পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে, আগামী কয়েকদিনের মধ্যে আমন্ত্রণ এলেও প্রধানমন্ত্রী মোদীর পক্ষে যাওয়া সম্ভব হবে না।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 4 June 2025 09:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চলতি মাসের ১৫ থেকে ১৭ তারিখ পর্যন্ত কানাডার (Canada) আলবার্টা (Alberta) প্রদেশের কানানাসকিস (Kananaskis) শহরে বসতে চলেছে জি-৭ (G-7) গোষ্ঠীভুক্ত দেশগুলির সম্মেলন। কিন্তু ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে (Indian PM Narendra Modi) এখনও আমন্ত্রণ জানায়নি কানাডা সরকার। নয়া দিল্লির পররাষ্ট্রমন্ত্রকের খবর (Ministry of External Affairs, Govt of India) বহু দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের আমন্ত্রণ জানিয়ে কানাডার নতুন প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি ফোন করেছেন। কিন্তু দিল্লিতে কোনও ফোন আসেনি। পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে, আগামী কয়েকদিনের মধ্যে আমন্ত্রণ এলেও প্রধানমন্ত্রী মোদীর পক্ষে যাওয়া সম্ভব হবে না। তাঁর অন্য কর্মসূচি আছে। তাছাড়া, অল্পদিনের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর সফরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
কানাডার নতুন সরকারের ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে জি-৭ গোষ্ঠীর বৈঠকে আমন্ত্রণ না জানানোয় সিদ্ধান্তকে কূটনৈতিক মহল যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছে। তারা মনে করছে, এটা দুই দেশের চলমান বিবাদকে আরও দীর্ঘায়িত করবে। তার সরাসরি প্রভাব পড়বে ছাত্রদের উপর। কানাডায় বহু ভারতীয় ছাত্র পড়তে যায়। তুলনায় কানাডার পড়ুয়ারা ভারতে কম আসে।
আবার কোনও কোনও মহলের মতে, কানাডা আমন্ত্রণ জানালেও মোদী নিজে না গিয়ে বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্করকে পাঠাতেন, এমন সম্ভাবনা আঁচ করেই সে দেশের সরকার তাঁকে না ডাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে আয়োজক দেশের তরফে আমন্ত্রণ জানানোই রীতি।
২০১৯ থেকে এ পর্যন্ত জি-৭ গোষ্ঠীর সব সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। করোনার কারণে ২০২০-তে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এই সম্মেলন হতে পারেনি। আমন্ত্রিত রাষ্ট্রপ্রধানেরা ভার্চুয়াল মাধ্যমে যুক্ত হন। মোদীর আগে মনমোহন সিংহও নিয়ম করে জি-৭ এর সম্মেলনগুলিতে যোগ দিয়েছেন।
গ্রুপ অফ সেভেন ( G7 ) হল একটি আন্তঃসরকারি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ফোরাম। এটির সদস্য দেশ হল কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, জাপান, যুক্তরাজ্য এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়ন এই মঞ্চের সদস্য। ভারত সহ বেশ কিছু বড় অর্থনীতির দেশ সরাসরি জি-৭’এর সদস্য না হলেও এই গোষ্ঠীতে ভূমিকা নিয়ে থাকে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চান ভারত, অষ্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকাকে জি-৭-এর সদস্য করা হোক। অথচ এবার যা পরিস্থিতি তাতে কানাডায় ভারতের প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি ছাড়াই সম্মেলন হতে যাচ্ছে। অবশ্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের যোগদান নিয়েও সংশয় রয়েছে।
ভারতকে নিয়ে কানাডার সিদ্ধান্তে কূটনৈতিক মহল অনাকাঙ্ক্ষিত বললেও অবাক নয়। সে দেশের আগের প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর সময়ে দু-দেশের সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছিল কানাডা সে দেশে খলিস্তানি বিচ্ছিন্নতাবাদী নিজ্জর সিংহের হত্যাকাণ্ডের দায় ভারতের উপর চাপানোয়। তাঁর বক্তব্য ছিল, ভারতীয় এজেন্ট খুন করেছে নিজ্জরকে। ভারতীয় বংশোদ্ভুত এই বিচ্ছিন্নতাবাদী তথা জঙ্গি কানাডার নাগরিক ছিল।
সেই বিবাদের জেরে দুই দেশই তাঁদের কূটনৈতিক সম্পর্ক সংকুচিত করে। কূটনীতিকদের ফিরিয়ে দেয়। গত মাসে নতুন প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি দায়িত্ব নেওয়ার পর পরিস্থিতির উন্নতি হবে আশা করা হয়েছিল। কানাডার নতুন বিদেশ মন্ত্রী অনিতা আনন্দের সঙ্গে ফোনে কথা হয় ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের। কিন্তু জি-৭-এর মতো সম্মেলনে ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে এখনও না ডাকার সিদ্ধান্তে নেতিবাচক বার্তাই দিচ্ছে কানাডার নতুন সরকার। ঘটনা হল ট্রুডো ও কার্নি একই দলের। মনে করা হচ্ছে পূর্বসূরির মতো কার্নিও নয়া দিল্লির সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের শীতলতা কাটাতে আগ্রহী নন।