স্কুলে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে ‘সুগার বোর্ড’-এর পর এবার আরও এক উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ সিবিএসই-এর।

গ্রাফিক্স - দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 17 July 2025 14:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্কুলে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে ‘সুগার বোর্ড’-এর পর এবার আরও এক উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ সেন্ট্রাল বোর্ড অফ সেকেন্ডারি এডুকেশনের (CBSE)। বোর্ড সম্প্রতি তাদের অধীনস্থ সমস্ত স্কুলে ‘অয়েল বোর্ড’ চালুর নির্দেশ দিয়েছে - যা এক ধরনের সচেতনতামূলক প্রচার অভিযান। প্রধান উদ্দেশ্য, পড়ুয়াদের মধ্যে অতিরিক্ত ফ্যাট ও তেল-সমৃদ্ধ খাবার সম্পর্কে সচেতনতা গড়ে তোলা এবং তার চাহিদা কমানো।
'অয়েল বোর্ড' আসলে কী?
CBSE-এর বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, প্রতিটি স্কুল চত্বরের দৃশ্যমান জায়গায়— যেমন ক্যাফেটেরিয়া, করিডোর বা স্টাফ লাউঞ্জে এই অয়েল বোর্ড স্থাপন করতে হবে। এটি প্রিন্টেড পোস্টার অথবা ডিজিটাল ডিসপ্লে হতে পারে। এতে ফ্যাট ও তেল-সমৃদ্ধ খাবারের স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে তথ্য ও সতর্কতা থাকবে।
এই বোর্ডের মাধ্যমে সিবিএসই চাইছে ছাত্রছাত্রী এবং শিক্ষাকর্মীদের এমন খাবার বেছে নেওয়ার বিষয়ে সচেতন করতে, যা স্বাস্থ্যকর এবং পরিমিত ফ্যাটসমৃদ্ধ।
কেন এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ?
এই পদক্ষেপের আগেও ছিল ‘সুগার বোর্ড’ অভিযান, যা স্কুলে চিনি খাওয়ার মাত্রা কমাতে চালু হয়েছিল। বর্তমানে ছোটদের মধ্যে অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও মাত্রাতিরিক্ত ওজন বেড়ে যাওয়া বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে স্কুলগুলির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ— শুধুমাত্র পাঠ্যবই সংক্রান্ত শিক্ষা নয়, সুস্থ জীবনযাপনের পাঠ দেওয়াও জরুরি।
CBSE-এর মতে, অল্প বয়সেই যদি স্বাস্থ্যকর অভ্যাস তৈরি করা যায়, তাহলে তা পড়ুয়াদের মনে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলে। এই অভিযানের মাধ্যমে সেই লক্ষ্যেই কাজ শুরু হচ্ছে।
নির্দেশিকা অনুযায়ী, স্কুলগুলিকে এই ‘অয়েল বোর্ড’ উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য একটি বহুমুখী কৌশল নিতে বলা হয়েছে:
নির্দেশিকা দেখতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন
১) দৃশ্যমান বোর্ড স্থাপন: চোখে পড়ার মতো পোস্টার বা ডিজিটাল ডিসপ্লে বসাতে হবে এমন সব জায়গায়, যেখানে ছাত্রছাত্রী ও কর্মীরা নিয়মিত যাতায়াত করেন।
২) স্বাস্থ্য-ভিত্তিক স্টেশনারি: স্কুলের লেটারহেড, নোটবুক বা ফোল্ডারে স্বাস্থ্য সংক্রান্ত ছোট টিপস, স্লোগান, বা সতর্কতামূলক বার্তা যুক্ত করতে বলা হয়েছে।
৩) স্বাস্থ্যকর খাদ্য ও শরীরচর্চার উৎসাহ: স্কুল ক্যান্টিনে ভাজাভুজি বা মিষ্টিজাত খাবারের বিক্রি কমিয়ে, ফল, স্যালাড ও কম-তেলে রান্না করা খাবার রাখতে সতর্ক করা হয়েছে। পাশাপাশি, একটানা বসে থাকার বদলে হাঁটা, সিঁড়ি ব্যবহার, ক্লাসের ফাঁকে শরীরচর্চা করার পরিবেশ তৈরি করতে বলা হয়েছে।
৪) এই প্রোজেক্টে ছাত্রছাত্রীদের অংশগ্রহণ: স্কুলগুলিকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, ছাত্রছাত্রীদের অয়েল বোর্ড তৈরির কাজে যুক্ত করতে— যেমন ক্লাস প্রোজেক্টে স্বাস্থ্য সম্পর্কিত বার্তা লেখানো, ছবি আঁকানো, ভিডিও বানানো ইত্যাদি। এতে বিষয়টির সঙ্গে মানসিক সংযোগ তৈরি হবে।
৫) FSSAI-এর সহায়তা গ্রহণ: বোর্ড জানিয়েছে, স্কুলগুলি চাইলে FSSAI (Food Safety and Standards Authority of India)-এর তৈরি ভিডিও, পোস্টার ও নির্দেশিকা ব্যবহার করতে পারে। এই সমস্ত উপকরণ FSSAI-এর সোশ্যাল মিডিয়া ও ইউটিউব চ্যানেলে পাওয়া যায়।
বোর্ড আরও বলেছে, এই উদ্যোগ শুধুমাত্র একটি পোস্টার-নির্ভর সচেতনতামূলক কর্মসূচি নয়। এর লক্ষ্য হল, স্কুলগুলিতে এমন এক পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে প্রতিদিনের ছোট ছোট খাদ্য-নির্বাচনও স্বাস্থ্যকর হয়।
'সুগার বোর্ড' যেমন পড়ুয়াদের খাবারে চিনির মাত্রা নিয়ে ভাবতে বাধ্য করেছিল, তেমনই ‘অয়েল বোর্ড’ও অয়েল এবং ফ্যাটের মাত্রা নিয়ে সচেতনতা তৈরি করবে— যার প্রভাব শুধু স্কুল জীবনেই নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জীবনযাপনে পড়বে বলেই সিবিএসই-এর আশা।
বর্তমানে দেশের শিশু ও কিশোরদের মধ্যে ওবেসিটি বা মোটা হয়ে যাওয়ার সমস্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। ন্যাশনাল ফ্যামিলি হেলথ সার্ভে (NFHS-5, ২০১৯–২১) অনুসারে, শহরাঞ্চলের ২০%-এরও বেশি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ ওবেসিটি বা স্থূলতার শিকার। ২০২৫ সালের একটি ল্যান্সেট (Lancet) গবেষণায় বলা হয়েছে, ২০৫০ সালের মধ্যে ভারতে অতিরিক্ত ওজন রয়েছে এমন প্রাপ্তবয়স্কের সংখ্যা ১৮ কোটি থেকে বেড়ে প্রায় ৪৫ কোটিতে পৌঁছতে পারে—যা বিশ্বের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।