প্রশ্ন হল, এই ভোটারদের নাম কি বাদ দেওয়া হবে? কমিশন এই ব্যাপারে এখনও অবস্থান স্পষ্ট করেনি। কমিশনের তরফে আলাদা করে জানানো হয়েছে, ১৮ লাখ ২৩ হাজার বা মোট ভোটারের ২.৩ শতাংশ পাকাপাকিভাবে ঠিকানা বদল করে অন্যত্র নাম তুলেছেন।

ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 19 July 2025 10:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিহারে এখনও পর্যন্ত প্রায় ৩৭ লাখ ভোটারকে তাদের ঠিকানায় (in Bihar, 37 lakhs voters not found in their address) খুঁজে পাওয়া যায়নি। ওই রাজ্যে এখন মোট ভোটার সাত কোটি ৮৯ লাখ ৬৯ হাজার। তাদের মধ্যে ৯০ শতাংশ এখনও পর্যন্ত পরিচয় যাচাইয়ের দরখাস্ত জমা করেছেন। সেগুলি নিয়ে বাড়ি যাচ্ছেন নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকেরা (ECI official including booth level officers) । এখনও পর্যন্ত ৩৬ লাখ ৮৯ হাজার ভোটারকে তাদের ঠিকানায় পাওয়া যায়নি বলে নির্বাচন কমিশন প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়েছে।
প্রশ্ন হল, এই ভোটারদের নাম কি বাদ দেওয়া হবে? কমিশন এই ব্যাপারে এখনও অবস্থান স্পষ্ট করেনি। কমিশনের তরফে আলাদা করে জানানো হয়েছে, ১৮ লাখ ২৩ হাজার বা মোট ভোটারের ২.৩ শতাংশ পাকাপাকিভাবে ঠিকানা বদল করে অন্যত্র নাম তুলেছেন।
আশ্চর্যের হল ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সমীক্ষায় নাগরিরত্ব যাচাই করে অনুপ্রবেশকারী চিহ্নিত করার যে কথা কমিশন জানিয়েছিল তাদের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সেই প্রসঙ্গের উল্লেখ নেই। যদিও মৌখিকভাবে কমিশন কর্তারা দিন কয়েক আগে দাবি করেন, বিহারের ভোটার তালিকায় বাংলাদেশি, নেপালি, আফগানিস্তানি এবং রোহিঙ্গা জনজাতির নাম পাওয়া গিয়েছে। তারা সংখ্যায় ৩৯ লাখ বলেও কমিশন সূত্রে সংবাদমাধ্যমকে জানানো হয়। কিন্তু লিখিত বিবৃতিতে তার কোনও উল্লেখ নেই।
মনে করা হচ্ছে, সুপ্রিম কোর্টের সতর্কতার কারণেই কমিশন এই ব্যাপারে আর রা কাড়ছে না। তারা অপেক্ষা করছে ২৮ জুলাই শীর্ষ আদালত কী বলে। তালিকায় নাম থাকা ভোটারের নাগরিকত্ব যাচাই কমিশনের কাজ কি না ওই দিন চূড়ান্ত রায়ে জানাবে সুপ্রিম কোর্ট
যে ৩৭ লাখ ভোটারকে তাদের ঠিকানায় পাওয়া যায়নি, বিহারের বিরোধী দলগুলি মনে করছে তাদের বেশিরভাগই পরিযায়ী শ্রমিক। ভিন রাজ্যে অথবা বিহারেরই অন্য কোথাও কাজের সূত্রে গিয়েছেন। কমিশন ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ চলার মাঝে অগ্রগতি নিয়ে বিবৃতি দিলেও ওই ৩৭ লাখ ভোটারের বিষয়ে কিছু জানায়নি। আশ্চর্যের হল, বিজেপি গোড়ায় কমিশনের বিশেষ নিবিড় সংশোধন কার্যক্রমকে সমর্থন করলেনও এখন ব্যাক গিয়ার দিয়েছে। বিজেপি নেতারাও বলছেন, নাগরিকত্বের নথি দেখাতে না পেরে অনেক বৈধ ভারতীয় নাগরিকের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ চলে যেতে পারে।