শনিবার সকালে সেন্ট্রাল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন অনিল আম্বানির মুম্বইয়ের বাড়িতে ১৭,০০০ কোটি টাকার ব্যাঙ্ক প্রতারণার অভিযোগে তল্লাশি চালায়।

অনিল আম্বানির মুম্বইয়ের বাড়িতে সিবিআই তল্লাশি।
শেষ আপডেট: 23 August 2025 12:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতের অন্যতম প্রখ্যাত শিল্পপতি অনিল আম্বানির মুম্বইয়ের বাড়িতে সিবিআই তল্লাশি। সেই সঙ্গে রিলায়েন্স কমিউনিকেশনের সঙ্গে যুক্ত বাড়িগুলিতেও তল্লাশি চলছে। আরকমের প্রোমোটার অনিল আম্বানির বিরুদ্ধে একটি এফআইআর দায়ের করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। শনিবার সকালে সেন্ট্রাল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন অনিল আম্বানির মুম্বইয়ের বাড়িতে ১৭,০০০ কোটি টাকার ব্যাঙ্ক প্রতারণার অভিযোগে তল্লাশি চালায়। অনিল আম্বানির কুফে প্যারেডে-র সিউইন্ড বাড়িতে সকাল ৭টার সময় পৌঁছে যান সিবিআই আধিকারিকরা। সূত্র জানিয়েছে, ৭-৮ জনের একটি দল অনিল আম্বানির বাড়িতে গিয়েছিল। সেই থেকে তল্লাশি অভিযান চলছে বলে জানা গিয়েছে।
অনিল আম্বানি ও তাঁর স্ত্রী এবং পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতেই তল্লাশি চলছে। এর আগে গত ৪ অগস্ট ইডি এই একই ব্যাঙ্ক প্রতারণা অভিযোগে আম্বানির বিভিন্ন কোম্পানির অফিসে তদন্ত চালিয়েছিল। এমনকী আর্থিক তছরুপ প্রতিরোধ আইনে অনিল আম্বানিকে ইডি অফিসে তলব করা হয়। সেই মতো অনিল হাজিরাও দিয়েছিলেন ইডি অফিসে।
এর আগে গত ২৪ জুলাই অনিল আম্বানির বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে একগুচ্ছ এফআইআর দায়েরের পর সক্রিয় হয় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। দিল্লি ও মুম্বই-সহ মোট ৩৫টি জায়গায় চলে তল্লাশি অভিযান। ইডি সূত্রে খবর, অনিল আম্বানির সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে টাকা তছরুপ ও আর্থিক প্রতারণার অভিযোগে এই অভিযান। ইতিমধ্যেই ৫০টিরও বেশি সংস্থা ও ২৫ জন ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, একটি 'ভাল করে সাজানো এবং পরিকল্পিত প্রতারণা চক্রের' কথা, যার মাধ্যমে ব্যাঙ্ক, লগ্নিকারী সংস্থা এবং সাধারণ জনগণের টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ। ইডি-র দাবি, সংস্থাগুলিকে ব্যাঙ্ক থেকে বিপুল পরিমাণ ঋণ পাইয়ে দিতে ঘুষ দেওয়া হয়েছিল ব্যাঙ্কের শীর্ষ আধিকারিকদের। বিশেষ করে, ২০১৭ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে ইয়েস ব্যাঙ্কের তরফে অনিলের সংস্থা রাগা (RAAGA) গ্রুপের বিভিন্ন কোম্পানিকে প্রায় ৩,০০০ কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হয়। ইডি-র দাবি, এই ঋণ দেওয়ার আগে ইয়েস ব্যাঙ্কের তৎকালীন প্রোমোটাররা নিজেদের ব্যক্তিগত সংস্থাগুলিতে টাকা পেয়েছিলেন, যেটি ছিল একটি বেআইনি ‘কুইড প্রো কো’ চুক্তি।