তবে ডিজিপির দফতর এখনও পর্যন্ত কোনও সরকারি প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

শেষ আপডেট: 10 October 2025 08:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আইপিএস অফিসার ওয়াই পুরণ কুমারের (Hayana IPS Y Puran Kumar death) মৃত্যুর ঘটনায় হরিয়ানার দুই শীর্ষ পুলিশ আধিকারিকের বিরুদ্ধে দায়ের হল মামলা। হরিয়ানার ডিরেক্টর জেনারেল অফ পুলিশ শত্রুজিৎ সিং কাপুর (DGP Shatrujeet Singh Kapur) এবং রোহতক সুপারিনটেনডেন্ট অফ পুলিশ (SP) নরেন্দ্র বিজারনিয়ার (Narendra Bijarniya) বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে (abetment to suicide) মামলা দায়ের হয়েছে।
চণ্ডীগড়ের এসএসপি জানিয়েছেন, অভিযোগের ভিত্তিতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর প্রাসঙ্গিক ধারায় এবং তপশিলি জাতি ও তপশিলি উপজাতি (অত্যাচার প্রতিরোধ) আইন ১৯৮৯-এর ৩(১)(r) ধারায় মামলা রুজু হয়েছে চণ্ডীগড়ের সেক্টর ১১ থানায়।
এই ঘটনার এক দিন আগে পূরণের স্ত্রী, আইএএস অফিসার অনমিত পি কুমার অভিযোগ দায়ের করেন। অনমিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন BNS-এর ১০৮ ধারা অনুযায়ী, যা আত্মহত্যায় প্ররোচনার সঙ্গে সম্পর্কিত।
গত মঙ্গলবার, এডিজিপি পুরণ কুমার নিজের সার্ভিস রিভলভার দিয়ে মাথায় গুলি করে আত্মঘাতী হন বলে জানা গিয়েছে। তাঁর বাড়ি থেকেই একটি 'উইল' এবং নয় পাতার আত্মহত্যার চিঠি উদ্ধার হয়। চিঠিতে তিনি কাজ সংক্রান্ত অসন্তোষ এবং মানসিক চাপের কথা উল্লেখ করেন।
২০০১ ব্যাচের আইএএস অফিসার অনমিত পি কুমার অভিযোগে বলেন, "আমি একদিকে শোকাহত স্ত্রী হিসেবে, অন্যদিকে দায়িত্বশীল সরকারি আধিকারিক হিসেবে এই মামলা করছি।" তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘদিনের পেশাগত হয়রানি, জাতিগত বৈষম্য ও ব্যক্তিগত অপমানই তাঁর স্বামীকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়।
আত্মহত্যার নোটে পূরণ কুমার দাবি করেছেন, ডিজিপি শত্রুজিৎ সিং কাপুর নিজে ২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে বকেয়া ভাতা পেলেও তাঁর ক্ষেত্রে বাধা দেন, যার ফলে ২০০১ ব্যাচের সমস্ত আইপিএস অফিসার আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন।
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, আত্মহত্যার পরিপ্রেক্ষিতে হরিয়ানা সরকার ডিজিপি কাপুরকে ছুটিতে পাঠানোর বিষয়ে ভাবনা-চিন্তা করছে। একই সঙ্গে রোহতক এসপি নরেন্দ্র বিজারনিয়াকেও বদলির সম্ভাবনা রয়েছে বলে সূত্রের খবর।
তবে ডিজিপির দফতর এখনও পর্যন্ত কোনও সরকারি প্রতিক্রিয়া জানায়নি। সিনিয়র সরকারি আধিকারিকরা জানিয়েছেন, “আইন অনুযায়ী সব দিক খতিয়ে দেখা হবে।”
২০০১ ব্যাচের আইপিএস অফিসার হিসেবে ওয়াই পূরণ কুমার হরিয়ানা পুলিশের এক দক্ষ ও অভিজ্ঞ আধিকারিক ছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে প্রশাসনিক মহলে আলোড়ন পড়েছে। এক সিনিয়র অফিসার বলেন, “এই ঘটনায় প্রশাসনিক ও সামাজিক দুই স্তরেই গভীর ফাটল সামনে এসেছে। সরকার চায়, ন্যায়বিচার হোক এবং দায় নির্ধারণে কোনও আপস না করা হয়।”
সূত্র মারফত খবর, ডিজিপি শত্রুজিৎ কাপুরের জায়গায় আসতে পারেন ১৯৯০ ব্যাচের আইপিএস ওপি সিং। তিনি বর্তমানে মাদক নিয়ন্ত্রণ ব্যুরোর ডিজি পদে কর্মরত। আরও একজনের নাম উঠে এসেছে, তিনি হলেন অলোক মিত্তল। অলোক ১৯৯৩ ব্যাচের আইপিএস, বর্তমানে স্টেট ভিজিল্যান্স অ্যান্ড অ্যান্টি কোরাপশন ব্যুরোর এডিজিপি পদে কর্মরত।