শুরুতেই এ হারে চাহিদা দেখে কর্তৃপক্ষও রীতিমতো হতবাক রেল।

চেনাবের উপর দিয়ে ছুটছে ট্রেন (ফাইল ছবি)
শেষ আপডেট: 11 June 2025 19:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কাশ্মীর উপত্যকায় পৌঁছে যাওয়া এখন আগের থেকেও অনেকটা সহজ। কারণ সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কাটরা-শ্রীনগর বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের সূচনা করেছেন। আর তারপর থেকেই এই রুটে যাত্রা করার জন্য উন্মাদনা তুঙ্গে পর্যটকদের মধ্যে। তবে, এই স্বপ্নের রেল যাত্রার টিকিট মিলছে না সহজে।
রেল দফতর সূত্রে খবর, বন্দে ভারত ট্রেনে কাটরা থেকে শ্রীনগর পর্যন্ত সব আসন আগামী ১০ দিনের জন্য একেবারে বুকড। শুরুতেই এ হারে চাহিদা দেখে কর্তৃপক্ষও রীতিমতো হতবাক।
চার দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা এই প্রকল্পের চূড়ান্ত বাস্তবায়ন হয়েছে চলতি বছরের শুরুতে। ৪৩ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই প্রকল্প শুধুমাত্র একাধিক রেল সেতু ও সুদীর্ঘ সুড়ঙ্গেই সীমাবদ্ধ নয়, এটি প্রকৃত অর্থে কাশ্মীরকে রেল পথে যুক্ত করেছে দেশের সঙ্গে।
রেলযাত্রার মূল আকর্ষণ বিশ্বের সর্বোচ্চ রেল সেতু, চেনাব ব্রিজ। চন্দ্রভাগা নদীর ওপর বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু রেল সেতু। বন্দে ভারত এই সেতুর ওপর দিয়েই যাবে। ফলে উন্মাদনার পারদ চড়ছে। সঙ্গে রয়েছে হিমালয়ের কঠিন ভূপ্রকৃতি ভেদ করে বানানো একাধিক সুড়ঙ্গ। সব মিলিয়ে তিন ঘণ্টার এই ট্রেন সফর এখন অনেকের কাছেই স্বপ্নের সমান।
যদিও এখনও শ্রীনগর থেকে দিল্লি পর্যন্ত সরাসরি ট্রেন চালু হয়নি। যাত্রীদের কাটরায় গাড়ি বদলাতে হচ্ছে, কিন্তু তাতেও যাত্রাপথের স্বপ্নে ভাটা পড়েনি একটুও। উদ্বোধনের পরদিন থেকেই এই রুটে যাত্রীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রথম ট্রেনে চড়ার আগ্রহে অনেকেই বুকিংয়ের জন্য দীর্ঘ তালিকায় নাম লিখিয়েছেন।
আপাতত দু'টি ট্রেন চালু করা হয়েছে, কাটরা থেকে শ্রীনগর ও শ্রীনগর থেকে কাটরা। কিন্তু চাহিদার তুলনায় তা যথেষ্ট নয় বলে জানিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ।
এর আগে পর্যন্ত কাশ্মীর উপত্যকার সঙ্গে দেশের মূল ভূখণ্ডের যোগাযোগের ব্যবস্থা ছিল শ্রীনগর-জম্মু জাতীয় সড়ক (এনএইচ-৪৪) ও আকাশ পথ। কিন্তু তাতে সামাল দেওয়া যাচ্ছিল না পর্যটকদের চাপ। বরফ পড়লে আবার বন্ধ হয়ে যেত রাস্তা। বৃষ্টিতেও ধসে একই অবস্থা হত।
এখন থেকে বরফ পড়ুক কিংবা প্রবল বর্ষণ, আর বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে না কাশ্মীর। রেলপথে, সুদীর্ঘ সুড়ঙ্গ আর আকাশছোঁয়া সেতু পেরিয়ে পৌঁছনো যাবে ভূস্বর্গে।