গত সপ্তাহে এক প্রতিরক্ষা সম্মেলনে লেফটেন্যান্ট জেনারেল রাহুল সিংহ বলেছিলেন, পাকিস্তানের অস্ত্রভাণ্ডারের ৮১ শতাংশ চিনের উপর নির্ভরশীল।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 7 July 2025 20:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারত (India) পাকিস্তান (Pakistan) ও চিনের (China) সঙ্গে প্রযুক্তিগত যুদ্ধে হেরে গেছে! এই দাবি ঘিরে সমাজমাধ্যমে শুরু হয়েছে চর্চা। ভাইরাল একটি পোস্টে (Viral Post) সরাসরি উদ্ধৃত করা হয়েছে ভারতীয় সেনার উপ-প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল রাহুল আর সিংহকে (Lt Gen Rahul R Singh)। বলা হয়েছে, তিনি নাকি বলেছেন - ইলেক্ট্রনিক যুদ্ধ ও গোয়েন্দা তথ্যে পাকিস্তান ও চিন ভারতের চেয়ে অনেক এগিয়ে এবং ভারতকে কার্যত পরাজিত করেছে। যদিও এই দাবিকে সরাসরি ভুয়ো আখ্যা দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।
প্রেস ইনফর্মেশন ব্যুরো (PIB) সম্প্রতি একটি বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, সমাজমাধ্যমে যে ধরনের পোস্ট ঘুরছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যে ও বিভ্রান্তিকর। সেনার উপ-প্রধান কখনওই এমন কোনও কথা বলেননি।
ভাইরাল হওয়া পোস্টগুলিতে রাহুল সিংহের ছবি দিয়ে দাবি করা হয়েছে, “ভারতের শীর্ষ সেনাকর্তা বলেছেন, ইলেক্ট্রনিক যুদ্ধ এবং গোয়েন্দা তথ্যে পাকিস্তান-চিন ভারতের চেয়ে অনেক বেশি দক্ষ। চিনা প্রযুক্তির দাপটে ভারত কার্যত হেরে গেছে।” কিন্তু PIB-র তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ‘‘উপ-সেনাপ্রধান রাহুল সিংহ কোনও দিন এই ধরনের মন্তব্য করেননি। পোস্টটি ভুয়ো ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।’’
সূত্রের খবর, গত সপ্তাহে এক প্রতিরক্ষা সম্মেলনে লেফটেন্যান্ট জেনারেল রাহুল সিংহ বলেছিলেন, পাকিস্তানের অস্ত্রভাণ্ডারের ৮১ শতাংশ চিনের উপর নির্ভরশীল। তাঁর কথায়, “চিন পাকিস্তানের কাছে তাদের সামরিক প্রযুক্তি পরীক্ষার ক্ষেত্র বানিয়ে তুলেছে। ইসলামাবাদের কাছে চিনের অস্ত্র পরীক্ষার ল্যাব হয়ে উঠেছে পাকিস্তান।” এছাড়াও তিনি বলেছিলেন, “ভারতের ডিজিএমও-র সঙ্গে আলোচনার সময় পাকিস্তান সেনার এক উচ্চপদস্থ কর্তা স্বীকার করেন, তাঁরা জানেন ভারতের কিছু ক্ষেপণাস্ত্র তাঁদের দিকেই তাক করা রয়েছে। আর এই তথ্য তাঁদের দিয়েছিল চিন।”

এই বক্তব্যকে বিকৃত করেই গুজব ছড়িয়েছে কিছু পাকিস্তানি হ্যান্ডেল। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, এই ধরনের ভুয়ো প্রচারের মাধ্যমে ভারতের অভ্যন্তরে বিভ্রান্তি ছড়ানো এবং সেনার মর্যাদাকে কলঙ্কিত করাই উদ্দেশ্য।
সেনার তরফে এখনও পর্যন্ত এই ভুয়ো পোস্ট নিয়ে আলাদা করে কোনও বিবৃতি না এলেও PIB-র স্পষ্ট অবস্থানের পরে বিষয়টি নিয়ে সরকার যে কড়া নজর রাখছে, তা পরিষ্কার।
কেন্দ্রীয় বার্তা স্পষ্ট — দেশের সেনা ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতি নিয়ে ভুয়ো খবর ছড়ালে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।