালতে হাজির হননি। তিনি জানান, মেজর ইতিমধ্যেই দিল্লিতে বিবাহবিচ্ছেদের মামলা করেছিলেন এবং গত বছর ডিক্রি জারি হয়। এদিকে ওই মহিলা সামরিক আদালতেও স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন এবং রক্ষণাবেক্ষণ বাবদ গত দশ বছরে প্রায় ৪০ লক্ষ টাকা পান। পরে মেজর আদালতে ডিক্রির কপি জমা দিলে সামরিক আদালত রক্ষণাবেক্ষণের আদেশ প্রত্যাহার করে।
আইনজীবী আরও বলেন, মেজর নিজেও স্ত্রীর হাতে আঘাত পেয়েছিলেন বলে ফটোগ্রাফ জমা দেওয়া হয়।
সব দিক পর্যালোচনা করে আদালত মেজর ও তাঁর বাবা-মাকে সব অভিযোগ থেকে মুক্তি দেয়। রায়ে উল্লেখ করা হয়, একাধিক তলব ও ওয়ারেন্ট জারি সত্ত্বেও অভিযোগকারিণী আদালতে হাজির হননি।