CDSCO-র নির্দেশে আরও বলা হয়েছে, ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলিকেও কয়েকটি দিকে নজর রাখতে হবে। যেমন, ওষুধের মেয়াদ কমানো, সংরক্ষণের নিয়মে পরিবর্তন আনা এবং আরও গুরুত্ব সহকারে NDMA-র উপস্থিতির পরীক্ষা চালানো।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 28 July 2025 08:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতে বহুল ব্যবহৃত অম্বলের ওষুধ রেনিটিডিনে (Ranitidine) এমন যৌগ আছে যার ফলে ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকতে পারে। একটি পরীক্ষায় এই তথ্য উঠে আসার পরই সব রাজ্যগুলির জন্য নির্দেশিকা জারি করল কেন্দ্র।
সূত্রে খবর, রেনিটিডিন ওষুধে এনডিএমএ (N-Nitrosodimethylamine) নামে একপ্রকার রাসায়নিক যৌগ পাওয়া গিয়েছে। এরপরই নতুন সতর্কতা জারি করল সিডিএসসিও (Central Drugs Standard Control Organisation)। ওষুধটির সক্রিয় উপাদান (API) ও ফর্মুলেশনে রাসায়নিকের মাত্রা পরীক্ষা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে। পাশাপাশি, সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে ওষুধটির মেয়াদও কমানোর সুপারিশ করা হয়েছে।
ভারতের ড্রাগ কন্ট্রোলার জেনারেল (DCGI) ড. রাজীব সিং রঘুবংশী এই নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, ২০২৫ সালের ২৮ এপ্রিল ডিটিএবি-এর (Drugs Technical Advisory Board) ৯২তম বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পদক্ষেপ করা হয়েছে।
DTAB-র ওই বৈঠকে ২০২৪-এর ডিসেম্বরে গঠিত একটি বিশেষজ্ঞ কমিটির রিপোর্ট খতিয়ে দেখা হয়। ওই কমিটি রেনিটিডিনে NDMA আছে কিনা তা যাচাইয়ের কাজ করছিল। রিপোর্ট দেখে DTAB সুপারিশ করে, এই বিষয়ে আরও তদন্ত করতে একটি বৃহত্তর কমিটি গঠন করতে হবে, যারা রেনিটিডিন সংরক্ষণের পরিবেশগত বিষয়গুলিও পর্যালোচনা করবে, যেখান থেকে NDMA তৈরি হতে পারে।
এছাড়া, ভারতীয় চিকিৎসা গবেষণা পরিষদ (ICMR)-কে অনুরোধ করা হয়েছে, NDMA-র উপস্থিতি মাথায় রেখে রেনিটিডিনের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিয়ে একটি গবেষণা করা হোক।
CDSCO-র নির্দেশে আরও বলা হয়েছে, ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলিকেও কয়েকটি দিকে নজর রাখতে হবে। যেমন, ওষুধের মেয়াদ কমানো, সংরক্ষণের নিয়মে পরিবর্তন আনা এবং আরও গুরুত্ব সহকারে NDMA-র উপস্থিতির পরীক্ষা চালানো।
দিল্লি এইমসের অনকোলজিস্ট ড. অভিষেক শঙ্কর এবিষয়ে জানান, 'রেনিটিডিন আন্তর্জাতিক ক্যানসার গবেষণা সংস্থা (IARC)-র শ্রেণি বিভাগ অনুযায়ী গ্রুপ ২এ কার্সিনোজেন, অর্থাৎ এটি মানুষের ক্ষেত্রে সম্ভবত ক্যানসার ঘটাতে পারে। বাজারে ফ্যামোটিডিন বা প্যান্টোপ্রাজলের মতো নিরাপদ বিকল্প থাকায় রেনিটিডিন আর প্রেসক্রাইব না করাই ভালো।'