সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, এই সিদ্ধান্তগুলির ফলে দেশের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি আরও শক্তিশালী হবে। চলতি অর্থবর্ষে এই ধরনের অনুমোদন ও চুক্তির পরিমাণ ইতিমধ্যেই রেকর্ড ছুঁয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 27 March 2026 18:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতের প্রতিরক্ষা শক্তি (Indian Defence System) বাড়াতে বড় পদক্ষেপ কেন্দ্রের। শুক্রবার ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিল (DAC) প্রায় ২.৩৮ লক্ষ কোটি টাকার প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের (Rajnath Singh) নেতৃত্বে হওয়া এই বৈঠকে স্থল, বায়ু এবং উপকূলরক্ষী - তিন বাহিনীর জন্য একাধিক আধুনিক ব্যবস্থার ছাড়পত্র মিলেছে।
সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, এই সিদ্ধান্তগুলির ফলে দেশের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি আরও শক্তিশালী হবে। চলতি অর্থবর্ষে এই ধরনের অনুমোদন ও চুক্তির পরিমাণ ইতিমধ্যেই রেকর্ড ছুঁয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
সেনাবাহিনীর জন্য কী কী
ভারতীয় সেনার জন্য অনুমোদন মিলেছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থার। এর মধ্যে রয়েছে এয়ার ডিফেন্স ট্র্যাকড সিস্টেম, যা রিয়েল-টাইমে আকাশপথের হুমকি শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করবে। পাশাপাশি হাই ক্যাপাসিটি রেডিও রিলে সিস্টেম যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও নির্ভরযোগ্য করবে।
এছাড়াও আর্মার্ড পিয়ার্সিং ট্যাঙ্ক গোলাবারুদ সেনার আক্রমণ ক্ষমতা বাড়াবে। ধনুষ গান সিস্টেম দূরপাল্লার আর্টিলারি হামলায় নির্ভুলতা ও কার্যকারিতা বাড়াবে। রানওয়ে-নির্ভর নয় এমন এয়ারিয়াল সার্ভেইলেন্স সিস্টেম বিভিন্ন ভূখণ্ডে নজরদারির ক্ষমতা উন্নত করবে।
বায়ুসেনার শক্তিবৃদ্ধি
ভারতীয় বায়ুসেনার ক্ষেত্রেও বড়সড় উন্নয়ন হতে চলেছে। পুরনো AN-32 ও IL-76 বিমান বদলে নতুন মিডিয়াম ট্রান্সপোর্ট এয়ারক্রাফ্ট কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা কৌশলগত ও অপারেশনাল পরিবহণে বড় ভূমিকা নেবে।
এর পাশাপাশি S-400 দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সংগ্রহের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যা শত্রুর আকাশপথের হুমকি মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ। রিমোটলি পাইলটেড স্ট্রাইক এয়ারক্রাফ্ট যুক্ত হওয়ায় আক্রমণাত্মক অভিযান এবং গোপন নজরদারির ক্ষমতাও বাড়বে।
Su-30 যুদ্ধবিমানের ইঞ্জিন সংস্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে বিমানের আয়ু বাড়ে এবং দীর্ঘমেয়াদে অপারেশনাল সক্ষমতা বজায় থাকে।
উপকূলরক্ষী বাহিনীর নজরদারি
ভারতীয় কোস্ট গার্ডের জন্য হেভি ডিউটি এয়ার কুশন ভেহিকল বা হোভারক্রাফ্ট অনুমোদন পেয়েছে। এগুলি উপকূল এলাকায় দ্রুত টহল, উদ্ধার অভিযান, নজরদারি এবং সরঞ্জাম পরিবহণে কাজে লাগবে।
রেকর্ড বিনিয়োগ
চলতি অর্থবর্ষে মোট ৫৫টি প্রস্তাবে প্রায় ৬.৭৩ লক্ষ কোটি টাকার ‘অ্যাকসেপ্ট্যান্স অফ নেসেসিটি’ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ৫০৩টি মূলধনী চুক্তি সই হয়েছে প্রায় ২.২৮ লক্ষ কোটি টাকার, যা এ যাবৎ সর্বোচ্চ।
সব মিলিয়ে, বৈশ্বিক অস্থিরতার আবহে প্রতিরক্ষা খাতে এই বিপুল বিনিয়োগ ভারতের সামরিক সক্ষমতা আরও মজবুত করার দিকেই বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।