
প্রতীকী ছবি।
শেষ আপডেট: 25 June 2024 09:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভাল নম্বর পেয়ে নিট পাশ করা মেধাবী ছাত্রছাত্রীরাও দুর্নীতি চক্রের পাকে জড়িয়ে যাচ্ছেন, এমনটাই ইঙ্গিত পেয়েছেন তদন্তকারীরা।
প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, নিটের প্রশ্নফাঁস ও রেডিমেড উত্তরপত্র নিয়ে দেশজুড়ে যে বিশাল আকারের প্রতারণা চলছে, তা রীতিমতো নিয়ন্ত্রিত হয় সিন্ডিকেটের মাধ্যমে। তাতেই সামিল করা হচ্ছে কৃতিত্বের সঙ্গে নিট পাশ করা কিছু মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীকে।
সূত্রের খবর, ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্রের উত্তর দ্রুত তৈরি করে বেচতে হয়। সেই উত্তর তৈরির কাজেই ওইসব মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের ব্যবহার করছে দুর্নীতিবাজরা। সদ্য নিট পাশ করাদেরই 'টার্গেট' করা হচ্ছে এই কাজে, কারণ তারা প্রশ্নের ধরন সম্পর্কে পরিচিত। বাছা হচ্ছে অত্যন্ত মেধাবীদের, যাদের কাছে কঠিন প্রশ্নপত্রও উত্তর দেওয়া সহজ।
প্রসঙ্গত, এই নিয়ে কিছুদিন আগে একটি সিনেমাও হয়েছে, 'ফার্রে'। জি ফাইভ অ্যাপের এই সিনেমাটিতে বিস্তারিত ভাবে দেখানো হয়েছে, কীভাবে অতি মেধাবী দুই ছাত্রছাত্রী প্রতারণার ফাঁদে পা দিয়ে, কম সময়ে অনেক টাকা রোজগারের লোভে, চিটিং করে পরীক্ষা দিতে শুরু করে অন্যদের হয়ে। একসময়ে, একটি আন্তর্জাতিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র আগে জেনে উত্তর তৈরি করে দেওয়ার মতো ঝুঁকির কাজে ফেঁসে গিয়ে, বিদেশে পর্যন্ত চলে যায় তারা। ধরাও পড়ে।
বিহার পুলিশের আর্থিক দুর্নীতি দমন শাখা ইতিমধ্যেই এই প্রমাণ পেয়েছে। ধরা পড়ার পরে সঞ্জীব মুখিয়ার সলভার গ্যাংয়ের থেকে যে সমস্ত তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, তা চমকে ওঠার মতো। জানা গেছে, নিট পরীক্ষার এক দিন আগে ডাক্তারি পড়ুয়াদের পাটনা এবং রাঁচিতে লার্ন প্লে স্কুল অ্যান্ড বয়েজ় হস্টেলে নিয়ে আসেন সঞ্জীব। সেখানেই পরীক্ষার্থীদের থাকার ব্যবস্থা করেছিলেন সঞ্জীব। সেখানেই তাঁদের প্রশ্ন এবং উত্তরপত্র বিলি করা হয় লাখ লাখ টাকার বিনিময়ে।
সর্বভারতীয় এক সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, সলভার গ্যাং-এর সোশ্যাল মিডিয়া গ্রুপে পরীক্ষার আগের দিন রাতে সলভ করা প্রশ্নপত্র চলে এসেছিল। সেটিই পরে একাধিকজনকে টাকার বিনিময় বিলি করা হয়। পুলিশ এও জানতে পেরেছে, অন্তত ২০০-র বেশি প্রশ্নপত্র পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। সেখান থেকেই ৬৮টি প্রশ্নপত্র তারা উদ্ধার করতে পরেছে।
আগেই সলভার গ্যাং-এর অন্যতম মাথা রবি অত্রিকে পাকড়াও করেছে পুলিশ। রবি নিজেও নিট পরীক্ষার প্রস্তুতিতে কোটা গেছিলেন। কিন্তু তারপরই তিনি 'সলভার গ্যাং'-এর সংস্পর্শে আসেন। টাকার লোভে নিজে পড়াশোনা ছেড়ে দিয়ে অন্যের হয়ে পরীক্ষায় বসতেন। ধীরে ধীরে প্রশ্নফাঁসের কাজে হাত পাকাতে শুরু করেছিলেন সে সময় থেকেই। এর আগে ২০১২ সালে মেডিক্যালের প্রবেশিকা পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের জন্য তাঁকে একবার গ্রেফতার করেছিল দিল্লি পুলিশ। পরে তিনি জামিন পান।
মেধাবীদের নিয়ে আগেও এমনটা শোনা যেত। এই ধরনের কিছু ছাত্র-ছাত্রীকে ভুয়ো পরীক্ষার্থী সাজিয়ে আসল পরীক্ষার্থীর জায়গায় পাঠানো হত। পরীক্ষার হলে বসে অন্যের নাম করে সঠিক উত্তর লিখে দিত ওই মেধাবী ছাত্ররা। দুর্নীতির বড় গ্যাং কাজ করত এই কাজে। কিন্তু এখন ডিজিটাল যুগে এভাবে ভুয়ো পরীক্ষার্থী পাঠানোয় ঝুঁকি অনেক। ধরাও পড়েছে অনেকে।
তাই এখন দুর্নীতির ধরন বদলেছে। আগাম প্রশ্নফাঁস করিয়ে, সেই প্রশ্ন মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে পাঠিয়ে, দ্রুত উত্তর আনিয়ে, বেচে দেওয়া হচ্ছে চড়া দামে। দু-এক লক্ষ টাকা তাৎক্ষণিক ভাবে রোজগার করার উদ্দেশে এই কাজ করছেন অনেকেই।
সূত্রের খবর, বিভিন্ন কোচিং সেন্টারের কর্তারা এই কাজে বড় ভূমিকা পালন করছেন। শিক্ষক-শিক্ষিকা ও ছাত্র-ছাত্রীদের একাংশ এমনকি ছোট-মাঝারি নেতারাও যুক্ত দেশের বিভিন্ন জায়গায়। দুর্নীতির এই চক্রের শেষ কোথায়, সেদিকেই এখন পাখির চোখ তদন্তকারীদের।