
আরজি কর তদন্তে সিবিআই।
শেষ আপডেট: 14 October 2024 20:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরজি করের তদন্তে এবার দিল্লির কয়েকটি সেরা হাসপাতালের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত বিশেষ মেডিক্যাল বোর্ডের মতামত চাইল সিবিআই। তারা ইতিমধ্যেই বিস্তারিত সিসিটিভি ফুটেজ, ডিএনএ নমুনা, রক্তের দাগ এবং চুল-সহ কমপক্ষে ১১টি প্রমাণ সংগ্রহ করেছে, যা সঞ্জয় রায়কেই দোষী হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
এর পরেও কেন মেডিক্যাল বোর্ডের সাহায্য চাইল তারা?
তদন্তে এ পর্যন্ত মেডিক্যাল বোর্ডের যে প্রাথমিক রিপোর্ট পাওয়া গিয়েছে, তাতে বলা হয়েছে যে নির্যাতিতার মৃত্যুর চূড়ান্ত কারণটি হল শ্বাসরোধ করে খুন। পাশাপাশি, নির্যাতিতার হাইমেন যেভাবে জখম হয়েছে, তাতে তিনি নিশ্চিতভাবেই ধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন। অন্যদিকে সঞ্জয় রায়ের শরীরে অন্তত পাঁচটি ভোঁতা আঘাতের চিহ্ন মিলেছে, যা দেখে মনে করা হচ্ছে নির্যাতিতা তাকে আঘাত করেছিলেন সর্বশক্তি দিয়ে।
এখন এই বিষয়টিতে চূড়ান্ত সিলমোহর বসানোর জন্যই সিবিআই এবার একাধিক হাসপাতালের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত বিশেষ মেডিক্যাল বোর্ডের মতামত চাইছে। এইমস, সফদরজঙ্গ, ডাঃ রাম মনোহর লোহিয়া হাসপাতাল, লেডি হার্ডিঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ এবং মৌলানা আজাদ মেডিক্যাল কলেজের বিশেষজ্ঞরা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন এই মেডিক্যাল বোর্ডে।
প্রসঙ্গত, ময়নাতদন্তের সময়ে নির্যাতিতার মৃতদেহ থেকে সংগ্রহ করা রেফারেন্স ডিএনএ-তে সঞ্জয় রায়ের ডিএনএ-র উপস্থিতি পাওয়া গেছে। অন্যদিকে সঞ্জয়ের জিন্সের প্যান্ট এবং জুতোতেও আক্রান্তের রক্তের দাগ মিলেছে। অপরাধের ঘটনাস্থল থেকে মিলেছে সঞ্জয় রায়ের চুলও।
৯ অগস্ট আরজি করে ৩১ বছর বয়সি তরুণী চিকিৎসকের দেহ উদ্ধারের পরেই ১০ তারিখ সিভিক ভলান্টিয়ার সঞ্জয় রায়কে এই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত হিসেবে গ্রেফতার করেছিল কলকাতা পুলিশ। এর পরে সেই তদন্ত সিবিআইয়ের হাতে যাওয়ার মাস দুয়েক পরে সিবিআই ২১৩ পাতার চার্জশিট দাখিল করে জানিয়েছে, তদন্তের সমস্ত গতিমুখই সঞ্জয় রায়ের দিকেই নির্দেশ করছে। তবে চার্জশিটে এই অপরাধের মোটিভ উল্লেখ করা হয়নি।
অন্যদিকে এখনও বিচারের দাবিতে প্রতিদিনই তীব্রতর হচ্ছে আন্দোলন। এই পরিস্থিতিতে অনেকেই মনে করছেন, মোটিভ যাই হোক না কেন, তদন্ত দ্রুত শেষ হওয়া জরুরি। এবং তা করার জন্য শেষ কথা বলবে তথ্যপ্রমাণই। তাই সবরকম তথ্যপ্রমাণ নিশ্চিতভাবে সঞ্জয়ের বিরুদ্ধে হাতে পাওয়ার পরেও, এবার তা 'লক' করার সময় এসেছে। তাতে সিবিআই-ও কোনও ফাঁক রাখতে চাইছে না।
সেই কারণেই ইতিমধ্যেই নির্যাতিতার ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং ভিডিওগ্রাফি এইমসের চিকিৎসকদের দ্বারা গঠিত বোর্ডের সদস্যদের কাছ থেকে 'নির্ভুল' বলে যাচাই করেছে সিবিআই। এর পরে সমস্ত স্তরে সমস্ত প্রমাণ সংগ্রহ করার পরে, এবার দেশের সেরা চিকিৎসকদের মতামত চাইছে তারা।