গত ১৬ ফেব্রুয়ারি ছেলের মৃত্যু হয়। এরপর ওই মহিলা সংরক্ষিত শুক্রাণু গুজরাতের (Gujarat) একটি ফার্টিলিটি ক্লিনিকে স্থানান্তরের আবেদন জানান, যেখানে চিকিৎসা পরামর্শ নেওয়া সম্ভব হত। কিন্তু মুম্বইয়ের ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ আইনগত নির্দেশ ছাড়া তা করতে অস্বীকার করে।

প্রতীকী ছবি (এআই)
শেষ আপডেট: 28 June 2025 16:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মাত্র ২১ বছর বয়সেই ক্যানসারে (Cancer) প্রাণ হারিয়েছেন এক যুবক। মৃত্যুর আগেই চিকিৎসকের পরামর্শে সংরক্ষণ করেছিলেন নিজের শুক্রাণু, কারণ তিনি জানতেন কেমোথেরাপির (Chemotherapy) ফলে প্রজনন ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যেতে পারে (Frozen Semen of a 21-year-old cancer patient)। এখন ছেলে বেঁচে নেই, কিন্তু তাঁর মা চাইছেন সেই শুক্রাণু থেকেই ভবিষ্যতে সন্তানের জন্ম দিতে, যাতে তাঁদের পারিবারিক বংশরক্ষা সম্ভব হয়। তবে এক আইনি জটিলতায় তা আটকে ছিল। শেষমেশ মুম্বই হাইকোর্টের (Bombay High Court) দ্বারস্থ হয়ে ছেলের শুক্রাণু সংরক্ষণের অনুমতি পেলেন মা।
জানা গিয়েছে, আবেদনকারী মুম্বইয়ের (Mumbai) সান্তাক্রুজ এলাকার বাসিন্দা। তিনি জানান, তাঁর ছেলে ইউইং সারকোমা নামক এক বিরল হাড় ও টিস্যু ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন। কেমোথেরাপির আগে অনকোলজিস্টের পরামর্শে শুক্রাণু সংরক্ষণ করা হয়েছিল। পরিবারের বিশ্বাস ছিল যে ছেলে সুস্থ হয়ে উঠবে। কিন্তু তাঁরা জানতেন না, কাউকে না জানিয়েই ওই যুবক একটি ফর্মে সই করে গিয়েছিলেন যাতে লেখা ছিল, সে মারা গেলে তার শুক্রাণু নষ্ট করে দিতে হবে।
গত ১৬ ফেব্রুয়ারি ছেলের মৃত্যু হয়। এরপর ওই মহিলা সংরক্ষিত শুক্রাণু গুজরাতের (Gujarat) একটি ফার্টিলিটি ক্লিনিকে স্থানান্তরের আবেদন জানান, যেখানে চিকিৎসা পরামর্শ নেওয়া সম্ভব হত। কিন্তু মুম্বইয়ের ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ আইনগত নির্দেশ ছাড়া তা করতে অস্বীকার করে।
পরিস্থিতি জটিল হয়ে পড়ায় মহিলা একাধিক সরকারি দফতরে চিঠি লেখেন। সাড়া না পেয়ে মুম্বই হাইকোর্টে আবেদন জানান। বিচারপতি মণীষ পিটালে (Justice Manish Pitale) মামলার শুনানির সময় বলেন, অ্যাসিস্টেড রিপ্রোডাকটিভ টেকনোলজি (ART) আইন, ২০২১ অনুযায়ী মৃত ব্যক্তির গ্যামেট (শুক্রাণু বা ডিম্বাণু) কীভাবে ব্যবহৃত হবে, তা নিয়ে সুস্পষ্ট ধারণা থাকা উচিত।
আদালতে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে অ্যাডভোকেট যশোদীপ দেশমুখ জানান, এর আগে দিল্লি হাইকোর্টে এক মামলায় মৃত ব্যক্তির শুক্রাণু তাঁর পরিবারকে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এই ক্ষেত্রে মৃত যুবক মৃত্যুর পরে শুক্রাণু নষ্ট করার নির্দেশ দিয়েই গিয়েছিলেন। এর উত্তরে বিচারপতি পিটালে জানান, যেহেতু বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং আবেদনকারীর ছেলে অবিবাহিত ছিলেন। তাই এই প্রশ্নগুলো ভেবে দেখা প্রয়োজন। চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত মুম্বইয়ের ক্লিনিকটিকে সংরক্ষিত শুক্রাণু নষ্ট না করার নির্দেশ দেয় আদালত (Court orders preservation of dead man's semen)।