তৃণমূল সাংসদের দাবি, মালদহের কালিয়াচকের পরিযায়ী শ্রমিক আমির শেখকে রাজস্থানের পুলিশ গায়ের জোরে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়। সেই কালো দিনের পর থেকেই আমরা তাঁর পরিবারের পাশে আছি—অবিচল সমর্থন, আইনি সহায়তা, সব কিছু নিয়েই।

মালদহের আমির শেখকে বাংলাদেশ থেকে ফেরাচ্ছে বিএসএফ
শেষ আপডেট: 13 August 2025 09:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মালদহের কালিয়াচকের তরুণ আমির শেখকে দেশে ফেরাতে তৎপর হয়েছে বিএসএফ (BSF)। এমনটাই দাবি তাঁর পরিবারের। ভিডিও কলে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তাঁর কথাও হয়েছে। ভারতীয় অনুপ্রবেশকারী অভিযোগে বাংলাদেশে জেলে ছিলেন তিনি।
ঘটনা হল, আমির নিজে বাংলাদেশে যাননি।তিনি গিয়েছিলেন রাজস্থানে কাজের সন্ধানে। সেখানে পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে বাংলাদেশে পুশ ব্যাক করে। তাঁর পরিবারের কালিয়াচকে কয়েক প্রজন্মের বাস। নথিপত্র দেখালেও রাজস্থান পুলিশ ও বিএসএফ শোনেনি।
তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ সামিরুল ইসলাম জানান, আমিরের বাবা কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করে ছেলেকে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছিলেন। সেই মামলায় বুধবার রাজস্থান পুলিশ ও বিএসএফের পদস্থ কর্তাদের আদালতে হাজির থাকতে বলা হয়েছিল। তলব করা হয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকারের স্বরাষ্ট্র এবং বিদেশ মন্ত্রকের আধিকারিকদেরও।
তৃণমূল সাংসদের দাবি, মালদহের কালিয়াচকের পরিযায়ী শ্রমিক আমির শেখকে রাজস্থানের পুলিশ গায়ের জোরে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়। সেই কালো দিনের পর থেকেই আমরা তাঁর পরিবারের পাশে আছি—অবিচল সমর্থন, আইনি সহায়তা, সব কিছু নিয়েই। আমিরের বাবাকে কলকাতা হাইকোর্টে হেবিয়াস করপাস মামলা দায়ের করতে আমরা সহযোগিতা করেছি। সেই পিটিশনের জেরেই রাজস্থানের শীর্ষ সরকারি কর্তা থেকে শুরু করে কেন্দ্রের প্রতিনিধিদের পর্যন্ত আদালতে হাজিরার সমন যায়। বুধবার মামলাটি শুনানি হওয়ার কথা ছিল।
সাংসদের কথায়, বিদেশি আইনের মামলায় জড়িয়ে পড়ায়, আইনি লড়াই ছাড়া আমিরকে ফেরানোর পথ একেবারেই বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। তবু মুখ বাঁচাতে এবং অবৈধভাবে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার জন্য আসন্ন আইনি ধাক্কা এড়াতে, কেন্দ্র এখন বিএসএফের সাহায্যে গোপনে আমির শেখকে মালদায় ফেরানোর তোড়জোড় শুরু করেছে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের লড়াই শুধু আদালতের গণ্ডিতেই সীমাবদ্ধ ছিল না। দ্য নিউইয়র্ক টাইমস সহ বহু দেশি-বিদেশি সংবাদমাধ্যমে আমির শেখের কথা প্রকাশিত হয়। আমাদের ধারাবাহিক আইনি ও প্রশাসনিক চাপে সরকার এখন কার্যত পিছু হটতে বাধ্য, আর চেষ্টা করছে পেছনের দরজা দিয়ে আমিরকে ফেরানোর। এই ব্যাপারে বিএসএফের কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পাওয়া গেলে সংযুক্ত করা হবে।