এদিন সকাল ৮টা ১০ মিনিটে মুম্বই থেকে ওড়ে জেটটি। বারামতীতে অবতরণের সময়ই ঘটে বিপত্তি। ফ্লাইট ট্র্যাকিং সংস্থা ফ্লাইটরাডার ২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, সকাল ৮টা ৩৪ মিনিটে কিছুক্ষণের জন্য নজরদারি সিগন্যাল বন্ধ হয়ে যায়।
.jpeg.webp)
অজিত পাওয়ার
শেষ আপডেট: 28 January 2026 18:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মহারাষ্ট্রের বারামতীতে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় (Baramati Plane Crash) মৃত্যু হয়েছে রাজ্যের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারের (Ajit Pawar Plane Crash)। তাঁর বিমানটিতে থাকা পাঁচজনের কেউই বেঁচে নেই বলে প্রশাসনের তরফে নিশ্চিত করা হয়েছে।
দুর্ঘটনাস্থল বারামতী বিমানবন্দরের অদূরেই। বিমানবন্দর থেকে কয়েক মিনিট দূরের একটি জাতীয় সড়কে বসানো সিসিটিভি ক্যামেরায় (Ajit Pawar Plane Crash CCTV Footage) ধরা পড়ে বিশাল ধোঁয়ার কুণ্ডলী। সেই স্থানেই আছড়ে পড়ে অজিত পাওয়ারের বিমানটি। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য অনুযায়ী, মাটিতে আছড়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিমানটি বিস্ফোরিত হয় এবং মুহূর্তের মধ্যে আগুন ও কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় গোটা এলাকা।
দুর্ঘটনাগ্রস্ত বিমানটি ছিল Bombardier Learjet 45 মডেলের, রেজিস্ট্রেশন নম্বর ‘VT-SSK’। এদিন সকাল ৮টা ১০ মিনিটে মুম্বই থেকে ওড়ে জেটটি। বারামতীতে অবতরণের সময়ই ঘটে বিপত্তি। ফ্লাইট ট্র্যাকিং সংস্থা ফ্লাইটরাডার ২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, সকাল ৮টা ৩৪ মিনিটে কিছুক্ষণের জন্য নজরদারি সিগন্যাল বন্ধ হয়ে যায়। পরে আবার সিগন্যাল ফিরে আসে এবং দেখা যায় বিমানটি লুপ নিচ্ছে। সকাল ৮টা ৪৩ মিনিটে বিমানটি পুরোপুরি রাডার থেকে অদৃশ্য হয়ে যায়, ঠিক তখনই দুর্ঘটনা ঘটে বলে অনুমান।
প্রত্যক্ষদর্শীদের একাংশের দাবি, রানওয়ে থেকে প্রায় ১০০ ফুট দূরেই বিমানটি ভেঙে পড়ে। বারামতী বিমানবন্দরের ম্যানেজার শিবাজি তাওয়াড়ে জানিয়েছেন, অবতরণের সময় রানওয়ের এক ধারে আছড়ে পড়ে জেটটি এবং সঙ্গে সঙ্গেই আগুন ধরে যায়। দুর্ঘটনার পরে জরুরি পরিষেবার কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। স্থানীয় বাসিন্দারাও আতঙ্কের মধ্যেই সাহায্যে এগিয়ে আসেন।
প্রথমে দেহগুলি শনাক্ত করা কঠিন ছিল। পরে হাতঘড়ি ও পোশাকের সূত্র ধরে অজিত পাওয়ারের দেহ শনাক্ত করা হয়। বিমানটিতে থাকা অন্যদের মধ্যেও ছিলেন দুই পাইলট - সুমিত কপূর ও সম্ভাবী পাঠক।
প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, দুর্ঘটনার সময় বারামতী বিমানবন্দর ও সংলগ্ন এলাকায় ঘন কুয়াশা ছিল, যার ফলে দৃশ্যমানতা কমে গেছিল। কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহণমন্ত্রী কে রামমোহন নায়ডুও কম দৃশ্যমানতার কথা উল্লেখ করেছেন। তবে ফ্লাইট ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, শেষ মুহূর্তে বিমানটি প্রায় এক কিলোমিটার উচ্চতায় ঘণ্টায় ২৩৭ কিলোমিটার বেগে উড়ছিল এবং গতিপথে কোনও স্পষ্ট অস্বাভাবিকতা ধরা পড়েনি।
১৬ বছর বয়সি এই জেটটি পরিচালনা করত দিল্লিভিত্তিক সংস্থা VSR Ventures। সংস্থার দাবি, বিমানটি সম্পূর্ণ নিরাপদ ছিল এবং পাইলটরাও অভিজ্ঞ। VSR-এর এক শীর্ষ আধিকারিক বলেন, “আমরা আমাদের পাইলট ও যাত্রীদের হারালাম - এটা আমাদের জন্য অত্যন্ত কঠিন সময়।” দুর্ঘটনার কারণ জানতে ডিজিসিএ-র পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দিকেই তাকিয়ে প্রশাসন।