আরতি জানান, 'বিয়ের পর থেকেই শাহবাজ আমাকে ধর্মান্তরের জন্য চাপ দিত। গরুর মাংস খেতে জোর করত। আমি যখন রাজি হইনি, তখন সে আমার মোবাইল থেকে হিন্দু দেবদেবীর ছবি ডিলিট করে দেয় এবং আমাকে মারধর করে।'

স্বামীর থেকে মুক্তি চেয়ে থানায় ইন্দোরের তরুণী
শেষ আপডেট: 7 July 2025 12:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফেসবুকে আলাপ থেকে প্রেম, পরে বিহারে গিয়ে বিয়ে। কিন্তু সেই সম্পর্কের শেষ পরিণতি অত্যন্ত তিক্ত। ইন্দোরের তরুণীর অভিযোগ, তাঁর স্বামী বিয়ের পর জোর করে তাঁকে গরুর মাংস খাওয়াতে চেয়েছিল (Forced to eat beef)। হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে ধর্মান্তরের (Forced to convert religion) চাপ দিত। তিনি রাজি না হওয়ায় তাঁকে মারধরও করা হত। স্বামীর বিরুদ্ধে থানায় না গিয়ে, তিনি শুধু তাঁর নিজের শহর ইন্দোরে ফিরে যাওয়ার আবেদন জানিয়েছেন।
অভিযোগকারী আরতি কুমারীর দাবি, পাঁচ বছর আগে বিহারের (Bihar) বেগুসরাইয়ের বাসিন্দা মহম্মদ শেহবাজের সঙ্গে ফেসবুকে আলাপ হয়েছিল তাঁর। কথা বাড়লে প্রথমে বন্ধুত্ব তারপর প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। এমনকি শেহবাজকে বিয়ে করতে নিজের বাড়ি ছেড়ে বেগুসরাইতে গিয়ে বিয়ে করেন শাহবাজকে।
আরতি জানান, 'বিয়ের পর থেকেই শাহবাজ আমাকে ধর্মান্তরের জন্য চাপ দিত। গরুর মাংস খেতে জোর করত। আমি যখন রাজি হইনি, তখন সে আমার মোবাইল থেকে হিন্দু দেবদেবীর ছবি ডিলিট করে দেয় এবং আমাকে মারধর করে।'
তিনি আরও বলেন, 'ফেসবুকে কথা বলার সময় শেহবাজ নিজেকে স্বর্ণ ও রূপার ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দিয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে সে একটি দোকানে মালা বানানোর কাজ করে। প্রথমে আমার সঙ্গে খুব ভাল ব্যবহার করত। কিন্তু বিয়ের পর ধীরে ধীরে ওর ব্যবহার বদলে যেতে থাকে। সে আমাকে বুঝিয়ে দেয়, আমার সঙ্গে আর থাকতে চায় না।'
তরুণী জানিয়েছেন, বিয়ের পর থেকেই তাঁর পরিবারের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ নেই। তাঁর কথায়, 'আমার পরিবার আমাকে মৃত বলেই ধরে নিয়েছে। কিন্তু এখন আমি ওখানে (ইন্দোর) ফিরতে চাই, নতুন করে জীবন শুরু করতে চাই।'
এই পরিস্থিতিতে তিনি সরাসরি বেগুসরাইয়ের পুলিশ সুপারের দফতরে গিয়ে দেখা করেছেন। তাঁকে থানায় পাঠানো হলে তিনি লিখিতভাবে জানান, এফআইআর দায়ের করতে চান না, শুধু ইন্দোরে ফিরে যেতে চান। তাঁর শারীরিক পরীক্ষাও করানো হয়েছে। আপাতত তাঁকে স্থানীয় এক মহিলা আশ্রয়কেন্দ্রে রাখা হয়েছে, পুলিশ জানিয়েছে তাঁকে বাড়ি ফেরানোর প্রক্রিয়া চলছে।
অন্যদিকে, অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শাহবাজ। তাঁর পাল্টা অভিযোগ, আরতি আগেও একবার বিবাহিত ছিলেন এবং তাঁর তিনটি সন্তান আছে। তিনি দাবি করেন, 'আরতি একবার অপারেশন করিয়েছে, তার ফলে সে আর সন্তান ধারণ করতে পারবে না। তাছাড়া তার অন্য পুরুষদের সঙ্গেও সম্পর্ক রয়েছে। গত পাঁচ বছরে সে তিনবার বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছে।'
শাহবাজ বলেন, 'যে মহিলা পড়তেই জানে না, তাকে কি আমি কোরান পড়তে বলব বা গরুর মাংস খাওয়াতে বাধ্য করব?' তাঁর দাবি, এই সমস্ত অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং তিনি জেলা প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করেছেন যাতে তাঁকে আরতির থেকে মুক্তি দেওয়া হয়।
বেগুসরাই সদর ডিএসপি সুবোধ কুমার জানিয়েছেন, 'আরতি আমাদের কাছে এসেছিলেন। তিনি কোনও এফআইআর করেননি, কেবলমাত্র লিখিত আবেদন করেছেন ইন্দোরে ফেরার জন্য। তাঁকে আপাতত মহিলাদের সেফ হোমে রাখা হয়েছে, তাঁর বাড়ি ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।'