করোনাকালীন সময় (২০২০ সালে) দুর্ঘটনার হার কিছুটা কমেছিল। কিন্তু তারপর থেকে সংখ্যাটি আবার ঊর্ধ্বমুখী। পশ্চিমবঙ্গ গত বছরে দুর্ঘটনার সংখ্যায় ১১তম এবং মৃত্যুর হিসেবে ১২তম স্থানে ছিল।

ছবি- এআই
শেষ আপডেট: 8 September 2025 08:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশে পথ দুর্ঘটনা ভয়াবহ আকার নিচ্ছে। কেন্দ্রীয় সরকারের সাম্প্রতিক রিপোর্ট (Government Report) বলছে, ভারতে গড়ে প্রতি তিন মিনিটে একজনের মৃত্যু হচ্ছে সড়ক দুর্ঘটনায় (Deaths in road accident)। শুধু তাই নয়, আহতের সংখ্যাও লাফিয়ে বাড়ছে। ২০২৩ সালে দেশের পথ দুর্ঘটনার (Road Accidents) চিত্র উদ্বেগজনক। ওই বছরে দেশে মোট ৪ লক্ষ ৮০ হাজারেরও বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে। যার ফলে মৃত্যু হয়েছে প্রায় ১ লক্ষ ৭৩ হাজার মানুষের। গড়ে প্রতি ৩ মিনিটে একজন দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন।
সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে তামিলনাড়ুতে (৬৭,২১৩টি), এবং সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে উত্তরপ্রদেশে (২৩,৬৫২ জন)। মধ্যপ্রদেশ, কেরল, কর্নাটকও তালিকায় ওপরের দিকেই রয়েছে।
রাস্তার খারাপ পরিস্থিতি এবং খানাখন্দের (গর্ত) কারণেও বহু প্রাণহানি ঘটেছে। বিশেষ করে উত্তরপ্রদেশ ও মধ্যপ্রদেশে যথাক্রমে ১ হাজার ৩২০ ও ১৭৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গেও (West Bengal Accident Death) এই কারণে ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হল, মোট মৃত্যুর প্রায় ৪৫ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে মোটরবাইক ও স্কুটারে। শুধুমাত্র হেলমেট না পরার কারণেই মৃত্যু হয়েছে ৫৪ হাজারের বেশি মানুষের। গাড়িতে সিট বেল্ট না পরায় প্রাণ গেছে আরও ১৬ হাজার মানুষের।
করোনাকালীন সময় (২০২০ সালে) দুর্ঘটনার হার কিছুটা কমেছিল। কিন্তু তারপর থেকে সংখ্যাটি আবার ঊর্ধ্বমুখী। পশ্চিমবঙ্গ গত বছরে দুর্ঘটনার সংখ্যায় ১১তম এবং মৃত্যুর হিসেবে ১২তম স্থানে ছিল। সরকারি প্রচেষ্টা ও পরিকাঠামো উন্নয়ন সত্ত্বেও, এই ভয়াবহ পরিসংখ্যান দেশের সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো, হেলমেট ও সিটবেল্ট ব্যবহার না করা, ট্রাফিক আইন (Traffic Rules) অমান্য করা এবং মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো, এগুলোই দুর্ঘটনার প্রধান কারণ। সরকার জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন জায়গায় স্পিড ক্যামেরা বসানো হচ্ছে, হেলমেট ও সিটবেল্ট বাধ্যতামূলকভাবে মানার জন্য নিয়ম আরও কড়া করা হচ্ছে। সচেতনতা বাড়াতে দেশজুড়ে বিশেষ প্রচারও শুরু হয়েছে। তবে শুধু আইন করলেই চলবে না, মানুষের মানসিকতারও পরিবর্তন প্রয়োজন। সচেতন না হলে দুর্ঘটনা কমানো সম্ভব নয়।