নির্বাচন কমিশন এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও অসত্য বলে বর্ণনা করেছে। কমিশনের দাবি, অনলাইনে ভোটার বাদ দেওয়া যায় না। এটা রাহুল গান্ধীর ভ্রান্ত একটি ধারণা।

ভোটার তালিকা থেকে ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার মূল পদ্ধতি বা প্রক্রিয়াগুলি কী কী?
শেষ আপডেট: 18 September 2025 15:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভোটচুরি সংক্রান্ত হাইড্রোজেন বোমার জবাব দিয়েছে দেশের ভোট নিয়ন্ত্রক সর্বোচ্চ সংস্থা ইসিআই। বৃহস্পতিবার সকালে রাহুল বিস্তারিতভাবে ভোটচুরি সুপরিকল্পিত অভিযোগ খাড়া করেন। যার পাল্টা জবাবে নির্বাচন কমিশন এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও অসত্য বলে বর্ণনা করেছে। কমিশনের দাবি, অনলাইনে ভোটার বাদ দেওয়া যায় না। এটা রাহুল গান্ধীর ভ্রান্ত একটি ধারণা।
এখানে জেনে নেওয়া যাক, ভোটার তালিকা থেকে ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার মূল পদ্ধতি বা প্রক্রিয়াগুলি কী কী? ভারতের জনপ্রতিনিধিত্ব আইন ১৯৫০ ও রেজিস্ট্রেশন অফ ইলেক্টর্স রুলস, ১৯৬০-এর আইন ও বিধিতে এ সম্পর্কে নির্দিষ্ট কার্যপদ্ধতি বেঁধে দেওয়া আছে। কীভাবে একজন ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া যাবে, তা নির্দিষ্ট করে দেওয়া আছে। এই পদ্ধতিগত প্রক্রিয়ার কারণ হল, ইচ্ছেমতো তালিকা থেকে কোনও ভোটারের নাম যাতে বাদ না যায়।
১। ফর্ম ৭: যদি কেউ মনে করেন কোনও ভোটারের নাম বাদ দিতে হবে, অথবা আপত্তি জানাতে হবে, তাহলে তাঁকে ফর্ম নম্বর ৭ পূরণ করে ইলেক্টরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসারের (ERO) কাছে জমা দিতে হবে। যদি কোনও ভোটার অন্য কেন্দ্রে বাসিন্দা হয়ে যান, তাহলে তা তিনি নিজেও করতে পারেন। এটা করতে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ নিথি দিতে হয়। যেমন- ভোটারের এপিক নম্বর, তালিকা থেকে নাম বাদ দিতে চাওয়ার যথার্থ কারণ ও প্রমাণ, আবেদনকারীর নিজস্ব বিবরণ ও স্বাক্ষর। এটা জমা দেওয়ার সময় স্থানীয় বুথ লেভেল অফিসার একটি প্রাপ্তিস্বীকার পত্র ফেরত দেন।
২। তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার প্রমাণ- আইনে নির্দিষ্টভাবে গুটিকতক কারণের কথা উল্লেখ রয়েছে। যদি সেই ভোটার অন্য কেন্দ্রে গিয়ে থাকেন, তাহলে সেই ঠিকানায় তাঁকে না পাওয়া গেলে নাম দ্বিতীয়বার তালিকায় উঠে যাবে। কোনও ভোটার মারা গেলে, ডেথ সার্টিফিকেট জমা দিতে হয়। কোনও ভোটার ভারতীয় নাগরিকত্ব পরিবর্তন করলে সে প্রমাণও দিতে হবে।
৩। আবেদন স্ক্রুটিনি করবে ইআরও- প্রতিটি আবেদন জমা হবে সরকারি রেকর্ডে। তখন ইআরও সেই ভোটারকে একটি নোটিস পাঠাবে। সেখানে শুনানির নির্দিষ্ট তারিখ, সময় ও জায়গার কথা লেখা থাকবে। এই নোটিস রেজিস্টার্ড পোস্টে পাঠাতে হয় অথবা ওই ব্যক্তির ঠিকানায় সেঁটে দেওয়াই নিয়ম।
৪। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দিতে গেলে ওই ব্যক্তিকে নোটিস পাঠাতেই হবে। বিএলও গিয়ে দেখে আসবেন ওই ঠিকানায় ব্যক্তি থাকেন কিনা। চলে গিয়েছেন নাকি মৃত্যু হয়েছে। অথবা মিথ্যা আবেদন করা হয়েছে। এই তথ্য ফের ইআরও-র কাছে যায়।
৬। ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়ার শেষে যিনি নাম বাদ দেওয়ার আবেদন করেছেন এবং যাঁর নাম বাদ দেওয়ার আবেদন জমা পড়েছে, দুজনের বক্তব্য শোনা হবে। ইআরও এর ভিত্তিতে সত্যপ্রমাণের জন্য নথি চাইতে পারেন। এমনকী ব্যক্তিগত হাজিরা দিতে বলতে পারেন। এছাড়াও দুজনকে শপথ নেওয়াতে পারেন সত্য প্রকাশের জন্য।
৭। সাক্ষ্য-নথি বিচার করার পর ইআরও আবেদন নাকচ করতে পারেন অথবা গ্রহণ করতে পারেন। যদি আবেদন গৃহীত হয়, তাহলে তাঁর নাম বাদ যাবে এবং পরবর্তী ভোটার তালিকায় তা বোঝা যাবে।
৮। যদি কোনও ভোটার মনে করেন, তাঁর নাম ইচ্ছাকৃতভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে, তাহলে তিনি আবেদন করতে পারেন। তিনি নতুন করে অন্তর্ভুক্তির জন্য ৬ নম্বর ফর্ম পূরণ করে পরিচয় ও ঠিকানার প্রমাণ সহ আবেদন করতে পারেন। ফর্ম ৭-এ যদি কেউ মিথ্যা প্রমাণ দিয়ে থাকেন, তাহলে তাঁর জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ৩১ নম্বর ধারা অনুযায়ী শাস্তি পেতে হবে।
আইনত একই কেন্দ্রের যে কেউ ফর্ম ৭ পূরণ করে জমা দিতে পারেন। আরেকজনের নাম থাকার আপত্তি জানিয়ে এই ফর্ম পূরণ করতে হলেও তাতে কারও নাম আপনাআপনি বাদ চলে যায় না। মধ্যবর্তী প্রক্রিয়াগুলি পেরিয়ে এসে তবেই তালিকা থেকে নাম বাদ যায়।