গত বছরের ২৬ সেপ্টেম্বর লেহ জেলার প্রশাসকের নির্দেশে সোনম ওয়াংচুককে জাতীয় নিরাপত্তা আইনের আওতায় আটক করা হয়েছিল। সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, উস্কানিমূলক মন্তব্যের জেরে জনতা উত্তেজিত হয়ে ওঠে এবং তা থেকে আইনশৃঙ্খলার সমস্যা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়।

সোনম ওয়াংচুক
শেষ আপডেট: 14 March 2026 19:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রায় ছয় মাস বন্দি থাকার পর মুক্তি পেলেন লাদাখের পরিবেশকর্মী (Ladakh Activist) সোনম ওয়াংচুক (Sonam Wangchuk)।
শনিবার যোধপুরের কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়। তার কয়েক ঘণ্টা আগেই জাতীয় নিরাপত্তা আইনের আওতায় তাঁর বিরুদ্ধে জারি করা নির্দেশ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয়। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক শুক্রবার এক বিবৃতিতে জানায়, পরিস্থিতি বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
জানা গিয়েছে, কারাগার থেকে বেরোনোর সময় সোনমের জন্য অপেক্ষা করছিলেন তাঁর স্ত্রী গীতাঞ্জলি জে আংমো। সব আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর দুপুর প্রায় ১টা নাগাদ স্ত্রীর সঙ্গে একটি ব্যক্তিগত গাড়িতে চেপে তিনি জেল চত্বর ছাড়েন।
ওয়াংচুকের মুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন রাজস্থানের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলত। তবে একই সঙ্গে তিনি এই পুরো ঘটনাকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।
সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ এক পোস্টে গেহলত লেখেন, যিনি এক সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নীতিকে সমর্থন করেছিলেন, লাদাখের অধিকার এবং পরিবেশ রক্ষার দাবি তুলতেই তাঁকে কঠোর এনএসএ আইনে গ্রেফতার করা হয়েছিল, এটা যথেষ্টই পরিহাসের বিষয়।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, কয়েক মাস আগে যাকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি বলা হয়েছিল, হঠাৎ তাঁকে কীভাবে মুক্তি দেওয়া হল। এর অর্থ কি তাঁর বিরুদ্ধে কোনও প্রমাণই ছিল না?
গেহলত আরও জানতে চান, ওয়াংচুক যে প্রায় ১৭০ দিন আটক ছিলেন তার দায় কে নেবে এবং তাঁকে আদৌ কেন গ্রেফতার করা হয়েছিল।
তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক সুবিধা অনুযায়ী যদি জাতীয় নিরাপত্তার সংজ্ঞা বদলে যায়, তবে তা গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলির বিশ্বাসযোগ্যতার জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। তাঁর কথায়, “এই ধরনের স্বেচ্ছাচারী মানসিকতা নিয়ে আইনের সুবিধামতো ব্যবহার অত্যন্ত নিন্দনীয়।”
গত বছরের ২৬ সেপ্টেম্বর লেহ জেলার প্রশাসকের নির্দেশে সোনম ওয়াংচুককে জাতীয় নিরাপত্তা আইনের আওতায় আটক করা হয়েছিল। সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, উস্কানিমূলক মন্তব্যের জেরে জনতা উত্তেজিত হয়ে ওঠে এবং তা থেকে আইনশৃঙ্খলার সমস্যা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়।
এই ঘটনার কয়েক দিন আগেই লাদাখে অশান্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। রাজ্যের মর্যাদা এবং সাংবিধানিক সুরক্ষার দাবিতে ২৪ সেপ্টেম্বর এলাকায় বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। সেই আন্দোলন ঘিরে হিংসার ঘটনায় চারজনের মৃত্যু হয় এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য-সহ প্রায় পঞ্চাশ জন আহত হন। তার পরেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসন কড়া পদক্ষেপ নেয়।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, লেহ শহরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তখন অত্যন্ত উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছিল। সেই প্রেক্ষিতেই জনশৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে সোনম ওয়াংচুককে আটক করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে ইতিমধ্যেই তিনি আটক অবস্থায় প্রায় অর্ধেক সময় কাটিয়েছেন।
মন্ত্রকের দাবি, লাদাখের মানুষের দাবি ও উদ্বেগের বিষয়গুলি নিয়ে কেন্দ্র নিয়মিতভাবে বিভিন্ন সামাজিক প্রতিনিধি এবং স্থানীয় নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে চলা বন্ধ এবং বিক্ষোভের আবহে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত হয়েছে।
সরকারের মতে, এই পরিস্থিতির ফলে ছাত্রছাত্রী, চাকরিপ্রার্থী, ব্যবসায়ী, পর্যটন সংস্থার সঙ্গে যুক্ত মানুষ এবং পর্যটকদের উপরও প্রভাব পড়েছে। সামগ্রিকভাবে অঞ্চলের অর্থনীতিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে শান্তি ও স্থিতিশীলতার পরিবেশ ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন বলেই মনে করছে কেন্দ্র। সেই লক্ষ্যেই পারস্পরিক আস্থা ও সংলাপের পরিবেশ তৈরি করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করে সব পক্ষের সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনার পথ খুলে দিতেই সোনম ওয়াংচুকের বিরুদ্ধে যে নির্দেশ তা অবিলম্বে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে লাদাখের মানুষের স্বার্থরক্ষায় প্রয়োজনীয় সব সুরক্ষা ব্যবস্থা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেছে কেন্দ্র।
সরকার আশা প্রকাশ করেছে, উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি এবং অন্যান্য উপযুক্ত আলোচনার মাধ্যমে লাদাখের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করা সম্ভব হবে।