২০২৪-এ বেগুসরাইয়ে বিজেপি নেতা গিরিরাজ সিংয়ের জয়ের ব্যবধান ছিল ৮১,৪৮০ ভোট। অথচ এসআইআর-এর পর ভোটার তালিকা থেকে বাদ গিয়েছেন ১,২৩,১৭৮ জন। মোট ভোটার সংখ্যা নেমে এসেছে ২২ লক্ষ থেকে প্রায় ২০.৭৭ লক্ষে।

গ্রাফিক্স দিব্যেন্দু দাস
শেষ আপডেট: 10 August 2025 18:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিহারের নতুন খসড়া ভোটার তালিকা ঘিরে তীব্র বিতর্ক। নির্বাচন কমিশনের ‘স্পেশ্যাল ইন্টেনসিভ রিভিশন’ (SIR) প্রক্রিয়ায় ভোটার নাম কাটার পর প্রকাশিত নয়া খসড়া তালিকা বিশ্লেষণ করলে দেখা যাচ্ছে— রাজ্যের ৪০টি লোকসভা আসনের মধ্যে ২৪টিতেই বাদ পড়া ভোটারের সংখ্যা ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটের জয়ের ব্যবধানের চেয়ে বেশি। অর্থাৎ, এই বাদ পড়া ভোটাররা থাকলে ফলাফল অন্য রকম হতে পারত অর্ধেকেরও বেশি আসনে।
বেগুসরাইয়ের ছবি
২০২৪-এ বেগুসরাইয়ে বিজেপি নেতা গিরিরাজ সিংয়ের জয়ের ব্যবধান ছিল ৮১,৪৮০ ভোট। অথচ এসআইআর-এর পর ভোটার তালিকা থেকে বাদ গিয়েছেন ১,২৩,১৭৮ জন। মোট ভোটার সংখ্যা নেমে এসেছে ২২ লক্ষ থেকে প্রায় ২০.৭৭ লক্ষে।
শেওহরে চমক
জেডিইউ প্রার্থী জিতেছিলেন মাত্র ২৯,১৪৩ ভোটে। অথচ তালিকা থেকে বাদ গিয়েছেন ১,০৯,৭২৩ জন ভোটার। আরও বড় প্রশ্ন ২০১৯ লোকসভা থেকে ২০২০ বিধানসভা ভোটের মধ্যে শেওহরে যোগ হয়েছিল প্রায় ৭০ হাজার নতুন ভোটার। একই ছবি পূর্বী চম্পারণ, আরারিয়া ও সীতামঢ়িতেও।
কারা বাদ পড়লেন?
নির্বাচনী বিশেষজ্ঞদের মতে বাদ পড়া ভোটারদের মধ্যে থাকতে পারেন
১. মৃত, ঠিকানা বদলানো বা অন্যত্র নাম থাকা ‘নিষ্ক্রিয়’ ভোটার
২. ভুয়ো ভোটার, যাঁরা ফলাফল প্রভাবিত করেছিলেন
৩. একেবারে প্রকৃত ভোটার, যাদের ভুলভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে
৪. অথবা এই তিনের মিশ্রণ
এডিআর চাইছে বুথভিত্তিক তালিকা ও ফর্ম ১৭এ মিলিয়ে দেখা হোক, বাদ পড়া মানুষরা আগে ভোট দিয়েছিলেন কিনা। প্রতিষ্ঠাতা জগদীপ ছোকারের দাবি, কমিশনের দায়িত্ব, স্পষ্ট করা কারা বাদ পড়েছেন এবং কেন। তবে প্রাক্তন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ওপি রাওয়াতের মতে, শুধু নাম কাটা মানেই অনিয়ম নয়, খসড়া তালিকায় এখনও সংশোধনের সুযোগ আছে।
কমিশন বলছে, শুধু মৃত, ঠিকানা বদলানো, অনুপস্থিত বা একাধিক জায়গায় নাম থাকা ব্যক্তিদেরই বাদ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আসনভিত্তিক বিভাজন বা নথির ঘাটতির কারণে সঠিক সংখ্যা জানায়নি। আর আইনি বাধ্যবাধকতা না থাকায় বাদ পড়া ভোটারের তালিকাও প্রকাশ করবে না।