অমরনাথ যাত্রায় ডিউটি দিতে যাচ্ছিলেন বিএসএফ জওয়ানরা। সেই যাত্রার জন্য বিশেষ ট্রেনের দাবি জানানো হয়েছিল।

সংগৃহীত ছবি
শেষ আপডেট: 11 June 2025 23:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অমরনাথ যাত্রায় ডিউটি দিতে যাচ্ছিলেন বিএসএফ জওয়ানরা। সেই যাত্রার জন্য বিশেষ ট্রেনের দাবি জানানো হয়েছিল। দুটি এসি ২-টায়ার কামরা, দুটি এসি ৩-টায়ার কামরা, ১৬টি স্লিপার কোচ ও ৪টি জেনারেল/এসএলআর কামরা চেয়েছিল বাহিনী। কিন্তু উত্তর-পূর্ব ভারতের উদয়পুর (ত্রিপুরা) থেকে জম্মুর উদ্দেশে ৯ জুন যে ট্রেনটি এসে দাঁড়ায়, সেটির অবস্থা দেখে বিস্মিত সীমান্ত রক্ষী বাহিনী।
চোখের সামনে ভাঙা দরজা, খোয়া যাওয়া জানলার কাচ, অচল বিদ্যুৎ সংযোগ আর অপরিষ্কার ও প্রায় বিকল হয়ে যাওয়া শৌচাগার। এমন করুণ হাল দেখে ট্রেনের একটি ভিডিও রেকর্ড করে ছড়িয়ে দেন কেউ। মুহূর্তে ভাইরাল হয় সেটি। তারপরই দেশজুড়ে শুরু হয় বিতর্ক।
এনিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে কংগ্রেস। দলের মুখপাত্র শামা মহম্মদ এক্স -এ লেখেন, 'সরকার যখন শুধু চকচকে ট্রেন দেখিয়ে পিআর করছে, তখন সাধারণ বাহিনীকে পশুর মতো যাত্রা করতে হচ্ছে। এটা লজ্জাজনক।'
পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত নড়েচড়ে বসে রেল। ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত করে আলিপুরদুয়ার রেল ডিভিশনের তিনজন সিনিয়র সেকশন ইঞ্জিনিয়র ও এক কোচিং ডিপো অফিসারকে বরখাস্ত করেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব।
পরবর্তী সময়ে বিএসএফের আপত্তির ভিত্তিতে দ্রুত একটি নতুন বিশেষ ট্রেন বরাদ্দ করা হয় বাহিনীর জন্য। সেই ট্রেনেই পরে যাত্রা শুরু করেন জওয়ানরা।
তবে পুরো ঘটনার দায় অস্বীকার করেছে উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেল (এনএফআর)। এক বিবৃতিতে তারা জানায়, 'বিএসএফ-এর জন্য ওই কোচ বরাদ্দ করা হয়নি। যেটি ভাইরাল হয়েছে, সেটি একটি পরীক্ষাধীন কোচ, মেরামতির জন্য পাঠানো হচ্ছিল। বিএসএফ-এর জন্য যে কোচ বরাদ্দ হয়, তা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও মেরামত সেরে তবেই পাঠানো হয়েছিল।'
এদিকে অমরনাথ যাত্রা ঘিরে তুঙ্গে প্রস্তুতি। চলতি বছর মোট ৩৮ দিনের জন্য আয়োজিত হচ্ছে যাত্রা, শেষ হবে ৯ অগস্ট। শান্তিপূর্ণ ও সুরক্ষিত যাত্রার লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় সরকার মোতায়েন করেছে ৫৮১ কোম্পানি, অর্থাৎ প্রায় ৪২,০০০ কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান।