
জাস্টিন ট্রুডো এবং নরেন্দ্র মোদী
শেষ আপডেট: 21 November 2024 08:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কানাডার মাটিতে খলিস্তানি জঙ্গি হরদীপ সিং নিজ্জরকে হত্যা নিয়ে চলমান বিতর্কে এবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নাম জড়ানোর চেষ্টা হল। কানাডার সংবাদপত্র দ্য গ্লোব অ্যান্ড মেল-এর একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, নিজ্জরকে খুনের পরিকল্পনার কথা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জানতেন।
সংবাদপত্রটি খবরের সূত্র হিসাবে কানাডা সরকারের নিরাপত্তা এজেন্সিগুলির কথা উল্লেখ করেছে। খবরে দাবি করা হয়েছে, কানাডার নিরাপত্তা এজেন্সিগুলি নানা সূত্রে পাওয়া খবরে নিশ্চিত হয়েছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী পুরো ঘটনা জানতেন। তবে তথ্যপ্রমাণের অভাবে তারা এই ব্যাপারে সরকারিভাবে মুখ খুলছে না।
এর আগে কানাডার একজন মন্ত্রী অভিযোগ করেছিলেন, তাঁরা জানতে পেরেছেন, নিজ্জরকে হত্যার ষড়যন্ত্রে মূল চক্রী ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ভারত ওই দাবি নস্যাৎ করে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছিল। এবার কানাডার সংবাদপত্রের খবর নিয়েও সরব হয়েছে নয়াদিল্লি।
পররাষ্ট্রমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেছেন, সাধারণত বিদেশের সংবাদপত্রে প্রকাশিত খবর নিয়ে ভারত প্রতিক্রিয়া দেয় না। কিন্তু কানাডার সংবাদপত্রে প্রধানমন্ত্রী মোদীকে কালিমালিপ্ত করার উদ্দেশে খবর ছাপানো হয়েছে। রিপোর্টে কানাডা সরকারের এজেন্সিকে উদ্ধৃত করা হয়েছে বলে ভারত প্রতিবাদ জানাচ্ছে। ভারতের প্রতিবাদ নিয়ে এখনও পর্যন্ত কানাডা বা গ্লোব অ্যান্ড মেল কর্তৃপক্ষ কোনও প্রতিক্রিয়া দেয়নি।
খলিস্তানি জঙ্গি নিজ্জর গত বছর জুনে কানাডার ব্রিটিশ কলম্বিয়া প্রদেশে একটি গির্জার সামনে খুন হয়। সেই হত্যাকাণ্ডে ভারতীয় এজেন্সির হাত আছে বলে সে দেশের প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো অভিযোগ করেছিলেন। নিজ্জর ভারতে একাধিক অপরাধ করে কানাডা পালিয়ে গিয়ে সে দেশের নাগরিকত্ব নিয়েছিল।
ভারত প্রথম থেকেই বলে আসছে কানাডা তাদের অভিযোগের পক্ষে কোনও প্রমাণ পেশ করতে পারেনি। নয়াদিল্লির এই বক্তব্যের পরও কানাডা সরকার ও তাদের নিরাপত্তা এজেন্সিগুলি লাগাতার ভারত বিরোধী প্রচারে সক্রিয়। ইতিমধ্যে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক তলানিতে এসে ঠেকেছে। কানাডায় কর্মরত ভারতের হাই কমিশনারকে বরখাস্ত করে ট্রুডো প্রশাসন।
এরমধ্যেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নাম জড়িয়ে প্রচার শুরু করে কানাডা সরকার। এবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নাম জড়াল সে দেশের সংবাদপত্র। তাতে বলা হয়েছে, ‘নিজ্জরকে হত্যার ষড়যন্ত্রের কথা জানতেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল এবং বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। আর তাঁরা প্রধানমন্ত্রী মোদীকে অন্ধকারে রেখে অগ্রসর হবেন না, এটাই স্বাভাবিক। মোদীকেও সব জানানো হয়েছিল।’