
শেষ আপডেট: 7 September 2024 11:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাম জন্মভূমি অথার্ৎ অযোধ্যয়া লোকসভা ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকে সেখানে ছত্রভঙ্গ গেরুয়া শিবির। ফৈজাবাদ লোকসভা, অযোধ্যা যে সংসদীয় এলাকার অন্তর্গত সেখান হেরে গিয়েছে বিজেপি। তারপর থেকেই শুরু হয়েছে, কাদা ছোড়াছুড়ি। শুক্রবার রাতে তা চরম আকার নেয়, পরাজিত বিজেপি প্রার্থী তথা ফৈজাবাদের তিনবারের সাবেক সাংসদ লাল্লু সিং দলের একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবাদিক বৈঠক থেকে রেগেমেগে বেরিয়ে যান।
তাঁর অভিযোগ, রাম জন্মভূমিকে বিজেপিকে মাফিয়ারা গ্রাস করেছে। তারাই সমাজবাদী পার্টিকে লোকসভা ভোটে জিতিয়ে দিয়েছে। মাফিয়ারাদের সঙ্গে এক মঞ্চে আমি বসতে পারি না। সাংবাদিক বৈঠকটি ডাকা হয়েছিল দলের সদস্য পদ বাড়ানোর লক্ষ্যে। শনিবার মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সেখানে সদস্য বাড়াও অভিযানের সূচনা করার কথা।
যে নেতাকে মাফিয়া বলে গাল পেরেছেন লাল্লু সিং তিনি শিবেন্দ্র সিং দলের জেলা সভাপতি। তাঁর পাল্টা অভিযোগ, লাল্লু সিংহের জন্যই ফৈজাবাদ তথা অযোধ্যা আসনে বিজেপি মুখ পুড়েছে। ভোটের প্রচারে লাল্লু সিং বারে বারে সংবিধান বদলের কথা বলে মানুষকে ভয় দেখিয়েছেন। সংবিধান বদলের ফলে সংরক্ষণ হাতছাড়া হয়ে যাবে বলে মানুষ ভয় পেয়ে বিজেপিকে হারিয়ে দিয়েছে।
বিবাদ দুই নেতার বাকবিতণ্ডার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। দুই শিবির কাদা ছোড়াছুড়িতে মেতেছে। ভোটের পরই বিজেপির একাংশ লাল্লু সিংকে দল থেকে বসিয়ে দেওয়ার দাবি তুলেছিল। তাদের অভিযোগ, শুধু ফৈজাবাদ নয়, রাজ্যের অন্যত্র হারের জন্যও লাল্লু সিংহের বক্তব্য বড় ভূমিকা নিয়েছিল। গোটা রাজ্যে বিরোধীরা তাঁর কথার সূত্র ধরে প্রচার করে বিজেপি চারশো আসনে জিতে এলে সংবিধান বদলে সংরক্ষণ বাতিল করে দেবে। লালু সিং বলেছিলেন, সংবিধান বদলের উদ্দেশ্যেই বিজেপি চারশো আসনে জয়ের টার্গেট নিয়েছে।
অযোধ্যায় হারের জন্য সেখানকার সাধু সমাজ অবশ্য খুশি। যেমন রামমন্দিরের প্রধান পুরোহিত আচার্য সত্যেন্দ্র দাস বলেছেন, বিজেপির বড় অহংকার হয়েছিল। তাই মানুষ শিক্ষা দিয়েছে। আচার্যের কথায়, বিজেপি নেতারা ভেবেছিলেন রাম মন্দির তৈরি হয়ে গেছে। মানুষ এবার বিজেপি ছাড়া কোন দলকে ভোট দেবে না। কিন্তু ভোট হয়েছে রুটিরুজি, সংবিধান বাঁচানোর ইস্যুতে। অ়যোধ্যায় রাস্তা চওড়া করতে গিয়ে নির্বিচারে দোকান-বাড়ি-উপাসনালয় ভেঙে ফেলারও বিরোধিতা করেন রাম মন্দিরের প্রধান পুরোহিত।