দুর্ঘটনার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে তাঁকে নির্দেশ দেওয়া হয়, নির্বাচনী সভার জন্য অজিত পাওয়ারকে নিয়ে মুম্বই থেকে বারামতি যেতে হবে।

শেষ আপডেট: 29 January 2026 23:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বারামতিতে লিয়ারজেট ৪৫ দুর্ঘটনায় অজিত পাওয়ার-সহ পাঁচ জনের মৃত্যুর (Ajit Pawar plane crash) ঘটনায় নতুন দাবি তুললেন মৃত পাইলট ক্যাপ্টেন সুমিত কাপুরের বন্ধুরা। তাঁদের বক্তব্য, সেদিন ওই বিমানের দায়িত্ব সুমিতের (captain Sumit Kapoor Learjet crash) ছিলই না। যে পাইলটের ডিউটি ছিল, তিনি ট্রাফিকে আটকে পড়ায় বদলি হিসেবে শেষ মুহূর্তে তিনি দায়িত্ব নেন।
বন্ধুদের দাবি, কয়েক দিন আগেই হংকং থেকে ফিরেছিলেন সুমিত। দুর্ঘটনার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে তাঁকে নির্দেশ দেওয়া হয়, নির্বাচনী সভার জন্য অজিত পাওয়ারকে নিয়ে মুম্বই থেকে বারামতি (Baramati) যেতে হবে।
সকাল প্রায় ৮টা নাগাদ দিল্লিভিত্তিক সংস্থা VSR Ventures পরিচালিত লিয়ারজেট ৪৫ নিয়ে উড়ান শুরু করেন পাইলট সুমিত কাপুর। বিমানে ছিলেন অজিত পাওয়ার, সহ-পাইলট ক্যাপ্টেন শম্ভাবি পাঠক, ফ্লাইট অ্যাটেনড্যান্ট পিঙ্কি মালি এবং অজিতের নিরাপত্তারক্ষী বিদিপ যাধব।
সকাল প্রায় ৮টা ৪৫ মিনিট নাগাদ বারামতি বিমানবন্দরে দ্বিতীয়বার অবতরণের চেষ্টা করার সময় দুর্ঘটনাটি ঘটে। পাঁচ জনেরই মৃত্যু হয়।
এদিন সকালে সূত্র মারফত জানা যায়, প্রাথমিক তদন্তে খারাপ দৃশ্যমানতার মধ্যে অবতরণের সময় “সম্ভাব্য পাইলটের ভুল সিদ্ধান্ত” (possible pilot misjudgement) একটি কারণ হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। পাশাপাশি যান্ত্রিক ত্রুটির সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তবে কপুরের বন্ধুরা এই সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁদের দাবি, কপুরের উড়ানের অভিজ্ঞতা অত্যন্ত বিস্তৃত ছিল, তাঁর ভুল করার সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে। তাঁরাও ঘটনার নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি তুলেছেন।
বন্ধুরা কপুরকে স্মরণ করে বলেছেন, তিনি অত্যন্ত সদালাপী মানুষ ছিলেন এবং উড়ানকে সবচেয়ে বেশি ভালবাসতেন।
পরিবারের কথা বলতে গিয়ে তাঁরা জানান, সুমিতের ছেলে ও জামাই - দু’জনেই পাইলট। তাঁর ছেলে ও মেয়ে দু’জনেরই বিয়ে হয়েছে। গুরুগ্রামে তাঁর এক ভাই ব্যবসা করেন।
বন্ধু সচিন তনেজা জানান, হাতের ব্রেসলেট দেখে তাঁর দেহ শনাক্ত করা যায়। আর এক বন্ধু নরেশ তনেজার কথায়, দুর্ঘটনার খবর শোনার পর কেউই বিশ্বাস করতে পারছিলেন না যে সুমিত আর নেই।
জি এস গ্রোভার, কপুরের আর এক বন্ধু, জানান, হংকং থেকে ফেরার পর সুমিত তাঁর সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেছিলেন এবং স্বাস্থ্য নিয়ে বিশেষ যত্ন নেওয়ার পরামর্শও দিয়েছিলেন।
বন্ধুদের এই দাবি তদন্তের গতিপ্রকৃতিতে নতুন প্রশ্ন তুলছে। তবে চূড়ান্ত সত্য সামনে আনবে সরকারি তদন্তই।