
ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 25 April 2025 16:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এবার সুপার নিউমোরিক পোস্ট (Super Numeric Post) নিয়ে রাজ্যের থেকে লিখিত তথ্য চাইল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। শুক্রবার বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু রাজ্যকে নির্দেশ দিয়েছেন, সুপার নিউমোরিক পোস্ট কেন তৈরি হয়েছে তা লিখিত আকারে জানাতে হবে আদালতকে। আগামী ৬ মে এই মামলার পরবর্তী শুনানি।
শারীর শিক্ষা এবং কর্মশিক্ষার বিষয়ে অতিরিক্ত শূন্যপদ মামলায় প্রশ্নের মুখে পড়েছে রাজ্য সরকার। অতিরিক্ত শূন্যপদ তৈরির কারণ ঠিক কী ছিল তা এখনও স্পষ্ট হয়নি। কলকাতা হাইকোর্টও তাই এই ব্যাপারে পরিষ্কার উত্তর চায়। তাই রাজ্যের উদ্দেশে এমনই প্রশ্ন করেন বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু। তাঁর কথায়, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মতো সিবিআই তদন্ত হচ্ছে না, ঠিক আছে। কিন্তু অতিরিক্ত শূন্যপদ তৈরির যে সিদ্ধান্ত, সেটা কাদের জন্য? এটাই জানতে চান বিচারপতি। তবে মৌখিক নয়, লিখিতভাবে জানাতে হবে বলেই নির্দেশ। এদিকে রাজ্য অবশ্য জানিয়েছে, শূন্যপদে নিয়োগের ওপর স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার হলে তাঁরা পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।
প্রসঙ্গত, এসএসসি-র মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রায় ছ’হাজার অতিরিক্ত শূন্যপদ তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছিল রাজ্যের শিক্ষা দফতর। এই সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে একটি সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয় এবং রাজ্য মন্ত্রিসভারও অনুমোদন ছিল ওই সিদ্ধান্তে। তবে কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়ে দেয়, ওই অতিরিক্ত শূন্যপদ সৃষ্টির সিদ্ধান্ত আইনসঙ্গত নয়। এমনকি প্রয়োজনে সেই সিদ্ধান্তে যুক্ত মন্ত্রিসভার সদস্যদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে সিবিআই—এমন নির্দেশও দেয় আদালত।
তবে সুপ্রিম কোর্টে এই মামলা গেলে প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্নার নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ কলকাতা হাইকোর্টের সিবিআই তদন্তের নির্দেশ খারিজ করে দেয়। শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ, রাজ্য মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত নিয়ে সিবিআই তদন্ত চালানো যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোয় আঘাত হানে। পাশাপাশি, অতিরিক্ত শূন্যপদ তৈরি বেআইনি নয়। রাজ্য মন্ত্রিসভার অনুমোদন সাপেক্ষে শিক্ষা দফতর বা এসএসসি এই ধরনের পদ সৃষ্টি করতেই পারে।
পাশাপাশি, এই অতিরিক্ত শূন্যপদ তৈরি করতে প্রয়োজনীয় পরামর্শও নেওয়া হয়েছিল। রাজ্যপালের অনুমোদন নেওয়া হয়েছিল। এই মন্তব্যের ভিত্তিতে আদালত জানিয়ে দেয়, এই বিষয়ে তদন্তের কোনও প্রয়োজন নেই এবং মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করবে না শীর্ষ আদালত। এই রায়ের ফলে রাজ্য সরকার ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের ওপর থেকে সম্ভাব্য সিবিআই জিজ্ঞাসাবাদের চাপ আপাতত সরেছে।