রাজপুরে গতবারের পরাজিত প্রার্থীর নামই ঘোষণা করেছেন নীতীশ (Nitish Kumar)। তা নিয়ে বিজেপির তেমন আপত্তি নেই। কিন্তু প্রকাশ্য মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রীর বাড়তি আসন দাবিকে মোটেই ভালভাবে নিচ্ছে না বিজেপি।
.jpg.webp)
ফাইল চিত্র
শেষ আপডেট: 8 September 2025 13:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নভেম্বরের গোড়ায় বিহারে বিধানসভার ভোট। আগামী মঙ্গলবার উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচন পর্ব মেটার পর পাটনা অথবা দিল্লিতে বসবে বিহারের এনডিএ (NDA) শরিকদের আসন ভাগাভাগি নিয়ে বৈঠক।
একই মধ্যে মুখ্যমন্ত্রী তথা জেডিইউ সুপ্রিমো নীতীশ কুমার (Nitish Kumar) দাবি তুলেছেন, আগামী নির্বাচনে জেডিইউ আরও বেশি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। রবিবার রাজপুর আসনে একতরফা জেডিইউ-র একজন প্রার্থীর নামও ঘোষণা করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
রাজপুরে গতবারের পরাজিত প্রার্থীর নামই ঘোষণা করেছেন নীতীশ (Nitish Kumar)। তা নিয়ে বিজেপির তেমন আপত্তি নেই। কিন্তু প্রকাশ্য মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রীর বাড়তি আসন দাবিকে মোটেই ভালভাবে নিচ্ছে না বিজেপি। বিহার বিজেপির শীর্ষ নেতা তথা উপমুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী প্রকাশ্যেই মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেছেন। বলেছেন, আসন নিয়ে কয়েক দফা আলোচনা হয়েছে। কিন্তু চূড়ান্ত কথা হয়নি। এখনই প্রকাশ্যে মুখ খোলার সময় আসেনি।
বিহারে এনডিএ-র বাকি জোট শরিকেরা অনেক আগে থেকেই বাড়তি আসন চেয়ে দরবার শুরু করেছে। চিরাগ পাশোয়ানের লোক জনশক্তি (রামবিলাস), জীতনরাম মাঝির ভারতীয় আওয়াম মোর্চা এবং মুকেশ সাহানির বিকাশশীল ইনশান পার্টি গতবারের থেকে বেশি আসন দাবি করে রেখেছে।
এই পরিস্থিতিতে বিজেপির পরিকল্পনা ছিল জেডিইউ-র ভাগ থেকে আসন কমিয়ে বারি শরিকদের সন্তুষ্ট করবে। কিন্তু নীতীশ রবিবার পদ্ম শিবিরের ভাবনায় জল ঢেলে দিয়েছেন। প্রকাশ্য সভায় বলেছেন, এবার আরও বেশি আসনে লড়াই করবে আমার দল।
২০২০-ক বিধানসভা ভোটে জেডিইউ ১১৫ আসনে লড়াই করে মাত্র ৪৩টিতে জয়ী হয়েছিল। অন্যদিকে, ১১০টিকে লড়াই করে বিজেপি জেতে ৭৪টি আসন। তখন থেকেই আলোচনা নীতীশের দলের আসন কমানোর গুঞ্জন শুরু হয়।
ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে, নীতীশ আশঙ্কা করছেন তাঁর দলের ফল গতবারের থেকেও খারাপ হতে পারে। তাই বাড়তি আসনে লড়াই করে ৪৩-এর বেশি আসনে জয়ের রাস্তা তৈরির চেষ্টা করছেন। জেডিইউ নেতারা মনে করছেন, নীতীশকে মুখ্যমন্ত্রী প্রার্থী করে এনডিএ ভোটে লড়াই করলেও জেডিইউ-র আসন কমে গেলে বিজেপি সুর বদলে ফেলতে পারে। অন্য শরিকদের দিয়ে দাবি তোলাতে পারে, নীতীশ যাতে মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছেড়ে দেন। নীতীশের দলের চেয়ে দ্বিগুণের কাছাকাছি আসন পেয়েও বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর পদ এতকাল দাবি করেনি।
যদিও বিহারের আসন্ন বিধানসভা ভোটে বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট ক্ষমতায় আসবে কি না তা নিয়েই সংশয় আছে। প্রতিষ্ঠান বিরোধিতার হাওয়া তো আছেই, তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে রাহুল গান্ধী অধিকার যাত্রাকে কেন্দ্র করে বিরোধীদের তৎপরতা। তাতে বাড়তি মাত্রা যোগ করেছে রাহুল-তেজস্বী বোঝাপড়া।