এর আগে ২০০০ সালের বিধানসভা ভোটে ৫৭.২৯ শতাংশ ভোট পড়েছিল। এবার রাতারাতি তার তুলনায় একেবারে ৭ শতাংশের বেশি ভোট পড়ল।
_0.jpeg.webp)
গ্রাফিক্স-দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 7 November 2025 08:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলায় ৬৪ বা ৬৫ শতাংশ ভোট পড়াকে কম বলেই মনে করা হয়। কিন্তু যে রাজ্যে সচরাচর ষাটের গণ্ডি পেরোয় না, সেখানে প্রথম দফার ভোট গ্রহণে ৬৪.৬৬ শতাংশ ভোট পড়া কি মুখের কথা? বৃহস্পতিবার বিহার বিধানসভা ভোটের (Bihar Assembly Election 2025) প্রথম দফায় তাই নয়া রেকর্ড স্থাপন হল পাটলিপুত্রে। নির্বাচন কমিশনের প্রাথমিক হিসেব অনুযায়ী, এই সংখ্যা বিহারের ভোটদানের নয়া মাইলফলক। তবে এই ‘সাফল্যের’ পিছু পিছু এরই মধ্যে প্রশ্নও ধাওয়া করেছে। তা হল, এত বিপুল হারে ভোট দান কীসের ইঙ্গিত?
সাধারণত রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের বেশিরভাগ মনে করেন, ভোট দানের হার বাড়ার মানে প্রতিষ্ঠান বিরোধিতার পরিবেশ রয়েছে। ভোট দানের হার আগের তুলনায় অনেকটাই বেড়ে গেলে তাকে প্রতিষ্ঠান বিরোধী ঝড় বলেই মনে করা হয়। সেই সূত্র মানলে, বিহারে বৃহস্পতিবারের ভোটের ছবি শাসক এনডিএ তথা মোদী-অমিত শাহ-নীতীশ কুমারদের উদ্বেগে ফেলে দেওয়ার কথা।
এর আগে ২০০০ সালের বিধানসভা ভোটে ৫৭.২৯ শতাংশ ভোট পড়েছিল। এবার রাতারাতি তার তুলনায় একেবারে ৭ শতাংশের বেশি ভোট পড়ল। সেবার প্রথম দফায় ভোট পড়েছিল ৫৬.২ শতাংশ। এবার সেই হিসাবে দেখলে প্রথম দফায় ভোট পড়ার হার বেড়েছে ৮.৪৬ শতাংশ। আরও একটি বিষয় এখানে নজর করার মতো। ২০২০ সালে বিহারে মোট ভোটার ছিল ৭ কোটি ৩৪ লক্ষের কিছু বেশি। এবার এসআইআর-এর পর বহু ভোটারের নাম যেমন বাদ গেছে, তেমন নতুন নামও জুড়ে। এবার ভোটার সংখ্যা গতবারের তুলনায় ৮ লক্ষেরও বেশি।
ভোট শতাংশের এই হার দেখে উজ্জীবিত বিরোধীদের অনেকেই তাই অভিযোগ করছেন, এমন আশঙ্কা করেই কি এসআইআর করা হয়েছিল? কারণ, এসআইআর করে ৪৭ লক্ষ ভোটারের নাম নাম মুছে ফেলা হয়েছে। তা যদি না হত, তাহলে মোট ভোটারের সংখ্যা দাঁড়াত ৮ কোটিরও বেশি। প্রতিষ্ঠান বিরোধী হাওয়ায় উড়ে যেত এনডিএ।
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার অবশ্য ভোটারদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন এই ব্যাপক অংশগ্রহণের জন্য। তিনি বলেন, “বিহারের মানুষ ভোটদানে যে উৎসাহ দেখিয়েছেন, তা আমাদের গণতন্ত্রের প্রতি তাদের গভীর আস্থার পরিচায়ক।”
এখানে জানিয়ে রাখা দরকার, এমনিতে বেশি ভোট পড়া মানেই অ্যান্টি ইনকামবেন্সি ওয়েভ বা সরকারবিরোধী মনোভাব। বিরোধী দলগুলিও সেই সম্ভাবনায় আশাবাদী। তবে ইতিহাস এও বলছে, সব সময় বেশি ভোট মানেই সরকারবিরোধী নয়। উদাহরণস্বরূপ—ছত্তিশগড় ও মধ্যপ্রদেশে ভোটদানের হার বেড়েছিল, তবু বিজেপিই জিতেছিল।
তুলনামূলক চিত্র
২০২০ সালের প্রথম দফায় ভোট পড়েছিল ৫৬.২ শতাংশ। এবার সেই হার বেড়েছে ৮.৪৬ শতাংশ।
বৃহস্পতিবার দিনভর ভোটদানের গ্রাফও চমকপ্রদ—
সকাল ৯টায়: ১৩.১৩% (২০২০-তে ৭.১%)
দুপুর ১টায়: ৪২.৩% (২০২০-তে ৩৩.১%)
বিকেল ৫টায়: ৬০.১% (২০২০-তে ৫১.৮%)
প্রথম দফায় ভোট: ১২১ আসনে
প্রথম দফায় ভোট হয় ১২১টি আসনে।
দ্বিতীয় দফার ভোট হবে ১১ নভেম্বর, আর ফলাফল ঘোষণা ১৪ নভেম্বর।
বৃহস্পতিবার ভোট হয়েছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে—
রাঘোপুর: তেজস্বী যাদবের গড়, যেখানে তাঁর বাবা লালু প্রসাদ যাদব ও মা রাবড়ি দেবী বহুবার জয়ী হয়েছেন।
তারাপুর: বিজেপি রাজ্য সভাপতি তথা উপমুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরীর আসন।
আলিনগর: জনপ্রিয় গায়িকা মৈথিলি ঠাকুর লড়ছেন বিজেপির প্রার্থী হিসেবে।
মোখামা: জেডিইউ প্রার্থী অনন্ত সিংয়ের গ্রেপ্তারির ঘটনায় রঙ চড়েছে রাজনীতিতে।
অতীত ফলাফল
২০২০ সালের ভোটে আরজেডি পেয়েছিল ৭৫টি আসন, বিজেপি ৭৪টি, জেডিইউ ৪৩টি, কংগ্রেস ২৮টি। এবারের ভোটে সেই সমীকরণ কীভাবে পাল্টায়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
বিহারবাসীর রেকর্ড অংশগ্রহণে এখন চোখ ভোটগণনার দিকে— কে জিতবে ২০২৫-এর আসল লড়াই?