সরকারের সাফ কথা, অনেক ক্ষেত্রেই অভিযোগ উঠত, সরকারি হাসপাতালে কর্মরত অনেক চিকিৎসক তাঁদের ডিউটি আওয়ারের বাইরে প্রাইভেট চেম্বার বা ক্লিনিকে বেশি মনোযোগী থাকেন। এই প্রবণতা রুখতে এবং চিকিৎসকদের থেকে পূর্ণাঙ্গ পরিষেবা সুনিশ্চিত করতেই এই বড় ঘোষণা।

নীতীশ কুমার
শেষ আপডেট: 12 April 2026 09:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সরকারি হাসপাতালের ডিউটি সেরে আর প্রাইভেট চেম্বারে বসতে পারবেন না চিকিৎসকরা (Bihar ban private practice govt doctors)। জনস্বাস্থ্য পরিষেবার মান উন্নত করার উদ্দেশ্যে এক ঐতিহাসিক ও কড়া পদক্ষেপ নিল বিহারের নীতীশ কুমারের সরকার (Nitish Kumar healthcare policy)।
শনিবার রাজ্য সরকারের তরফে বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, সরকারি হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসকদের প্রাইভেট প্র্যাকটিস পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হল। বিহার সরকারের এই সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য হল রাজ্যের সাধারণ মানুষকে নিরবচ্ছিন্ন সরকারি পরিষেবা দেওয়া।
সরকারের সাফ কথা, অনেক ক্ষেত্রেই অভিযোগ উঠত, সরকারি হাসপাতালে কর্মরত অনেক চিকিৎসক তাঁদের ডিউটি আওয়ারের বাইরে প্রাইভেট চেম্বার বা ক্লিনিকে বেশি মনোযোগী থাকেন। এই প্রবণতা রুখতে এবং চিকিৎসকদের থেকে পূর্ণাঙ্গ পরিষেবা সুনিশ্চিত করতেই এই বড় ঘোষণা।
‘সাত নিশ্চয়’ প্রকল্পে বড় চাল (Saat Nischay-3 Bihar)
রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২০২৫-৩০ সময়কালের জন্য গৃহীত নীতীশ কুমারের ফ্ল্যাগশিপ কর্মসূচি ‘সাত নিশ্চয়-৩’-এর আওতায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ‘সুলভ স্বাস্থ্য, নিরাপদ জীবন’ - এই লক্ষ্য পূরণেই সরকারি চিকিৎসকদের জন্য ব্যক্তিগত প্র্যাকটিস নিষিদ্ধ করা হচ্ছে। সরকারি নির্দেশিকায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, সরকারি বেতনভুক কোনও চিকিৎসক তাঁর অফিশিয়াল ডিউটির পাশাপাশি অন্য কোনও ভাবে ব্যক্তিগত চিকিৎসা পরিষেবায় যুক্ত থাকতে পারবেন না।
পাবেন বিশেষ ভাতা (NPA)
স্বভাবতই প্রশ্ন উঠছে, প্রাইভেট প্র্যাকটিস বন্ধ হলে ডাক্তারদের আর্থিক লোকসান হবে কি না। স্বাস্থ্য দফতর জানিয়েছে, সরকারি চিকিৎসকদের ক্ষতিপূরণ হিসেবে বিশেষ 'নন-প্র্যাকটিসিং অ্যালাউন্স' (NPA) দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এই ভাতা সংক্রান্ত বিস্তারিত গাইডলাইন খুব দ্রুত প্রকাশ করা হবে (NPA for Bihar doctors)। তবে এই ভাতা কার্যকর করার আগে সক্ষম কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত অনুমোদন প্রয়োজন।
রাজ্যের সমস্ত সরকারি হাসপাতাল এবং সরকারি মেডিক্যাল কলেজের ফ্যাকাল্টি মেম্বারদের ক্ষেত্রেও এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে বলেও জানানো হয়েছে নীতীশ কুমারের সরকারের তরফে।
আগেই এমন আভাস দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী
এই সিদ্ধান্ত হুট করে নেওয়া নয়। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসেই পশ্চিম চম্পারণ জেলায় নিজের ‘সমৃদ্ধি যাত্রা’ চলাকালীন মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার এই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, বিহারের স্বাস্থ্য পরিকাঠামোকে ঢেলে সাজাতে এবং ডাক্তারদের সরকারি হাসপাতালের প্রতি আরও দায়বদ্ধ করতে খুব শীঘ্রই বড় কোনও নীতি নিয়ে আসা হবে।
শনিবারের এই ঘোষণার মাধ্যমে নীতীশ সরকার বুঝিয়ে দিল, রাজ্যের জনস্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়ে তারা কোনওরকম আপস করতে রাজি নয়। তবে সরকারি ডাক্তারদের একাংশ এই সিদ্ধান্তে কতটা খুশি হবেন এবং এনপিএ (NPA) নিয়ে তাঁদের প্রতিক্রিয়া কী হয়, এখন সেটাই দেখার। আপাতত, বিহারের এই পদক্ষেপ ভারতের অন্যান্য রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিকাঠামোতেও আলোচনার পথ খুলে দিল।