পথকুকুরের (stray dog) উপদ্রব সংক্রান্ত একটি মামলার শুনানিতে মঙ্গল ও বুধবার সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানাল, কোন কুকুরের, কখন কামড়ানোর মতলব থাকবে, তা আগে থেকে বোঝা অসম্ভব।
.jpeg.webp)
এই ধরনের জায়গা থেকে কুকুর সরিয়ে দেওয়ায় আপত্তির কোনও কারণ থাকতে পারে না।
শেষ আপডেট: 7 January 2026 13:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পথকুকুরের (stray dog) উপদ্রব সংক্রান্ত একটি মামলার শুনানিতে মঙ্গল ও বুধবার সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানাল, কোন কুকুরের, কখন কামড়ানোর মতলব থাকবে, তা আগে থেকে বোঝা অসম্ভব। বিচারপতিরা প্রশ্ন তোলেন, স্কুল, হাসপাতাল বা আদালতের মতো জায়গার ভিতরে পথকুকুর ঘোরাঘুরি করবে, তার পিছনে কোন যুক্তি, কীভাবে থাকতে পারে?
শীর্ষ আদালত জানায়, এই ধরনের জায়গা থেকে কুকুর সরিয়ে দেওয়ায় আপত্তির কোনও কারণ থাকতে পারে না। একই সঙ্গে আদালত স্পষ্ট করে দেয়, তাদের সংশোধিত নির্দেশ শুধুমাত্র প্রাতিষ্ঠানিক এলাকা, যেমন— স্কুল, হাসপাতাল ও আদালত চত্বরের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য, সাধারণ রাস্তা বা জনপথে নয়। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি বিক্রম নাথ, সন্দীপ মেহতা এবং এন ভি আঞ্জারিয়াকে নিয়ে গঠিত তিন সদস্যের বেঞ্চ জানায়, কুকুরের কামড় থেকে প্রতিরোধ গড়ে তোলাই সমস্যার মূল সমাধান। কারণ রাস্তাঘাটে ঘোরা কুকুরের আচরণ দেখে আগাম বোঝা যায় না কোনটি বিপজ্জনক হতে পারে। পথেঘাটে ও জনবহুল এলাকায় কুকুর সামলানো যে কতটা কঠিন, সে কথাও তুলে ধরেন তাঁরা।
বিচারপতি বিক্রম নাথ বলেন, সমস্যা শুধু কামড়ানো নয়, কুকুরের কারণে ভয়ভীতি, পথ দুর্ঘটনাও বড় বিপদের কারণ হয়ে উঠছে। তাঁর কথায়, সকালে কোন কুকুর কী মতলবে আছে, সেটা আপনি জানেন না। এই কারণেই কেবল আচরণ দেখে বিপজ্জনক কুকুর চিহ্নিত করা কার্যত অসম্ভব বলে মন্তব্য করেন বিচারপতিরা।
এর আগে শুনানির একটি তারিখ বাতিল হয়েছিল। পরে প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিবাল দ্রুত শুনানির আবেদন জানিয়ে বলেন, যেভাবে কুকুরদের সঙ্গে আচরণ করা হচ্ছে, তা চরম অমানবিক। এই প্রসঙ্গে বিচারপতি সন্দীপ মেহতা মন্তব্য করেন, পরবর্তী শুনানিতে আমরা একটি ভিডিও চালিয়ে দেখাব এবং তখন প্রশ্ন করব—আসলে মানবিকতা কাকে বলে।
শুনানিতে কপিল সিবাল বলেন, নির্বিচারে কুকুর সরানোর সিদ্ধান্ত উল্টো ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাঁর মতে, আইন অনুযায়ী কুকুরদের নির্বীজকরণ ও টিকাকরণের পর আগের জায়গাতেই ফেরানো উচিত। প্রবীণ আইনজীবী কে কে বেণুগোপাল প্রস্তাব দেন, যেসব রাজ্যে রাস্তার কুকুর মোকাবিলায় সাফল্য এসেছে, সেই রাজ্যগুলির পশুপালন দফতরের প্রধানদের নিয়ে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হোক, যারা আদালতকে পথ দেখাবে। তিনি বলেন, বর্তমান নির্দেশে কুকুরদের আগের জায়গায় ফেরাতে বাধা দেওয়া হচ্ছে, যা প্রচলিত আইন ও বিধির পরিপন্থী।
বেণুগোপাল আরও জানান, দেশের বাস্তব পরিস্থিতি অত্যন্ত দুর্বল। তাঁর দেওয়া তথ্যে বলা হয়, প্রায় ১ লক্ষ ৯৪ হাজারের বেশি স্কুলে বিদ্যুৎ, শৌচাগার ও পানীয় জলের মতো মৌলিক সুবিধা নেই। এই অবস্থায় ওই সব স্কুলকে রাস্তার কুকুর ঠেকাতে আলাদা করে বেড়া দিতে বলা কার্যত অবাস্তব। ফলে বাস্তবসম্মত ও মানবিক সমাধান খোঁজার প্রয়োজনীয়তার কথাই তিনি জোর দিয়ে তুলে ধরেন।