বিজেপির প্রতিক্রিয়া, পদপিষ্টের ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর কুম্ভমেলার পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীলভাবে সামাল দেওয়া হয়েছিল।

সিদ্দারামাইয়া
শেষ আপডেট: 5 June 2025 11:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এক মুহূর্তে ১৮ বছর পর আইপিএল জয়ের মহোৎসব বিষাদে বদলে গেছে। বেঙ্গালুরুতে পদপিষ্টের ঘটনায় (Bengaluru Stampede) ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। গোটা ঘটনায় প্রশ্নের মুখে কর্নাটক সরকার (Karnataka)। কারণ জানা গেছে, যে স্টেডিয়ামে ৩৩ হাজার সমর্থকের বসার ব্যবস্থা রয়েছে, সেখানে ২ লক্ষ সমর্থক জড়ো হয়েছিল। কেন এই নিয়ে প্রশাসন আগে থেকে ব্যবস্থা নেয়নি সে নিয়েই প্রশ্ন। এদিকে কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া (Siddaramaiah) এই ঘটনার সঙ্গে কুম্ভমেলার পদপিষ্টের (Kumbh Mela Stampede) ঘটনার তুলনা টেনেছেন। আর তাতে আরও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
গত মঙ্গলবার রাতে পাঞ্জাব কিংসকে হারিয়ে আইপিএলের ফাইনালে ট্রফি জেতে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। ১৮ বছর পর প্রথমবার ট্রফি পাওয়ার আনন্দে চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। কিন্তু সেখানেই মারাত্মক ঘটনা ঘটে যায়। অতিরিক্ত ভিড়ের ফলে পদপিষ্টের ঘটনায় ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে, ৩৩ জন আহত। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এই প্রসঙ্গে কুম্ভমেলার প্রসঙ্গে টেনেছেন। তাতেই রে রে করে উঠেছে বিজেপি (BJP)।
সিদ্দারামাইয়ার বক্তব্য, দেশ-বিদেশে এমন ঘটনা নতুন নয়। আগেও এই ধরনের ঘটনা ঘটেছে। সাম্প্রতিক সময়ের কথা বললে কুম্ভমেলার কথা মনে পড়ে। সেখানেও পদপিষ্টের ঘটনায় ৪০-৫০ জনের মৃত্যু হয়েছিল। স্বাভাবিকভাবেই তাঁর এই মন্তব্যে অনেকেই মনে করছেন, বিষয়টি থেকে দায়ভার ঝেড়ে ফেলতে চাইছেন মুখ্যমন্ত্রী। কুম্ভমেলার প্রসঙ্গ টেনে তুলনা টানছেন। যদিও সিদ্দারামাইয়া বলেছেন, তিনি কুম্ভমেলার ঘটনার সমালোচনা করেননি। কারণ বড় কোনও অনুষ্ঠানে এমন ঘটনা ঘটা অস্বাভাবিক নয়। এবারও তিনি তুলনা না টেনে শুধুমাত্র ঘটনার কথা মনে করিয়ে দিচ্ছেন।
বিষয়টি নিয়ে বিজেপির প্রতিক্রিয়া, পদপিষ্টের ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর কুম্ভমেলার পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীলভাবে সামাল দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বেঙ্গালুরুর ঘটনায় দেখা গেছে সেলফি তোলা হচ্ছিল! রাজ্য প্রশাসনের তরফে যে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি এবং তারা যে পুরোপুরি ব্যর্থ, সেটাই পরিষ্কার হয়ে গেছে। বিজেপির কটাক্ষ, রাজ্যের কংগ্রেস সরকারের কোনও দূরদর্শিতাই নেই। অনায়াসে এই ঘটনা এড়ানো যেত।
ইতিমধ্যে নিরাপত্তার গলদের কথা স্বীকার করে নিয়েছেন কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া। উপমুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমার নিজে জানিয়েছেন, নিরাপত্তার জন্য মাত্র ৫ হাজার পুলিশকর্মীর ব্যবস্থা করা হয়েছিল। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, স্টেডিয়ামের বাইরে আগে থেকেই কাতারে কাতারে সমর্থকের ভিড় ছিল। বিরাট বাহিনী পৌঁছতেই সেই ভিড়ের বাঁধন ভেঙে যায়। স্বল্প পরিসর গেট দিয়ে ভেতরে ঢোকার জন্য ধাক্কা দিতে শুরু করেন জনতা। অথচ শুরুর দিকে ভিড় সামলানোর পরিবর্তে পুলিশ নীরব দর্শক হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমনকী পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাওয়ার পর পুলিশ মৃদু লাঠিচার্জ করে বলেও অভিযোগ।